সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা । সপ্তাহ – ২

এই সপ্তাহেও আপনার শরীরে গর্ভসঞ্চার হয়নি। তবে এই সপ্তাহেই আপনার ডিম্বাণু উৎপন্ন হবে যা আপনার সঙ্গীর শুক্রাণুর সাথে মিলিত হবে এবং প্রানের সঞ্চার করবে। এই ডিম্বানু নিষিক্ত হয়ে জরায়ুর দেয়ালে গেড়ে বসবে। সেখানে ধীরে ধীরে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে আস্ত-মানব সন্তানের আদল পাবে।

আপনি হয়তো কিছুই টের পাচ্ছেন না, কিন্তু গর্ভস্থ ভ্রূণকোষটি ইতিমধ্যেই ছেলে হবে না মেয়ে হবে তা ঠিক হয়ে গেছে। শুক্রানু Y ক্রমোসোম ধারন করলে আপনার সন্তান হবে ছেলে আর X ক্রমোসোম হলে হবে মেয়ে।  ভ্রুণের জন্য এই দ্বিতীয় সপ্তাহটা বেশ গুরুত্বপূর্ন।এ পর্যায়ে এটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে পরে, ভিতরে থাকে ভ্রুন এবং বাইরে একটি আবরন যার নাম ইয়ক স্যাক (yolk sac), মাঝখানের ফাঁকা জায়গাটিকে বলা হয় এমনিয়টিক গহ্বর। গর্ভফুল (placenta) পুরোপুরি গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ক স্যাক বাচ্চার শরীরে পুষ্টির যোগান দেয় এবং তাকে সুরক্ষিত রাখে। এ পর্বে গর্ভফুল (placenta) মাত্র তৈরি হওয়া শুরু করেছে, এটি পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে ৮ সপ্তাহ সময় লাগে। গর্ভের ২ সপ্তাহে নাভিরজ্জুও গঠিত হতে শুরু করে এবং একটুআধটু কাজ করে।

এই সপ্তাহে আপনার কিছু বাহ্যিক পরিবর্তন লক্ষ করতে পারেন-

আপনার ভেতর ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা শিশুটিকে সকল রকম সহযোগিতা দিতে আপনার শরীর প্রস্তুত হচ্ছে। এসময় আপনি ক্লান্ত বোধ করতে পারেন, আপনার স্তনদ্বয় কিছুটা স্ফীত হয়ে উঠতে পারে এবং ব্যথা ব্যথা বোধ হতে পারে। আপনি হয়তো খেয়াল করবেন যে আপনার ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসছে। ভ্রূণটি জরায়ুতে প্রতিস্থাপিত হবার পর আপনার শরীর প্রচুর পরিমাণে Beta – hcG হরমোন নিঃসরণ শুরু করবে যার কারণে আপনার শরীরে গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণসমূহ দেখা যাবে। এই হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন এর ক্ষরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে । আপনার গর্ভাবস্থাকে সচল রাখার জন্য এই দুটো হরমোন অপরিহার্য ।

  • কিছু কিছু মায়েরা গন্ধপ্রবন হয়ে উঠতে পারেন যা স্বাভাবিকভাবে তেমন অসুবিধার সৃষ্টি করেনা।
  • Pelvic Region এ ব্যাথা অনুভব করতে পারেন।
  • সঙ্গীর প্রতি বেশী আকৃষ্ট হতে পারেন।
  • শরীর এর তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

এই সপ্তাহে করনীয়

প্রসবপূর্ব সেবার জন্য এখনি আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না, তবে আপনি অন্তঃসত্ত্বা কি না নিশ্চিত হবার জন্য ডাক্তারকে একবার দেখিয়ে নিতে পারেন। সুষম খাবার খাওয়া শুরু করুন, আর এখন থেকেই জেনে নিন আপনাকে কি কি খেতে হবে । আপনার এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম দরকার এবং মানসিক চাপ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা জরুরি। আপনার শিশুটি এখনো জরায়ুতে খুব শক্ত ভাবে আটকায়নি, সুতরাং খুব ভারী কাজ করা যাবে না। অল্প জগিং, সাঁতার কিংবা ইয়োগা’র মতো হাল্কা ব্যায়াম করা যেতে পারে, কিন্তু রিকশা’র ঝাঁকুনি থেকে সাবধান থাকতে হবে !

মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

ফলিক এসিড সমৃদ্ধ প্রি-ন্যাটাল মাল্টিভিটামিন খান।

আপনার কি ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেশির মতো প্রকট কোনো শারীরিক সমস্যা আছে? যদি থাকে এবং সেটা নিয়ন্ত্রণে না রাখা হয় তাহলে আপনার অনাগত শিশুর জন্য সেটা ক্ষতিকর হতে পারে। সুতরাং একটি সুস্থ গর্ভাবস্থার জন্য এখনই প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন।

 

“প্রতিটি জন্মই হোক পরিকল্পিত, নিরাপদ হোক মাতৃত্বের প্রতিটি মুহূর্ত ”

<<গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ১
গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ৩ >>

তথ্যসূত্রঃ
babycenter.com
maya.com.bd/content/web/language/bn/1827/

.

 

Related posts

Leave a Comment