সপ্তাহ ৩৪ । গর্ভকালীন প্রত্যেকটি সপ্তাহ

গর্ভাবস্থার এ সপ্তাহে আপনার শিশুর দৈর্ঘ্য হবে ৪৭ সেমি এবং তার ওজন হবে প্রায় ৫ পাউন্ড, অনেকটা বাঙ্গির সাথে তুলনা করা যেতে পারে। তার শরীর এখন চর্বির স্তর দ্বারা পুষ্ট থাকবে যার ফলে সে ভূমিষ্ঠ হবার পর তার দেহ বাইরের তাপমাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। সে এখন চোখের পলক ফেলতে পারবে এবং একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে পারবে।

মায়ের পেটের দেয়াল ভেদ করে যে আলো আসবে সেটাও সে স্পষ্ট দেখতে পাবে। তার কনীনিকা বা চোখের তারা (pupil) স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আলোর তীব্রতার প্রতি প্রতিক্রিয়া করবে। যেমন, মায়ের পেটের দেয়াল ভেদ করে আসা আলোর তীব্রতা যদি বেশি থাকে তাহলে আপনা থেকেই তার চোখ ছোটো হয়ে যাবে। শিশুটির শরীর এখনও ভার্নিক্স ( vernix, যে সাদা, পিচ্ছিল পদার্থ গর্ভের ভেতর শিশুকে আবৃত করে রাখে) দ্বারা আবৃত, কিন্তু লানুগো ( lanugo, গর্ভস্থ শিশুর ত্বকের ওপর নরম চুলের স্তর) ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

এখন পর্যন্তও আপনার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটতে থাকবে এবং সেটা হবে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। একই সাথে ফুসফুসের বিকাশও চলতে থাকবে। কারণ এ সময় তার অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (adrenal gland) থেকে কর্টিসোল ( cortisol) হরমোন নিঃসৃত হবে, যা ফুসফুসের বিকাশকে তরান্বিত করবে। কিডনির ঠিক ওপরেই এই অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির অবস্থান।

আপনার শিশু যদি ছেলে হয় তবে এ সময় থেকে তার অণ্ডকোষ আস্তে আস্তে নিচের দিকে নেমে যেতে থাকবে। কিছু কিছু শিশুর ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ উপরের দিকে উঠানো থাকে যা জন্মের এক বছরের মদ্ধে স্বাভাবিক জায়গায় ফিরে যায়। জন্মের পর ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ এবং মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রে তার ভালভা সামান্য ফোলা থাকে যা জন্মের সপ্তাহ খানেক এর মদ্ধেই স্বাভাবিক হয়ে যায়।

গর্ভাবস্থার এ সপ্তাহে আপনি

গর্ভের শিশুটি এখন পেটের নিচের দিকে নামতে শুরু করবে, নির্দিষ্টভাবে বললে শ্রোণীচক্রের (pelvis) দিকে। ফলে, এখন আপনার ফুসফুসের ওপর চাপ ক্রমে যাবে এবং শ্বাস নিতে এখন আর দম বন্ধ লাগবে না। কিন্তু, এ পর্যায়ে এসে শিশুটি যেহেতু আবার নিচে নেমে আসবে, আপনার মূত্রের বেগও আবার আগের মতো বেড়ে যাবে এবং আপনাকে ঘন ঘন বাথরুমে যেতে হবে। এখন আপনার আরো বেশি ক্লান্ত লাগবে, যেহেতু কোনোভাবেই এখন আর আপনি আরাম পাবেন না। আর, ঘন ঘন মূত্রের চাপের কারণে রাতে বার বার আপনাকে বিছানা ছেড়ে উঠতে হবে, ফলে আপনার ঘুমেরও সমস্যা হবে। নিজেকে ধীর-স্থির রাখুন। আসছে দিনটির জন্য আপনাকে যথেষ্ট শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে হবে। ক্লান্তির কারণেই হয়তো এখন আপনি সবকিছু ঝাপসাও দেখতে পারেন।

