আপনি কি সন্তান নেয়ার জন্য সত্যিই প্রস্তুত !

আপনি নিশ্চয় যেকোন কাজ করার আগে দশবার ভেবে দেখেন। কোনটা ভালো? কেমন? কাজটা ঠিক হবে কিনা। এমন হওয়া আর করাটাই স্বাভাবিক এবং সঠিক। কিন্তু যখন কথা আসে আপনার জীবনের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার তখন কেন কোণ প্রস্তুতি নেই? হতাশাজনকভাবে কিছু অপ্রত্যাশিত বিষয় এ প্রস্তুতিরকালে কালো ছাপ ফেলতে পারে। এমনকি আপনি নিজেকে যথেষ্ট সুস্থ ও সন্তান ধারণক্ষম মনে করলেও কিছু ঝামেলা থেকে যেতেই পারে। মা-বাবা হিসেবে সন্তান জন্ম দেয়ার আগেই আমাদের ভাবতে হবে আমরা সন্তান জন্ম দেয়ার ও যত্ন নেয়ার জন্য প্রস্তুত কিনা। আমাদের দেশে বেশিরভাগ দম্পতিরাই কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই বাবা-মা হয়ে যান। ফলে শিশুর লালন-পালনের গুরু দায়িত্বটি পালনের জন্য নিজেরা যেমন অসুবিধায় পড়েন তেমনি শিশুর জীবনকেও বিপর্যন্ত করে তোলেন।

এবার দেখা যাক মা-বাবা হওয়ার প্রস্তুতি বলতে কি বোঝায়।

গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত?

গর্ভধারণের চেষ্টা শুরু করার আগে আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে আলোচনা করুন। কোন কিছু তার উপর চাপিয়ে দেয়া উচিত হবে না। তিনিও পরিবার শুরুর কথা ভাবছেণ কিনা তা জেনে নিন। দুজনেই নিজেদের প্রশ্ন করুন-

  • আপনারা উভয়েই সমানভাবে বাবা-মা হওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কিনা?
  • আপনি কিভাবে সন্তানের দেখাশোনা, কাজ এবং পরিবারের দায়িত্ব বহন করবেন?
  • আপনি আপনার ছুটির দিনে বাইরে ঘোরার পরিবর্তে আপনার সন্তানের দেখাশোনা করতে কি প্রস্তুত?
  • আপনি কি কখনো চিন্তা করেছেন আপনার বাবা-মা আপনাকে কিভাবে লালন পালন করেছে? আপনি কি আপনার বাবা মায়ের মতো আপনার সন্তানের দেখাশোনা করতে পারবেন?
  • আপনার সন্তানের বিশেষ চাহিদা (বিকলাঙ্গ শিশুর ক্ষেত্রে) পুরনে আপনি প্রস্তুত কি?
  • আপনি এর্ং আপনার সঙ্গীর ধর্মের ভিন্নতা থাকলে তা শিশুর ক্ষেত্রে কোন প্রভাব পড়বে কিনা তা আপনার সঙ্গীর সাথে আলোচনা করে নিন।

শিশু আপনার জীবনের উপর ছোট খাটো প্রভাব ফেলবে না, সে আপনার পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। অনেকেই নতুন বাবা-মা হওয়াকে সহজ ভাবে নিতে পারেনা। চিন্তা করেন আপনি কিভাবে তাকে গ্রহন করবেন, নতুন জিনিসের সাথে আপনি কত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারেন, কিভাবে আপনি বাবা-মা হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন।

আমাদের কি শিশু নেয়ার সামর্থ্য আছে?

আপনি হয়তো মনে করতে পারেন পরিবার চালানোর মতো যথেষ্ট পরিমাণ টাকা আপনার নেই! শিশুর বাহ্যিক জিনিস পত্রের চেয়ে  ভালোবাসা ও মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও তার মানে এই নয় যে আপনার টাকার প্রয়োজন হবেনা। বাবা-মা হওয়ার জন্য কিছু সংরক্ষন করা জরুরী। তাই কিছু টাকা একপাশে সরিয়ে রাখা করার চেষ্টা করুন।

আপনার পরিবারে কোন নতুন অতিথিকে আনতে চাইলে তার ভবিষ্যতটা যতটা পারেন সুরক্ষিত করার চেষ্টা করবেন।কেননা সন্তান পালন বর্তমান যুগে অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। তাই গর্ভধারণ করার ইচ্ছা থাকলে আগে অর্থনৈতিক দিকটাও ভেবে দেখবেন।একটা প্ল্যানও করে নিতে পারেন।একটা ফিক্সড ডিপোজিট অথবা ইন্সুরেন্স করিয়ে নিতে পারেন গর্ভধারণের আগে।এতে আপনার অনাগত সন্তানের ভবিষ্যত সিকিউর থাকবে।এছাড়া একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমানো উচিত্‍ গর্ভধারণের চেষ্টাকালীন সময়ে।কেননা গর্ভাবস্থায়,বাচ্চা প্রসবকালীন ও বাচ্চা জন্মদানের পরবর্তী অবস্থায় অর্থের দরকার হয়।

কখন গর্ভনিরোধ ব্যবহার বন্ধ করা উচিত?

যদি আপনার ড্রয়ারে কনডম থাকে তা আপনি যে কোন সময় ফেলে দিতে পারেন। যদি আপনি গর্ভ নিরোধক বড়ি সেবন করেন তবে আপনি এটা গ্রহণ বন্ধ করতে পারেন এবং সরাসরি চেষ্টা শুরু করতে পারেন। অথবা আপনি মাসিক শুরুর আগ পর্যন্ত পিল চালিয়ে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে ডাক্তারের শিশু জন্মের তারিখ নির্নয় করতে সহজ হয়। আপনার মাসিকচক্র ফিরে আসতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আপনি পিল খাওয়া অবস্থায় গর্ভধারন করলে পিল খাওয়া বন্ধ করে ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হন। পিল খাওয়া অবস্থায় গর্ভধারন করলে যে শিশুর ক্ষতি হবে তা নয়, তবে সাবধানতা অবল্বন করা ভাল। যদি আপনি গর্ভনিরোধের জন্য ইন্জেকশন ব্যবহার করে থাকেন তবে সন্তান ধারন করার জন্য এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

আমার উর্বর দিন-মাসের (ওভুলেশন) হিসাব ঠিক আছে?

এটি প্রধানত মহিলাদের হিসাব রাখার বিষয়। তবে পুরুষ সঙ্গীটিরও কিছু কার্যকরী ভূমিকা থাকতে পারে। অনেকে হিসাবের ব্যাপারে অধৈর্য হয়ে শেষ পর্যন্ত খেই হারিয়ে ফেলেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মাসের হিসাব ঠিক রাখার জন্য সহজে মনে রাখতে হবে যাদের মাসিক ২৮ দিন পর পর হয়; তাদের জন্য মাসিক শুরু হওয়ার পর থেকে একাদশ থেকে ত্রয়োদশ দিনটি হবে সবচেয়ে উর্বর। এর সঙ্গে আরও ২ দিন আগে পরে সম্ভাবনাময় হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে। মাসিক শুরু হওয়ার চতুর্দশ দিনে ডিম্বাণু বেরিয়ে (ওভুলেশন) আসবে

আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য, ওভুলেশন পরীক্ষা করার জন্য কিট বাজারে পাওয়া যায় এখন। কিন্তু যাদের মাসিক নিয়মিত ভাবে হয় না, তাদের গাইনি বিশেষজ্ঞদের শরণাপণ হতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে মৌসুমি ধারণাটি গ্রহণ করা যেতে পারে। শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকার জন্য শুক্রাণুর গতিবিধি বেড়ে যায় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। আবার শীতকালে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যাও প্রায় ১৬% বৃদ্ধি পায়। এর ফলাফল আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি। আমাদের বহু ঘনিষ্ঠজনেরই জন্মদিন শীতকালে বা এর কাছাকাছি সময়ে।

শুক্রাণু বেরিয়ে আসার পর ৪ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আর ডিম্বাণু ২ দিন। এর মধ্যে এদের দেখা হতে হবে। তবে যত তরতাজা অবস্থায় এদের দেখা হবে তত ভাল। সে জন্য উর্বর সময়ে বেশ কবার মিলিত হওয়া ভাল

গর্ভধারনের জন্য আমার খাবারে কি কোন পরিবর্তন আনতে হবে?

