শিশুর বেড়ে ওঠা । ১৫ মাস

Updated on

১৫ মাস বয়সের আপনার ছোট্ট শিশুটি এখন দুষ্টামিসহ বেশ খানিকটা পাজি এবং একদম সকল কাজের কাজি। এই সময়ে আপনি ছোট কোন কিছু নিয়ে আসা, ঘরে কোন ময়লা পড়ে থাকলে তা বিনে ফেলে দেয়া এবং কোন বই নিয়ে আসা সহ ছোট ছোট কাজে শিশুর সাহায্য নিতে পারেন। এইসব অভ্যাস আপনার শিশুকে আত্মপ্রত্যয়ি হতে এবং ঘরের নিয়মগুলো সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করবে।  

১৫ মাস বয়সের শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি

এই সময়ে আপনার শিশুর মধ্যে বিভিন্নভাবে অনেক কিছু নিয়েই পরিপক্বতা আসবে এবং রুটিন চেকআপ এর জন্য এই মাসেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তিনি আপনাকে শিশু পরিপূর্ণ ভাবে বেড়ে উঠছে কি না সে সম্পর্কে পূর্ণ ধারনা দিবেন। 

১৫ মাস বয়সের শিশুর ওজন এবং উচ্চতা

১৫ মাস বয়সের একটি শিশুর ঠিক কতটুকু ওজন এবং উচ্চতা থাকা উচিৎ? এ সম্পর্কে World Health Organization মতামত হল, ১৫ মাস বয়সের ছেলে এবং মেয়ে শিশুর স্বাভাবিক ওজন যথাক্রমে ২২.৭ পাউন্ড এবং ২১.২ পাউন্ড। একইভাবে স্বাভাবিক উচ্চতা যথাক্রমে ৩১.২ ইঞ্চি এবং ৩০.৫ ইঞ্চি। 

এই ১৫ মাস বয়সের রুটিন চেকআপের সময় আপনার শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা তা জানার জন্য ডাক্তার শিশুর ওজন, উচ্চতা এবং মাথার চারপাশের পরিপাম নিবেন। দেখা যেতে পারে যে, আপনার শিশুর  ১২ মাসের সময় যে রুটিন চেকআপ হয়েছিল তা থেকে দুই এক পাউন্ড ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে।

[ আরও পড়ুনঃ বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির চার্ট । ১৩-২৪ মাস ]

১৫ মাস বয়সের শিশুর মাইলস্টোনগুলো

আপনার শিশুর স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে রুটিন চেকআপের সময় ডাক্তার শিশুর মাইলস্টোনগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। এই বয়সের শিশুর মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসতে পারে যেগুলো আপাতদৃষ্টিতে একটু অন্যরকম মনে হলেও এগুলো খুবই স্বাভাবিক। তবে আপনার শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা সম্পর্কে আপনার যদি কোন প্রকার উদ্বেগ থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই এ সময় ডাক্তারের সাথে আলাপ করে নিবেন।

শিশুর হাঁটাঃ এই সময়ে দেখা যাবে আপনার শিশু নিজে থেকেই কয়েক পা এগুতে পারছে। তবে ১৫ মাস বয়সের অনেক শিশুই এই সময়ে বেশ ভালোভাবে হাঁটতে পারে। এমনকি কোন কোন শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যাবে সে দৌড়াতে পারছে এবং পিছনের দিকে হাঁটা শেখা শুরু করেছে।

আরও পড়ুনঃ শিশুর হাঁটতে শেখা ]

কথা বলাঃ এই বয়সের বেশিরভাগ শিশুই নুন্যতম একটা শব্দ আবার কেউ কেউ দুইটা শব্দ একসাথে বলতে পারে। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যাবে যে ইতোমধ্যেই সে দাদা, মামা এই ধরনের শব্দগুলো বলে ফেলেছে এবং নতুন নতুন শব্দ শেখার ব্যাপারে সে যথেষ্ট উদগ্রীব। সে হয়ত কুকুর, জুস, মাম এই ধরনের শব্দ বলা শুরু করেছে এবং দুধ খাওয়ানোর জন্য সে “দুদু” বলেও দুধ খেতে চাইতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বাচ্চার প্রথম কথা বলা কখন থেকে শুরু হয় ? ]