এতদিনে আপনার স্তন দুধ উৎপাদনের জন্য তৈরি হয়ে যাবে। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে আপনার স্তনবৃন্ত গাঢ় বর্ণ ধারণ করবে।আপনার স্তন থেকে এখন অল্প পরিমাণে দুধের মতো তরল ( Pre-Milk/ colostrum) নিঃসৃত হবে। বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য উপযোগী দুধ তৈরি হবার আগে প্রথম কয়েকদিন হলুদ, দুধজাতীয় এই তরল উৎপাদিত হয়। কোনোরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যাতে পড়তে না হয় সেজন্য ব্রা’র নিচে টিস্যু বা নার্সিং প্যাড এর একটা পরত দিয়ে রাখুন।

এর আগের কয়েক সপ্তাহ যাবত আপনার জরায়ুর পেশীগুলো প্রচণ্ড টান টান লাগার কথা। ২০তম সপ্তাহ থেকেই হঠাৎ হঠাৎ আপনার জরায়ুর পেশী কুঁচকে যাওয়ার মতো অনুভূতি শুরু হতে পারে, তবে এতে কোনো ব্যথা থাকবে না। এটাকে বলা হয় Braxton hicks contraction ( এটাকে prodromal labour বা practice contractions ও বলা হয়) । কিন্তু যদি পেশীর এই সঙ্কোচনভাব বেশি বেশি হয় এবং সাথে ব্যথাও থাকে, তাহলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ কারণ এটা সময়ের আগেই প্রসব যন্ত্রণা শুরু হবার পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

আপনার যোনিপথের স্রাবে কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না দেখুন। যদি হঠাৎ করে স্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়, কিংবা স্রাবের সাথে অল্প রক্তও যায় অথবা যদি স্রাবের ধরণ শ্লেষ্মাজাতীয় (mucoid) এবং অতিরিক্ত তরল হয় তাহলে এটা কোনো জটিলতার উপসর্গ হতে পারে। মাসিকের সময় পেটে বা পিঠের নিচের অংশে ( হিপ জয়েন্টে) যেমন ব্যথা হয়, সেরকম ব্যথা হতে পারে আপনার। আসল প্রসব-যন্ত্রণার লক্ষণগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই যদি আপনি এবং আপনার সঙ্গী পড়াশোনা করে ফেলেন, তাহলে আপনাদের জন্যই ভালো হবে। বিশেষ করে এটা যদি আপনাদের প্রথম সন্তান হয়, তাহলে উপসর্গগুলো শুরু হবার সাথে সাথেই আপনারা বুঝতে পারবেন – এখনই সময়!

গর্ভাবস্থার শেষের দিকে পায়ে কিছু পানি আসতে পারে। তবে অতিরিক্ত পা ফোলা বা পা ফোলার সঙ্গে রক্তচাপ বেশি থাকলে প্রি-একলামশিয়ার চিন্তা করা হয়, তখন ডাক্তারের পরামর্শমতে চিকিৎসা নিতে হবে। গর্ভাবস্থায় শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগ মহিলা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। এ সময় গর্ভবতী মহিলার রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিমি: অব মারকারির চেয়ে বেড়ে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় প্রি-একলামশিয়া। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রি-একলামশিয়া বা একলামশিয়া পৃথিবীতে মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। প্রি-একলামশিয়ার লক্ষণ হচ্ছে ইউরিনে প্রটিন নির্গত হওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ।

গর্ভাবস্থার এ সপ্তাহের কিছু টিপস

অনেকে প্রেগন্যান্সির গোটা সময়টাই শুয়ে বসে কাটিয়ে দেন। এটা একেবারেই উচিত্ নয়। যদি চিকিত্সক আপনাকে বেড রেস্টে থাকতে না বলেন, এবং অন্য কোনও জটিলতা না থাকে তাহলে সচল থাকুন। বাড়ির হালকা কাজকর্ম করুন। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে যোগাসন বা হালকা ব্যয়াম করুন। সকাল, সন্ধে হাঁটতে যান। এতে ওজন কম থাকবে, শরীর সুস্থ থাকবে, নরমাল ডেলিভারির চান্সও বাড়বে।

যোগব্যায়াম নরমাল ডেলিভারির জন্য অত্যন্ত উপকারী যোগব্যায়াম। এতে শরীরের পেশি শিথিল থাকবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমনকী স্ট্রেস কমবে। ডেলিভারির যন্ত্রণা কম করতে তাই নিয়মিত যোগব্যায়াম করুন। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে।

কর্মজীবি মায়েরা এই সময় থেকে কাজে বিরতি দিন। অফিসে আসা যাওয়া, যানবাহনে চড়ার ধকল শরীরের জন্য ক্ষতিকর হবে। তাছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন দূরবর্তী স্থানে ভ্রমন এই সময়ের জন্য একেবারেই নিষিদ্ধ।

যদি হাসপাতালে বাচ্চা প্রসব করান তবে আগে থেকেই কাপড়-চোপড়, টাকা-পয়সা, সেবাদানকারীর ব্যবস্থা করে রাখুন। প্রসবব্যথা ওঠার আগে প্রয়োজনীয় টেলিফোন নম্বর সংগ্রহে রাখুন। গর্ভাবস্থার শেষ সপ্তাহগুলো অত্যন্ত দীর্ঘ মনে হয়। তাই এ সময় এমন কিছু করুন যেন একঘেয়েমি না লাগে।

ভাবতে শুরু করুন আপনার বাচ্চার জন্য আপনি কি কি করতে চান। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করুনআপনার আরও সন্তান থাকলে তাদের সঙ্গে সময় কাটান। একই রক্তের গ্রুপসম্পন্ন বন্ধু বা আত্মীয় ঠিক রাখুন যিনি প্রয়োজনে রক্ত দিতে পারবেন।

আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না যে আপনার ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাক। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ওজন থাকলে পুরোটা সময় তো বটেই, বিশেষভাবে সন্তান প্রসবের সময় অনেক ধরণের জটিলতা তৈরি হবার ঝুঁকি থাকে। আপনার ওজন বৃদ্ধি স্বাভাবিক কিনা তা আমাদের pregnancy weight gain calculator এর সাহায্যে জেনে নিন।

২৮ সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়ার পর শিশু ক’বার লাথি মারছে সেটা গুনতে শুরু করুন। মনে রাখবেন ২ ঘন্টার মধ্যে যদি শিশু ১০বারের কম লাথি মারে তাহলে অবিলম্বে আপনাকে আপনার চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

অনেক গর্ভবতী হয়ত লক্ষ্য করেছেন দাঁত ব্রাশের সময় মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়। এটা অস্বাভাবিক কোনো কিছু নয়। গর্ভাবস্থায় দেহ হরমোনের পরিবর্তন হয় এবং তার প্রতিক্রিয়া মাড়িতেও দেখা দিতে পারে।ই অবস্থাকে বলা হয় গর্ভাবস্থার মাড়ির প্রদাহ বা (pregnancy gingivitis)। এই অসুবিধা মোকাবিলা করার জন্য সর্বাগ্রে যা করণীয় তা হলো গর্ভাবস্থার শুরু থেকে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ বা পরিষ্কার করা নিশ্চিত করা যাতে ডেন্টাল প্লাক সৃষ্টি না হয়। এ ক্ষেত্রে দন্ত চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে গর্ভাবস্থার পুর্বেই দাঁত স্কেলিং করা এবং সঠিক ব্রাশ চালনা পদ্ধতি জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

গর্ভাবস্থার শেষ তিনমাসেই শিশুর হাড়ের গঠন সবচেয়ে মজবুত হবে। সুতরাং আপনার খাবারের তালিকায় প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ দুধ বা দই থাকতেই হবে। গর্ভজাত শিশুটির প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম সরবরাহের জন্য প্রতিদিন অন্তত দুই কাপ সমান দুধ বা দই খেতে হবে আপনাকে। ক্যালসিয়ামের আরো দুইটি ভালো উৎস হচ্ছে চিজ এবং ছোটো মাছ ( যেমন কাঁচকি)। যদি আপনার দুধ বা দুধ জাতীয় খাবারে সমস্যা থাকে তাহলে ডাক্তারকে সে কথা জানান। এমনকি অন্য আর কোনো সমস্যার কারণে যদি আপনি খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার না রাখতে পারেন, তাহলে সে ব্যাপারেও ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। সেক্ষেত্রে ডাক্তার হয়তো আপনাকে নিয়মিত খাবারের সাথে ট্যাবলেট আকারে বাড়তি ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে বলবে।