গর্ভধারনের সময় খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরী। তিন বেলাতেই সুষম খাবার যার মধ্যে পাঁচ ধরনের শাকসব্জি ও দুই ধরনের ফল থাকা দরকার। সুস্থ গর্ভধারনের প্রধান চারটি জরুরী উপাদান হচ্ছে

উপরের পুষ্টি গুলো পাওয়ার জন্যে খাবারের মধ্যে দুগ্ধজাত দ্রব্য, ফল এবং শাকসবজি,wholegrains এবং সিরিয়াল,চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডিম, ডাল বা বাদাম আকারে প্রোটিন খেতে পারেন।আমাদের খাদ্য সন্তান উৎপাদনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। যে সব পুরুষ দীর্ঘদিন ধরে খনিজ উপাদান, যেমন জিংক কম খাচ্ছেন, তাদের শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাবে। অতএব, তাদের হয় জিংকসমৃদ্ধ খাদ্য বেশি খেতে হবে অথবা জিংক ওষুধ হিসেবে খেতে হবে। সামুদ্রিক খাদ্য, মাংস ইত্যাদি যথেষ্ট জিংক থাকে। এ ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন প্রয়োজন। যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই। এরা শরীরে যুক্ত মৌলের পরিমাণ কমিয়ে কোষ ধ্বংস রোধ করে এবং প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

আমার ওজন কি আমাকে গর্ভবতী হতে বাধা দিবে?

গর্ভধারনের সময় কম ওজন বা মাত্রাতিরিক্ত ওজন হরমোনে ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারে। কম ওজন বা মাত্রাতিরিক্ত ওজন ডিম্বানু তৈরীতে বাধার সৃষ্টি করে, যা গর্ভধারনের উর্বরতা হ্রাস করে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে ওজন। গর্ভধারনের পূর্বে আপনার বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ১৯ থেকে ২৫ এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। এটা আপনাকে সুস্থ সবল গর্ভধারনে সহায়তা করবে। আপনার মাসিক যদি অনিয়মিত হয় এবং বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) যদি ৩০ হয় আপনাকে অবশ্যই বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) কমাতে হবে। শরীরের ওজন শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ কমালে মাসিক নিয়মিত হবে এবং আপনার গর্ভধারনের সম্ভাবণা বাড়িয়ে দেবে। খুববেশী ডায়েট করা ঠিক হবে না, এটা আপনার শরীরের পুষ্টির সঞ্চয় নিঃশেষ করে ফেলবে। সপ্তাহে 0.৫ কেজি থেকে ১কেজি  ওজন কমা, ওজন কমানোর একটি নিরাপদ হার।

গর্ভধারনের চেষ্টার সময় কি আমার ব্যয়ামের মাত্রা বাড়ানো উচিত?

সুস্থ গর্ভধারনের জন্য আগে নিজের শরীরকে তৈরী করে নিতে হবে। আপনার মনোবল, শক্তি এবং নমনীয়তা আপনাকে গর্ভধারনে সাহায্য করতে পারে।গর্ভাবস্থায় একটি সক্রিয় জীবনধারা বজায় রাখার জন্য নিজেকে তৈরী করুন।

  • আপনার মেজাজ এবং শক্তির মাত্রা উন্নত করুন
  • একটি সুস্থ প্রাক-গর্ভাবস্থা ওজন অর্জন করুন
  • গর্ভাবস্থার হরমোন বদল সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার মনোবল তৈরী করুন
  • গর্ভাবস্থার বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা মোকাবেলায় নিজেকে প্রস্তুত করুন

