গর্ভাবস্থায় পাইকা (Pica) বা অখাদ্য খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা

গর্ভবতী নারীদের আচারসহ নানা জাতীয় খাদ্য খাওয়ার আকাঙ্খা জাগে। আবার কারো কারো শোনা যায় বরফ, মাটি, ছাই ইত্যাদি অখাদ্য খাওয়ারও তীব্র ইচ্ছা তৈরি হয়। এই প্রবণতাকে পাইকা (Pica)  বলে। প্রবণতাটি গ্রামাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। অজ্ঞতা এ ধরনের প্রবণতাকে আরো উস্কে দেয়। পাইকা বলতে মূলত বোঝায় পুষ্টিগুণবিহীন কোনো বস্তু খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা এবং সেই বস্তু ক্রমাগত খেতে থাকা। তবে কারো এই ধরনের অভ্যাসকে পাইকা ডিজঅর্ডার বলে ঘোষণা করতে হলে এই অভ্যাসের স্থায়ীত্বকাল অবশ্যই এক মাসের বেশি হতে হবে। গর্ভাবস্থায় কিছু কিছু মায়েদের এ ধরনের ইচ্ছা জাগা স্বাভাবিক তবে বেশিরভাগ মায়েদেরই আচার…

Read More

নবজাতকের বুক থেকে দুধ নিঃসরণ বা ডাইনীর দুধ (Witch’s Milk)

নবজাতকের বুক থেকে দুধ নিঃসরণ বা ডাইনীর দুধ (Witch's Milk)

সম্প্রতি দেখা নবজাতকের বুকের একটি ছবি দেখে শিউরে উঠলাম- এটি ছিল কয়েকদিন বয়সী এক নবজাতকের, যে সম্পুর্ন স্বাভাবিক এবং সুস্থভাবেই জন্ম নিয়েছিলো।  নবজাতকের বুকের একটি স্তনবৃন্ত ভয়াবহভাবে ফুলে আশেপাশের বেশ বড় একটি জায়গা জুড়ে ইনফেক্টেড হয় – ঠিক এরকমই আরো বেশ কিছু ঘটনা ও নবজাতকের বুকের বেশ কিছু বীভৎস ছবি দেখা যায় নবজাতকের স্বাস্থ্য-বিষয়ক তথ্যগুলোতে, বিশেষ করে, অনুন্নত দেশগুলোয়, যেখানে কুসংস্কার ও বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণার শিকার হয়ে প্রায়ই প্রসূতি কিংবা নবজাতকের জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ দুর্ভোগ। নবজাতকের স্তনে একটি স্ফীত অংশ ও পুঁজ কিংবা দুধের মত কিছু জমে আছে লক্ষ্য…

Read More

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ। কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপ বলতে কি বোঝায়? রক্তনালী বা ধমনীর দেয়ালের বিপরীততে রক্ত প্রবাহের ধাক্কাকেই রক্তচাপ বলে। রক্ত মানুষের হৃদপিণ্ড থেকে সারা শরীরে প্রবাহিত হওয়ার জন্য এ চাপের প্রয়োজন। তবে সেটি যখন বেশি থাকে, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে। উচ্চ রক্ত চাপের কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। প্রতিটি হৃৎস্পন্দনের সময় একবার সর্বোচ্চ চাপ বা সিস্টোলিক ( যখন হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়ে ও রক্ত পাম্প করে)  এবং সর্বনিম্ন চাপ বা ডায়াস্টলিক চাপ হয় ( যখন হৃদপিণ্ড প্রসারিত হয় এবং হৃদপিণ্ড রক্ত পরিপূর্ণ হয় ) । হৃৎপিন্ডের সংকোচন প্রবণতাই রক্তচাপের…

Read More

গর্ভাবস্থায় স্তনের পরিবর্তন এবং তা থেকে স্বস্তির উপায়

গর্ভাবস্থায় স্তনের পরিবর্তন

গর্ভাবস্থায় শরীরের স্বাভাবিক সব প্রক্রিয়ার একটি বিরাট পরিবর্তন ঘটে। যার প্রভাবে স্তনবৃন্ত বা নিপল আকারে বড়, সংবেদনশীল এবং গাঢ় রং ধারণ করে। আপনি যদি গর্ভবতী হন তাহলে তার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্তন অতি সংবেদনশীল হয়ে যাওয়া, ব্যথা করা ও শিরশির করা। গর্ভাবস্থার তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহ থেকে আপনার এই অনুভূতিগুলো শুরু হবে। গর্ভাবস্থায় স্তনের পরিবর্তন কেমন হতে পারে? গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক কারনেই স্তনের আকৃতিগত পরিবর্তন দেখা দেয়। এটিই প্রকৃতির নিয়ম। ৬-৮ সপ্তাহের দিকে স্তন এর আকার বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হতে পারে যা পুরো গর্ভকালীন সময় ধরে চলে। এসময় স্তনের…

Read More

গর্ভাবস্থায় নাভিতে এবং আশপাশে ব্যাথা হয় কেন?

গর্ভাবস্থায় নাভিতে ব্যাথা

গর্ভাবস্থায় মায়ের জরায়ুতে বেড়ে ওঠা শিশুর কারণে মায়ের শরীরে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়। এই পরিবর্তনগুলো আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুইধরনেরই হয়। গর্ভাবস্থায় নাভিতে ব্যাথা সাধারণত মায়ের শরীরের আভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের কারণে হয়। এই সময় কেউ কেউ নাভিতে এবং এর চারপাশে ব্যাথা ও জ্বলুনি অনুভব করতে পারেন। নাভির জায়গা ফুলেও যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় নাভিতে ব্যাথা কেন হয়? গর্ভাবস্থায় অনেক মায়েরাই নাভিতে ব্যাথা অনুভব করেন। বেশিরভাগ মায়েদের ক্ষেত্রে এ ব্যাথা মৃদু হয় এবং কোন ভয়ের কারণ থাকেনা তবে কিছু কিছু মায়দের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যাথায় ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। গর্ভাবস্থায় নাভিতে ব্যাথা হওয়ার কারণগুলো…

Read More

গর্ভাবস্থায় হঠাৎ পেট শক্ত হয়ে যাওয়া বা পেটে টান লাগা অনুভূতি কেন হয়?

গর্ভাবস্থায় হঠাৎ পেট শক্ত হয়ে যাওয়া বা পেটে টান লাগা অনুভূতি কেন হয়?

গর্ভাবস্থায় পেটে ব্যাথা সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এই সময়ে বেশ কিছু কারণের জন্য পেটে ব্যথা হওয়া, পেট শক্ত হয়ে যাওয়া বা পেটে হঠাৎ টান লাগা অনুভূতি হওয়া  স্বাভাবিক। কারণ এসময়ে নারীদের দেহের অনেক অঙ্গের মাঝে পরিবর্তন ঘটে, জরায়ু আকারে বড় হয়ে যায়, লিগামেন্ট টান টান হয়ে যায়। বাচ্চার ওজন বহন করার কারনে এ সময় মায়েদের শরীরের পেশী, জয়েন্ট এবং শিরার উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে যার কারণে পাকস্থলীর আশপাশের জায়গাগুলোতে অস্বস্তি বোধ হয়। তবে তাই বলে সব ব্যাথাকেই স্বাভাবিক ভাবা উচিত নয়। যখন পেটে ব্যথা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন অবশ্যই চিন্তার কারণ…

Read More

গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস-বি । সতর্ক থাকা জরুরী

গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস-বি । সতর্ক থাকা জরুরী

হেপাটাইটিস-বি কি? লিভারের সাথে সম্পর্কিত একটি রোগ হলো ‘হেপাটাইটিস’। চিকিৎসাবিজ্ঞানে লিভার বুঝাতে ‘হেপাটো’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। হেপাটোসাইট মানে লিভারের কোষ, হেপাটিক মানে লিভার সম্পর্কিত কোনো কিছু, হেপাটাইটিস মানে লিভারে কোনো জীবাণু দ্বারা আক্রমণ। হেপাটাইটিস রোগটি হয়ে থাকে হেপাটাইটিস ভাইরাস দ্বারা। যেহেতু আক্রমণটা হয়ে থাকে লিভারের উপর, সেহেতু একে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। হেপাটাইটিস ভাইরাস রয়েছে বিভিন্ন  ধরনের; এ, বি, সি, ডি, ই। হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলোর মধ্যে ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাস স্বল্পমেয়াদী লিভার প্রদাহ করে এবং ‘বি’ ও ‘সি’ দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ করে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে আমাদের দেশে বি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সাধারণ জনগণের…

Read More

গর্ভাবস্থায় জ্বর । কখন স্বাভাবিক কখন নয়

গর্ভাবস্থায় জ্বর । কখন স্বাভাবিক কখন নয়

গর্ভাবস্থায় জ্বর আসলে প্রথমেই মায়েদের মনে যে প্রশ্নটা আসে তা হলো  গর্ভের বাচ্চা ঠিক আছে কিনা। কিন্তু প্রথমেই যেটা দরকার তা হলো ডাক্তারের সাথে কথা বলে জ্বর নামানোর ব্যাবস্থা করা। এরপরের কাজ হোল কি কারণে জ্বর হলো তা খুঁজে বের করা। কারণ গর্ভাবস্থায় জ্বর বেশিরভাগ সময়ই অন্য কোন উপসর্গের লক্ষণ যা গর্ভের বাচ্চার ক্ষতির কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় জ্বর কিভাবে বাচ্চাকে প্রভাবিত করতে পারে? যখনই একজন গর্ভবতী মায়ের শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রী থেকে বেড়ে জ্বরের কাছাকাছি চলে যায় তখনি বুঝতে হবে যে মায়ের শরীর কোন ইনফেকশনের সাথে লড়াই করছে। এই…

Read More

গর্ভাবস্থায় ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও তার প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও তার প্রতিকার

প্রথমেই বলা প্রয়োজন গর্ভাবস্থা কিন্তু কোনো রোগ নয়। এটি একটি বিশেষ সময়ের শারীরিক অবস্থা। গর্ভাবস্থায় শরীরের স্বাভাবিক সব প্রক্রিয়ার একটি বিরাট পরিবর্তন ঘটে। যার প্রভাবে ত্বকেও অনেক ধরনের পরিবর্তন এবং নানা ধরনের চর্মরোগ সৃষ্টি হতে পারে। গর্ভাবস্থায় খাবারের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি থাকে, তাই সেই অনুপাতে খাওয়া-দাওয়া না করলে মায়ের ত্বকে হতে পারে বিশেষ কোনো খাদ্য উপাদানের ঘাটতিজনিত রোগ অর্থাৎ অপুষ্টিজনিত কারণেও এ সময় বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায়ও এ সময় পরিবর্তন হয়। ফলে বিভিন্ন জীবাণু (যেমন-ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস ইত্যাদি) সংক্রমণের দ্বারাও ত্বকে অনেক চর্মরোগ…

Read More

গর্ভাবস্থায় নাক দিয়ে রক্ত পড়া। কারণ ও প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় নাক দিয়ে রক্ত পড়া

গর্ভাবস্থায় নাক থেকে রক্ত কেন পড়ে?  নাক দিয়ে রক্ত পড়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা না হলেও অনেকের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। আমাদের দেহের নাকের ভিতরের রক্ত প্রবাহের নালীটি খুবই ক্ষুদ্র এবং নাক দেহের সবচেয়ে বেশি সেনসেটিভ অঙ্গ। যখনই নাকের এই রক্ত প্রবাহের নালীতে কোন সমস্যা দেখা দেয় তখনই নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, মাঝে মাঝে নাকের দুটো ছিদ্র দিয়েই রক্ত বের হয়ে থাকে। গর্ভাবস্থায় আমাদের শরীরে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এ সময় নাকের ভেতরের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়ে যায় এবং বর্ধিত রক্তপ্রবাহ নাকের সংবেদনশীল রক্তনালীগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে যার ফলে নালীগুলো সহজে ফেটে…

Read More