দাঁত উঠাঃ আপনার শিশুর প্রথম দাঁত ওঠা শুরু হতে পারে। দাঁত উঠাটা কোন কোন শিশুর জন্য বেশ কষ্টদায়ক হবে। আবার কারো ক্ষেত্রে আপনি একদিন হুট করেই দেখবেন যে মাড়ির ভেতরে ছোট ছোট সাদা রঙের দাঁত উঁকি দিচ্ছে। মূলকথা হল, এই বয়সে  শিশুর দাঁত উঠাটা খুবই স্বাভাবিক এবং যদি কিছুটা ব্যথাও করে এতে খুব একটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। 

আরও পড়ুনঃ শিশুর প্রথম দাঁত ওঠা ]

আশেপাশের অনেক কিছুই চেনাঃ এই বয়সে শিশু তার আশেপাশের অনেক কিছু চিনবে এবং সেগুলোর কাজ সম্পর্কে বুঝতে পারবে। যেমন ঝাড়ু দিয়ে ঘর ঝাড়ু দেয় অথবা চামচ দিয়ে খাওয়া দাওয়া করে। ১৫ মাস বয়সের বেশ কিছু শিশু তার শরীরের কোন অংশের কি নাম তা বুঝতে পারবে এবং আপনি শরীরের কোন অংশের নাম ধরে তার কাছে জানতে চাইলে সে আপনাকে দেখিয়ে দিতে পারবে।

১৫ মাস বয়সের শিশুর আচার আচরন

এই বয়সের একটি চঞ্চল এবং হাসিখুশি শিশু দেখতে বেশ দারুণই লাগে। তবে জেনে রাখা ভালো যে মেঘের আড়ালে যেমন সূর্য থাকে তেমন সূর্যের উপরেও হুট করে মেঘের ছায়া চলে আসতে পারে অর্থাৎ এই বয়সের একটি হাসিখুশি শিশুরও অনেক আচরণ থাকে যেগুলো আপনার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং। যেমনঃ

১৫ মাস বয়সের একটি শিশুকে কীভাবে শৃঙ্খলায় রাখবেন?

এই বয়সের শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যাবে যে সে অকারণেই রাগ করছে এবং অনেক কিছুই বুঝতে চাইছেনা। ব্যাপারটা এমনও হতে পারে যে, সে শুধু দেখতে চাইছে দেয়ালের মধ্যে রঙ ঢেলে দিলে সেটা দেখতে কেমন, অথবা সোফা অথবা অন্য কোন আসবাস বেয়ে উপরের দিকে উঠতে কেমন লাগে।

আবার কখনো দেখা যাবে কোন কিছু ফেলে দিচ্ছে অথবা সেটা বাড়ি দিয়ে আওয়াজ করতে তার ভালো লাগছে এবং এটা করতে সে বেশ আনন্দই পাচ্ছে। এসব কাজের ফলে সে অন্যদের যে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে সেটার কারণে মাঝে মাঝে এসব করতে পারে।  

১৫ মাস বয়সের আপনার চঞ্চল শিশুকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে হলে আপনাকে বেশ কিছু কাজ এবং তার পরিণতি সম্পর্কে শিশুকে বুঝাতে হবে।

এ সম্পর্কে কিছু টিপস নিচে বর্ণীত হলঃ 

কিছু জিনিস তার নাগালের বাইরেই রেখে দিন। সে যখন রিমোট, কলম, মোবাইল অথবা তার বাবার দামী ঘড়ি ধরছে প্রত্যেকবার তার কাছে থেকে সেগুলো না নিয়ে যেয়ে বরং সেই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো শিশুর নাগালের বাইরেই রেখে দিন।

