সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভধারন । সপ্তাহ – ১১

দেড় ইঞ্চি লম্বা আর বাতাবিলেবু আকারের শিশুটির মৌলিক গঠন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। শিশুটির শরীরের অংশটুকু এখন বাড়ছে, যাতে অতিরিক্ত বড় আকারের মাথার সাথে ভারসাম্য আসে। শিশুটির ত্বক এখনো এতই স্বচ্ছ যে তার রক্তনালীগুলোও স্পষ্ট দেখা যায়।

শরীরের ছোটো ছোটো অংশ, যেমন নখ, দাঁতের মাড়ি, চুলের গোড়া ইত্যাদি এখন একটু একটু করে গঠিত হচ্ছে। এ পর্যায়ে শিশুটির জোড়া লেগে থাকা হাত পায়ের আঙ্গুল গুলো আস্তে আস্তে আলাদা হয়ে যাবে। শিশুটির ডায়াফ্রাম (Diaphragm) তৈরি হতে শুরু করবে। এটি একটি পরদা, যা বুক এবং পেট কে আলাদা করে রাখে। এ সময় শিশুটি ক্রমাগত ঢেকুর তুলবে। ইতিমধ্যে কিডনি (Kidney) দুইটি তাদের সঠিক অবস্থানে বসে যাবে। মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে এ সপ্তাহ নাগাদ ডিম্বাশয়ও তৈরি হয়ে যাবে।

এই সময় শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস এর মাধ্যমে amniotic fluid গ্রহণ ও ত্যাগ করে যা তার lungs এর গঠনে সাহায্য করে। শিশুর কান মাথার দু পাশ থেকে আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করে। যদিও শিশুটির চোখ এখনো বন্ধ কিন্তু সে মোটেও ঘুমন্ত নয়। আপনি যদিও তার নড়াচড়া এখনি টের পাবেন না কিন্তু এখন থেকেই হাত পা ছুড়াছুড়ি শুরু করবে।

এ সপ্তাহে শারীরিক পরিবর্তন

এ সপ্তাহ নাগাদ আপনার স্তনের আকার বড় হতে শুরু করবে, সুতরাং অন্তর্বাস হতে হবে আরামদায়ক। যদি আপনার মুখে ব্রণ থাকে, তাহলে খেয়াল করবেন যে সেগুলো মিলিয়ে যাচ্ছে।

সকালবেলার অসুস্থতা এ পর্যায়ে এসে কমে যাবে, কিন্তু আবেগের চড়াই-উৎরাই এখনো আপনার মন নিয়ে খেলা করতে থাকবে। এই আপনি খুশি থাকবেন তো পরের মুহুর্তেই আপনার প্রচন্ড মন খারাপ হয়ে যাবে। কিন্তু তা নিয়ে চিন্তিত হবার কিছু নেই, গর্ভাবস্থায় এই অনুভূতিগুলো খুবই স্বাভাবিক আর সময়ের সাথে সাথে ঠিকও হয়ে যাবে।

র্ভাবস্থায় মায়েদের কোষ্ঠ কাঠিন্য সমস্যাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা হরমোনাল পরিবর্তনের কারনে হয়ে থাকে যা হজম শক্তি কমিয়ে দেয়। এছাড়া বুক জ্বালা পোড়ার উপসর্গ ও দেখা দিতে পারে।

শরীরের metabolism বেড়ে যাওয়ার কারনে এসময় শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে শরীর গরম থাকতে পারে এবং অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় পা ফুলতে পারে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস সময়ে পা ফুলে গেছে কিনা দেখার জন্য উভয় গোড়ালির চারপাশে বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিন৷ যে পয়েন্টে চাপ দেওয়া হয় সেখানে যদি একটি ছোট গর্ত হয়ে যায় এবং শীঘ্র তা মিলিয়ে যায় তবে বুঝতে হবে পায়ে পানি নেমেছে৷ শরীরে লবণ বৃদ্ধির ফলে পায়ের গোড়ালি ফুলে যায় ও পানি জমে৷ শরীরে পানি জমলে বা শরীর ফুলে গেলে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর রক্তচাপ, প্রস্রাব পরীক্ষা করা ও ওজন দেখা উচিত৷

গর্ভাবস্থার এ সপ্তাহে করনীয়

এখন আপনি গর্ভপাতের ঝুঁকি থেকে মুক্ত। সুতরাং এখন আপনি একটা প্রসবকালীন পরিকল্পনা করতে শুরু করে দিতে পারেন। একজন সেবিকা বা দক্ষ ধাত্রীর সাথে কথা বলে রাখতে পারেন, যিনি আপনাকে সন্তান প্রসবের সময় উপযুক্ত যত্ন ও তত্ত্বাবধান করবেন।

এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ আপনাকে আর বাড়তি ফলিক অ্যাসিড না খেলেও চলবে, কারণ আপনার শিশুর স্নায়ুনলের (Neural Tube) গঠন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন তো বটেই, সামনের দিনগুলোতেও সুষম খাবার খাওয়া বন্ধ করা যাবে না।

কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে। দিনে অন্তত আট গ্লাস পানি পান করতে হবে। আঁশ আছে এ রকম খাবার, যেমন- শাকসবজি, ফলমূল, বিচিজাতীয় খাবার, ডাল, আটা ইত্যাদি খেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করার জন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।

গর্ভাবস্থায় দাঁতের যত্ন নেয়া খুবই প্রয়োজন৷ এসময় দঁাত পরিষ্কার রাখতে হবে৷ গর্ভাবস্থায় অনেক সময় মাড়ি ফুলে রক্তপাত হয়৷ তাই এ সময়ে মাড়ির যত্ন প্রথম থেকেই নেওয়া উচিত৷ প্রতিদিন সকালে ও রাতে শোয়ার আগে দঁাত ব্রাশ করা প্রয়োজন৷ দঁাত বা মাড়ির কোনও সমস্যা থাকলে দন্ত চিকিত্‌সকের পরামর্শ নিন৷

সুস্থ পরিবেশ ই শুধু একটা সুস্থ বাচ্চার জন্ম দিতে পারে । এ সময় ধর্মীয় বই পুস্তক পাঠ করলে , সুন্দর সন্তানের স্বপ্ন দেখলে বাস্তবেও সুন্দর, সুস্থ বাচ্চার জন্ম দেয়া সম্ভব । এটা বর্তমানে বৈজ্ঞানিক ভাবেও প্রমানিত যে মায়ের সাথে সন্তানের আত্তিক সম্পর্ক থাকে । কাজেই মাকে আনন্দে থাকতে হবে, পরিবারকেও মাকে সাপোর্ট দিতে হবে ।

হালকা ব্যায়াম করতে হবে কিন্তু ভারি কাজ করা যাবে না । ঝুকে বা নুয়ে কাজ না করাই উচিত । হাঁটা চলায় সাবধান হতে হবে । এগুলো আমরা সবাই জানি কিন্তু ঠিক মত পালন করিনা। কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সচেতন থাকতে হবে ।

“প্রতিটি জন্মই হোক পরিকল্পিত, নিরাপদ হোক মাতৃত্বের প্রতিটি মুহূর্ত ”

<<গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ১০
গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ১২>>

তথ্যসূত্রঃ

babycenter.com
parenting.com
maya.com.bd/content/web/language/bn/1853/

 

Related posts

Leave a Comment