খাবারের সাথেই হোক, আর বাড়তি সাপ্লিমেন্ট হিসেবেই হোক, ক্যালসিয়ামের পর্যাপ্ত চাহিদা তো পূরণ করছেন। সেই সাথে প্রচুর ভিটামিন সি-ও যেন আপনার শরীর পেয়ে থাকে। কমলা, লেবু, জাম্বুরা কিংবা আমলকীর মতো ভিটামিন সি ভরপুর ফল বা ফলের জুস বেশি বেশি খান।

গর্ভাবস্থায় মায়েরা নানারকম দুঃস্বপ্ন দেখতে পারেন যা নিয়ে তারা বিষণ্ণ থাকেন। এসব মানসিক পরিবর্তন সব নারীর ক্ষেত্রেই কম বেশী ঘটে। তবে এটি “ক্লিনিকাল বিষন্নতা” রোগ নয়, তাই এর কোন ধরণের চিকিতসার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু পরিবার ও আশেপাশের মানুষ দের ভালোবাসা। তবে এই যত্ন টুকু যদি আপনি তার না করেন, তাহলে সে আস্তে আস্তে সে বিষন্নতা রোগের দিকে অগ্রসর হতে পারে। তখন তা গর্ভের সন্তানের ঝুকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাছড়া এই সময়টাতে এখন আরেকজ কে সাপোর্ট দেয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক একটা নতুন মোড় পায়।

গর্ভাবস্থায় গর্ভের প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত স্তনের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত৷ সাবান ও কুসুম গরম পানির সাহায্যে পরিষ্কার করে পরে ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলে শুকনো নরম তোয়ালে দিয়ে মোছা উচিত৷ তা ছাড়া স্তনের বেঁাটা বা নিপল যাতে ফেটে না যায় এবং গঠন সুঠাম হয় সেজন্য গ্লিসারিন মাখতে পারেন অথাব বেঁাটা সামনের দিকে একটু টেনে আঙুলে তেল (অলিভ ওয়েল হলে ভালো হয়) নিয়ে বুড়ো আঙুলের সাহায্যে আস্তে আস্তে ম্যাসেজ করতে পারেন৷ এতে পরে নবজাতকের স্তন্যপানের সুবিধা হয়৷

সাধারণভাবে বলা যায়, গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস সহবাস থেকে বিরত থাকাই ভালো৷ দ্বিতীয় তিনমাসে দম্পতির ইচ্ছেমতো সহবাস করা যায়৷ তবে তাও নির্ভর করে গর্ভবতীর শারীরিক অবস্থার ওপর৷ প্রয়োজনে নিয়মিত চেকআপকারী ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া ভালো৷ শেষ তিন মাস গর্ভবতীর শারীরিক অবস্থার জন্য সহবাসে অসুবিধা হতে পারে৷ তা ছাড়া সহবাসের ফলে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে৷ তাই শেষ তিন মাসও সহবাস না করাই ভালো৷

মাকে সবসময় পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে সাহস দিতে হবে। কোনভাবেই তাকে ভয়ের কোন কথা বলে ভড়কে দেওয়া যাবেনা।একজন মা ও তার পরিবারের সঠিক প্রস্তুতি ও মানসিক সাহসই একটি সুস্থ, সুন্দর ও সবল শিশুর জন্ম দিতে পারে।

  • বাচ্চার সুন্দর আরবি বা বাংলা নাম ও নামের অর্থ জানতে Fairyland Baby Names Finder এর সাহায্য নিতে পারেন।

“প্রতিটি জন্মই হোক পরিকল্পিত, নিরাপদ হোক মাতৃত্বের প্রতিটি মুহূর্ত ”

<<গর্ভাবস্থা সপ্তাহ- ৩৩
গর্ভাবস্থা সপ্তাহ- ৩৫>>

তথ্যসূত্রঃ
maya.com.bd/content/web/wp/1829/
babycenter.com
parents.com

Related posts

Leave a Comment