সক্রিয় এবং নিয়মিত ব্যায়াম আপনার নিম্ন পেশীকে শক্তিশালী করবে যা পরবর্তীতে আপনার নিম্ন পেশীর ব্যথা প্রতিহত করতে সাহায্য করবে। বাসের পরিবর্তে হাঁটা বা  সাইকেল অথবা লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।  গর্ভাবস্থায় ভাল আকৃতি পেতে প্রতিদিন একটু করে হাঁটুন বা দৌড়ান। গর্ভধারনের পর আবার দৌড়াতে যাবেননা। এটা গর্ভধারনের আগের প্রস্তুতি। প্রথমেই বেশী ব্যায়াম করতে যাবেন না। আস্তে আস্তে শরীরকে মানিয়ে নিতে দিন।

ধূমপান, মদ্যপান এবং ওষুধ কি গর্ভধারনে বাধার সৃষ্টি করতে পারে?

হ্যাঁ, এই সব যখন আপনি গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন তখন ক্ষতিকর হতে পারে। ধূমপান বন্ধ, ওষুধ গ্রহণ বন্ধ এবং এলকোহল এড়ানো গর্ভধারনের জন্য  খুবই জরুরী। আপনার জীবনধারার এই পরিবর্তনগুলি আপনার নিজের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভাল তেমনি আপনার শিশুর স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের জন্যও ভাল। ধূমপান গর্ভধারনের উর্বরতা কমায়।বেশি পরিমাণে নিকোটিন শরীরে জমা হলে তা শুক্রানুর জন্য বিষ স্বরূপ কাজ করে। আবার ধূমপায়ীদের যৌন ক্ষমতাও হ্রাস পায়। ধূমপায়ীর শুক্রাণু কম চলনক্ষম ও নির্জীব ধরনের হয়। অতএব, আপনার নেশার অবস্থাটা হিসেব করলেই নিজের পিতা/মাতা হওয়ার উপযুক্ততা বুঝতে পারবেন।

একই ভাবে গাঁজা, কোকেন আপনার গর্ভাশয়ের কার্যক্রম হ্রাস করে। এগুলো সবই গর্ভধারনের অন্তরায়। অনেক সময় অনেক ওষুধও গর্ভধারন ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। এসময় কোন ওষুধ খাবার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। অবশ্যই ডাক্তারকে জানাতে ভুলবেননা যে আপনি গর্ভধারনের চেষ্টা করছেণ। অতিরিক্ত মাত্রার মদ গর্ভপাত ঘটাতে পারে অথবা দুর্বল, পুষ্টিহীন কম ওজনের বাচ্চার জন্ম হতে পারে।

গর্ভধারনের চেষ্টা করার সময় কি ধরনের কাজ ক্ষতিকর হতে পারে?

কিছু কাজ আপনি এবং আপনার গর্ভস্থ শিশুর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। আপনাকে ভারী জিনিস তোলা বা ভারী কাজ পরিহার করতে হবে। আপনি রাসায়নিক বা বিকিরণ উন্মুক্ত হয় এমন কাজের সাথে জড়িত থাকলে গর্ভধারনের চেষ্টার সময় এসব কাজ থেকে বিরত থাকা ভালো। একইভাবে, যদি আপনি বেশী বিমান ভ্রমন বা দাঁড়ানোর কাজ করেন তবে আগেই চিন্তা করুন গর্ভবতী হলে আপনি সেসময় কি করবেন? কারন গর্ভবতীর ক্ষেত্রে বেশী বিমান ভ্রমন বা দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপদ নয়। যদি সম্ভব হয় তবে চাকরির জায়গায় আগেই বলে রাখতে পারেন যে আপনি সন্তান ধারনের চেষ্টা করছেন এবং আপনার ঝুঁকি যুক্ত কাজ পরিহার করতে হবে।

একটি সুস্থ শিশু যেমন পরিবারকে দিতে পারে অনাবিল আনন্দ তেমনি অসুস্থ শিশু নানা সমস্যা বয়ে নিয়ে আসতে পারে। তাই বাচ্চা নিতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে আগে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন করতে হতে হবে যা নিশ্চিত করবে একটি সুস্থ গর্ভধারন ও সুস্থ শিশু।

আরও পড়ুনঃ গর্ভধারণের প্রস্তুতি । যে ১০ টি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment