সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভধারন । সপ্তাহ – ১২

গর্ভের শিশুটির আকার এই সপ্তাহে একটি বাওকুল (বড় বড়োই) এর সাথে তুলনা করা যাবে। এ পর্যায়ে শিশুটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার এবং তার জটিল তন্ত্র (system) গুলোও ইতিমধ্যে পুরোপুরি গঠিত হয়ে যাবে। পরবর্তী ৫ মাসে সেগুলোর বিকাশ সাধন হবে ও আকারে বাড়বে। শিশুর হাত ও পায়ের আঙ্গুল এখন ক্রমাগত খুলবে আর বন্ধ হবে এবং সে পা নাড়ানো শুরু করে দেবে। জোড়া লেগে থাকা হাত পায়ের আঙ্গুল এ সপ্তাহ নাগাদ পুরোপুরি আলাদা হয়ে যাবে।

শিশুটির কিডনি ( kidney) থেকে এখন অল্প অল্প মূত্র নিঃসৃত হয়ে, যে বিশেষ তরলের মধ্যে (amniotic fluid) শিশুটি ভেসে থাকে তার সঙ্গে মিশবে। শিশুটির অন্ত্রে (Intestine) ক্রমাগত সংকোচন ও প্রসারণ ঘটতে থাকবে। ঐ বিশেষ তরলের মধ্যে ডুবে থেকে শিশুটি থেকে থেকে শ্বাস-প্রশ্বাস নিবে। এ সপ্তাহেই তার সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন সম্পন্ন হয়ে যাবে এবং পরবর্তী সময়টুকুতে তাদের বিকাশ ঘটবে।

.

এ সপ্তাহের সবচাইতে নাটকীয় পরিবর্তন হচ্ছে শিশুর Reflex.  আপনি যখন আপনার পেটে হাত রাখবেন আপনার শিশুটি এর প্রতিক্রিয়ায় নড়ে উঠতে পারে। যদিও বাইরে থেকে আপনি তা এখনি অনুভব করতে পারবেন না। শিশুর মুখ এখন পুরোপুরি মানুষের মত। চোখের অবস্থান মাথার পাশ থেকে সামনে চলে এসেছে এবং কান দুটো তাদের নির্দিষ্ট স্থানে।

এ সপ্তাহে আপনার শারীরিক পরিবর্তন

এ সপ্তাহ শেষেই আপনার গর্ভাবস্থার প্রথম তিনমাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তবে, এখনই আপনি শিশুর নড়া-চড়া অনুভব করতে পারবেন না, কারণ আপনার জরায়ু এ পর্যায়ে মাত্রই শ্রোণীচক্রের (Pubic bone) উপরে উঠে এসেছে।

শ্রোণীচক্রের ভিতর থেকে জরায়ু উপরে উঠে আসার কারনে, মূত্রথলির (Bladder) জন্য এখন অনেকটুকু জায়গা ফাঁকা হয়ে যাবে, ফলে আপনার প্রস্রাবের বেগও আগের চেয়ে কম হবে।

এ সপ্তাহে আপনার স্তনের রঙ আরো গাঢ় হতে থাকবে, এবং আপনার নাভি থেকে তলপেটের নীচ পর্যন্ত লিনিয়া নিগ্রা (Linea Nigra) নামক হাল্কা একটা রেখা দেখা দিবে। প্রতি ৪ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে ৩ জনে এ দাগ দেখা যায়।

এখন যেহেতু আপনার শরীরে অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে আপনার ত্বকের উজ্জলতাও বেড়ে যাবে। আপনার ত্বকে যদি ব্রণ থাকে তাও দূর হয়ে যাবে এবং ত্বক আরো মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

 

এ সপ্তাহে করনীয়

প্রসবপূর্ব সেবার জন্য ডাক্তারের সাথে প্রথম সাক্ষাৎ এর এটাই সময়। এসময় আপনার আলট্রাসাউন্ডও করানো হবে।এর মধ্যে গর্ভপাতের ঝুঁকিও অনেকাংশেই কমে গেছে। সুতরাং এখন আপনি সবাইকে সুখবরটা জানাতেই পারেন।

প্রথম আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করার পর যদি দেখা যায় আপনার গর্ভফুল এর অবস্থান কিছুটা নিচের দিকে তাহলে চিন্তা করার কিছু নেই। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ২৮ সপ্তাহ নাগাদ গর্ভফুল আবার উপরে উঠে যায়।

ডাক্তারের কাছে যাবার সময় আপনার সঙ্গীকেও সম্ভব হলে সঙ্গে নিয়ে যান। তাহলে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন খুটিনাটি বিষয় সম্পর্কে দু’জনে একসাথেই জানতে পারবেন।

গর্ভাবস্থায় শিশুর বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে মায়ের ওপর৷ অর্থাত্‌ সুস্থ মা মানেই সুস্থ শিশু৷ শিশুর পরিপূর্ণ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার খাদ্যের যোগান দিতে হয় মাকে৷ মা যে খাবার খাবেন শিশুও সেই খাবার খেয়ে পুষ্টি লাভ করে৷ এ কারণে স্বাভাবিক মহিলাদের তুলনায় একজন গর্ভবতী মায়ের খাবারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি৷ সঠিক পরিমাণে খাবার গ্রহণ না করলে সন্তান ঠিকমত বৃদ্ধি পাবে না৷ ফলে সন্তান অপুষ্টি নিয়ে জণ্মাবে৷ গর্ভবতী অবস্থায় কী খাবেন এবং কোন খাবার গর্ভের সন্তান এবং মায়ের জন্য প্রয়োজন তা জেনে নিন।

হালকা ব্যায়াম করতে হবে কিন্তু ভারি কাজ করা যাবে না । ঝুকে বা নুয়ে কাজ না করাই উচিত । হাঁটা চলায় সাবধান হতে হবে । এগুলো আমরা সবাই জানি কিন্তু ঠিক মত পালন করিনা। কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সচেতন থাকতে হবে ।

“প্রতিটি জন্মই হোক পরিকল্পিত, নিরাপদ হোক মাতৃত্বের প্রতিটি মুহূর্ত ”

<<গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ১১
গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ১৩>>

তথ্যসূত্রঃ

  • maya.com.bd/content/web/language/bn/1851/
  • babycenter.com
  • parenting.com

 

Related posts

Leave a Comment