কিছু নিয়ম এবং নিয়ম ভাঙ্গার পরিণতি ঠিক করে রাখুন এবং সেগুলো সম্পর্কে একটু সামান্য কঠোর হন। যেমন যদি দেখেন আপনার শিশু পোষা কুকুরের লেজ ধরে টানাটানি করছে তাহলে শাস্তি সরূপ তার খেলনাগুলো কিছুক্ষণের জন্য সরিয়ে নিন। দেখবেন ধীরে ধীরে সে এই কাজটা থেকে বিরত থাকছে।

মনোযোগ সরিয়ে নেয়া—এই বয়সের শিশুর সাথে রাগ দেখানো অথবা বকাঝকা করলে সে কিন্তু আদতে কিছু শিখতে পারবে না। এক্ষেত্রে আপনার শিশু যদি কোন কাজ করে যেটা ক্ষতিকর অথবা রাগ দেখায় তাহলে অন্য ভালো কোন কিছু দিয়ে তার মনোযোগ সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করুন। 

সবসময় শান্ত থাকার চেষ্টা করুন। বাচ্চার কোন কাজে হুট করে আতংকিত হওয়া যাওয়া অথবা রেগে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শান্ত থাকার চেষ্টা করুন, এতে করে আপনার শিশু আপনার কাছ থেকে শান্ত থাকার ব্যাপারটা ধীরে ধীরে শিখে নিবে।

১৫ মাস বয়সের শিশুর স্বাস্থ্য

কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় আপনার শিশু প্রায় সময়েই অসুস্থ থাকে, বিশেষ করে আপনার অফিসের সময় যাদের ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখা হয়। ১৫ মাস বয়সের শিশুদের বাবা মায়েদের মনে এই প্রশ্নগুলো প্রায়ই আসেঃ

১৫ মাস বয়সের শিশুর ঘুম

আপনি হয়ত ইতোমধ্যেই আপনার শিশুর প্রতিদিনকার ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই জেনে গেছেন। তবুও দাঁত উঠার কারণে, সাময়িক অসুস্থতার জন্য অথবা তার জেগে থেকে খেলতে চাওয়ার জন্য মাঝে মধ্যে এই রুটিনের কিছুটা পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। 

১৫ মাস বয়সের একটা শিশুর প্রতিদিন কতটুকু ঘুম প্রয়োজন?

এক থেকে দুই বছর বয়সের শিশুর দৈনিক ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা করে ঘুম প্রয়োজন। সাধারণত এই বয়সের শিশুরা দিনের বেলা একবার ঘুমানো শুরু করে। তাই দুপুরের খাবার পরে তার ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করার চেষ্টা আপনি করতে পারেন। এর জন্য দুপুরের খাবার যদি একটু দ্রুত খাওয়াতে হয়, তবুও এই অভ্যাস তৈরি করার চেষ্টা করুন। 

১৫ মাস বয়সের শিশুর ঘুমের অনিয়ম

এই বয়সে ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখাটা শিশুর জন্য খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। আর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল স্বপ্ন আর বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য করার মত বুদ্ধির পরিপক্বতা তার এখনো হয়নি। এমনকি এজন্য রাতের বেলা চিৎকার করে কেঁদে উঠতে পারে।

আর তাই শিশু যখন ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে উঠে যাবে, তাকে আপনার খুব ভালোভাবে বুঝাতে হবে যে সেটা শুধুই স্বপ্ন, আপনি তার সাথেই আছে। যদিও স্বপ্ন এবং বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য করার ব্যাপারটা বুঝতে তার কিছুটা সময় লাগবে তাই তাকে এই সময়ে সান্ত্বনা দেয়াটা খুবই জরুরী।   

[ আরও পড়ুনঃ শিশুর গড়ে ওঠা ঘুমের অভ্যাসের হঠাৎ পরিবর্তন বা স্লীপ রিগ্রেশন ]

১৫ মাস বয়সের শিশু যখন ঘুমবে না

দুঃস্বপ্ন জনিত কারণ ছাড়াও আরো অনেক কারণেই আপনার শিশু ঘুমানোর জন্য অস্বীকৃতি জানাতে পারে। কখনো এমন হতে পারে যে সে কোন কার্টুন অথবা অন্য কিছু মিস করতে চাচ্ছেনা। তাই ঘুমানোর বেশ কিছুক্ষণ আগেই টিভি, মোবাইল অফ/সাইলেন্ট করে রাখুন। শিশুকে ঘুমানোর আগে গল্পের বই পড়ে শুনান এবং সবকিছু যাতে খুব স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে সেই চেষ্টা করুন। যেমন, যদি ঘুমানোর আগে দুইটা গল্প পড়ে শুনান তাহলে সেই দুইয়ের মধ্যেই সবসময় সীমাবদ্ধ থাকবেন, কেননা মাঝে মধ্যে যদি চার পাঁচটা গল্প পড়ে শুনান তাহলে সে প্রায়ই আরো গল্প শুনানোর জন্য জেদ করে নাও ঘুমাতে পারে। 

[ আরও পড়ুনঃ ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের শিশুর সঠিক ঘুমের অভ্যাস কিভাবে গড়ে তুলবেন ]

১৫ মাস বয়সের শিশুর খাবার

আপনি কখনো দেখবেন যে আপনার শিশু সবসময় খাবার খেতে চাচ্ছে না অথবা বেছে বেছে খাবার খাচ্ছে। এই বয়সের এগুলো কিন্তু খুবই স্বাভাবিক।

১৫ বয়সের শিশু কতটুকু খাবার খাবে?

এই বয়সের শিশুকে দৈনিক তিন-বেলা খাবার এবং দুই বেলা নাস্তা দিন। আপনার শিশুকে এই সময় সবজী, ফল, শস্যজাতীয় খাবার, প্রোটিন ও দুগ্ধজাত খাবারের মধ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে দিতে পারেন।

ডাক্তারদের মতে এই বয়সের শিশুদের দৈনিক এক হাজার ক্যালোরি প্রয়োজন হয় এছাড়াও অন্যভাবে এই ক্যালোরির হিসেব করতে পারেন। সেটা হল, প্রতি ইঞ্চি উচ্চতার জন্য তার ৪০ ক্যালোরি করে খাবার প্রয়োজন হয়। তবে এত হিসেব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, পূর্ণ বয়স্ক একজন মানুষ যে পরিমাণ খাবার খায় তার চার ভাগের এক ভাগ খেতে দিলেই হবে। এরপর কি ধরনের খাবার তার বেশি পছন্দ ও অপছন্দ এবং সে কতটুকু খাবে এগুলো তার উপরেই ছেড়ে দিন।

যখনই সম্ভব হয় খাবারের সময়টা একটু আনন্দের করুন। পরিবারের সবাই মিলে একসাথে খাওয়া দাওয়া করাটা আপনার শিশুর নিত্য নতুন খাবার খেতে, সামাজিক হতে এবং সুন্দর আচার আচরণের সাথে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।  

আপনার শিশুকে পূর্ণ ননী যুক্ত দুধ অথবা বুকের খাওয়ান, যদি না ডাক্তার সেটা দিতে নিষেধ করে থাকেন। এই বয়সে শিশুর দৈনিক ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। তাই যদি অন্য কোন খাবার থেকে শিশু ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ না করে থাকে তাহলে তাকে ৮ আউন্স পরিমাণের কাপে দৈনিক তিন কাপ দুধ খাওয়ান।

আপনি যদি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাহলে খাওয়ানো বন্ধ করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা দুইজনেই এক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। যদি ১৫ মাস বয়সের শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিতে চান তাহলে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখবেন, দুধ ছাড়ানোটা যেন ধীরে ধীরে হয়। একদম হুট করে কয়েক দিনের মধ্যেই বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিবেন না। যেমন, আরেক বেলা বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার আগে নুন্যতম তিন দিন থেকে সাত দিন ধরে এক বেলা বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে রাখুন। এরপর আরো এক বেলা বন্ধ রাখুন সাতদিন ধরে।

আপনি যদি খুব দ্রুত বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিতে যান তাহলে বুকে দুধ জমে গিয়ে ইনফেকশন হতে পারে। বুকের দুধ ছাড়ানোর সময় শিশুকে যথেষ্ট পরিমাণ সময় দিন এবং তার দুধ খাওয়ার সময় হলে অন্য কিছু দিয়ে তাকে ব্যস্ত রাখুন যাতে করে সে ধীরে ধীরে ব্যাপারটা ভুলে যায়।

১৫ মাস বয়সের শিশু যদি খেতে না চায়

আপনার ১৫ মাস বয়সের শিশু যদি কোন কিছু খেতে না চায় এবং একদম সুস্থ স্বাভাবিক থাকে তাহলে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সে হয়ত খাবারটা খেতে পছন্দ করছেনা। যতক্ষণ পর্যন্ত ডাক্তার শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির দিকে খেয়াল রাখছেন নিয়মিত ততক্ষণ এইসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

আপনার শিশুকে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে দিন এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে যতটা সম্ভব বিরত রাখুন। আপনার ১৫ মাস বয়সের শিশুকে খাবার খাওয়ানোর ক্ষেত্রে একটা ব্যাপার সবসময় খেয়াল রাখবেন, তাকে খুব বেশী জোর করে খাওয়াতে যাবেন না।   

অপরদিকে আপনার শিশু যদি একদমই কোন খাবার খেতে না চায়, তাহলে এটা কোন প্রকার অসুস্থতার লক্ষণও হতে পারে। এক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দ্রুত আলাপ করুন।

১৫ মাস বয়সের শিশুর সাথে যে অ্যাক্টিভিটিগুলো করা যেতে পারে

আপনার এই বাড়ন্ত শিশুটির সাথে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে ইদানীং আপনার বেশ ভালোই লাগে, তাই না? এই সময়ে শিশুর সাথে অনেক কিছুই করা যায়, যেগুলো শিশুর সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা অনেক মধুর ও সুন্দর হয়ে উঠার সাথে সাথে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সহায়তা করে।

১৫ মাস বয়সের শিশুর সাথে কী করবেন?

নিম্নে ১৫ মাস বয়সের শিশুর বিভিন্ন ধরনের মজা, খেলা ও খেলনাগুলো সম্পর্কে একটা ধারনা দেয়া হলঃ

বল খেলাঃ ১৫ মাস বয়সটা শিশুর সাথে বল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলার জন্য একদম সুন্দর একটা সময়।

রঙ করাঃ অনেক শিশুই এই সময়ে নিজে থেকে খাতার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রঙ করতে পারে। শিশুকে রঙ পেন্সিল এবং খাতা দিয়ে বসিয়ে দিন, হয়ত তার প্রতিভা বিকাশটা এখান থেকেই শুরু হবে। সে কিছুদিনের মধ্যেই দেখবেন খাতার মধ্যে রঙ পেন্সিল দিয়ে বিভিন্ন দাগ টানতে পারছে।

গল্পের বই পড়াঃ আপনার শিশু হয়ত ইতোমধ্যেই তার প্রিয় বইয়ের পাতা উল্টানো শিখে গেছে। বিভিন্ন ধরনের ছবিসহ গল্পের বই তার সাথে পড়ার চেষ্টা করবেন এবং কোন ছবিটা কিসের এগুলো সে যাতে বুঝতে পারে সে চেষ্টাও করতে পারেন।

১৫ মাস বয়সের শিশুর ক্ষেত্রে কিছু প্রয়োজনীয় টিপস

  • আপনার শিশুকে ১৫ মাসের রুটিন চেকআপে নিয়ে যান
  • আপনার শিশুকে প্রয়োজনীয় টিকা দিন।
  • ১৮ মাসের রুটিন চেকআপের জন্য শিডিউল ঠিক করে রাখুন ডাক্তারের সাথে
  • শিশুর জন্য নিরাপদ খেলার জন্য একটা যায়গা তৈরি করতে পারেন এবং শিশুকে বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে খেলতে হয় এমন খেলনা কিনে দিন, যেমনঃ লেগো, আকৃতি অনুযায়ী বক্স সাজানো ইত্যাদি।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts