শিশুর বেড়ে ওঠা । ১৪ মাস

১৪ মাস বয়সের শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি

আপনার শিশুটি হয়ত এখন দৌড়ে বেড়াচ্ছে ঘর জুড়ে অথবা অচিরেই হাটা শুরু করবে আর তাই তার ছোট্ট মনে সাহস সঞ্চয় করছে প্রথম বারের মত দুই এক কদম পা ফেলার জন্য। এই সময়টাতে সে হয়ত পড়ে যেতে পারে, হোঁচট খেতে পারে, কেননা হাটার জন্য পা ফেলার যে ভারসাম্যের দরকার তা হিসেব করাটা তার জন্য এখন অতটা সহজ নয়, এই বোধগুলো পরিপক্ব হতে আরো কিছু সময় প্রয়োজন।

আপনার ছোট ছোট উৎসাহ তার জন্য এখন অনেক বড় প্রয়োজন। তার এই হুট হাট পড়ে যাওয়ার পর আপনি যদি বকা না দিয়ে তাকে বলেন, এইতো বাবু! সাবাস! তুমি পারবে! তাহলেই সে পড়ে যাওয়ার ফলে কান্না না করে বরং দিগুণ উৎসাহে আবার হাটার চেষ্টা শুরু করবে।

আপনি হয়ত দেখবেন কীভাবে সে এলোমেলো পা ফেলে হাঁটছে, দেখা যাবে একবার সে পায়ের পাতায়  ভর দিচ্ছে তো আবার গোড়ালিতে! হয়তোবা তার পা একটু বাঁকাও লাগতে পারে। ১৪ মাসের সময়, একটা শিশুর জন্য এগুলো খুবই স্বাভাবিক কিছু ব্যাপার, একটু অপেক্ষা করেই দেখুন  অচিরেই সে ঠিক ভাবে হাঁটতে পারবে।

১৪ মাস বয়সের শিশুর ওজন এবং উচ্চতা

১৪ মাস বয়সের একটু শিশুর ওজন এবং উচ্চতা ঠিক কি পরিমাণে হওয়া উচিত? World health Organization এর মতে ১৪ মাস বয়সের ছেলে ও মেয়ে শিশুর স্বাভাবিক ওজন হল যথাক্রমে ২২.৩ পাউন্ড ও ২০.৭ পাউন্ড এবং একই ভাবে স্বাভাবিক উচ্চতা হল যথাক্রমে ৩০.৭ ইঞ্চি ও ৩০.১ ইঞ্চি। যদিও এই উচ্চতা এবং ওজনের পরিমাপ খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, আসল কথা হল আপনার শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠা।

প্রতি মাসে এই বয়সে আপনার শিশুর হয়ত আধা পাউন্ড করে ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আধা ইঞ্চি করে উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে তবে এ নিয়ে এখন চিন্তার কিছু নেই, কারণ আর এক মাস পরেই আপনার শিশুর ১৫ মাসের রুটিন চেকআপের সময় ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখবে যে শিশুর বৃদ্ধি ঠিক আছে কি না।

[ আরও পড়ুনঃ বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির চার্ট । ১৩-২৪ মাস ]

১৪ মাস বয়সের শিশু যে মাইলস্টোনগুলো অতিক্রম করবে

এই সময়ে আপনার ছোট্ট শিশুটি বেশ কয়েকটা ব্যাপারে দক্ষতা অর্জন করার চেষ্টা করবে। তার মধ্যে অন্যতম কিছু মাইলস্টোন হলো-

হাঁটাঃ বেশীরভাগ ১৪ মাস বয়সের শিশুই নিজে নিজে দাঁড়াতে পারে এবং কারো সাহায্য ছাড়াই প্রথম কয়েক পা ফেলতে পারে। প্রায় অর্ধেকের বেশি শিশু এই সময়ের মধ্যেই হাঁটা শুরু করে দেয় আর কিছু চঞ্চল শিশু হয়তোবা এই সময়ে ইতোমধ্যে দৌড়চ্ছে অথবা কোন কিছু বেয়ে বেয়ে উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে।

[ আরও পড়ুনঃ শিশুর হাঁটতে শেখা ]

কথা বলাঃ এই সময়ের শিশুরা মামা, দাদা এই ধরনের কথা বলতে পারে আবার কেউ কেউ প্রায় ছয়টি শব্দের মত কথা বলতে পারে।

[ আরও পড়ুনঃ বাচ্চার প্রথম কথা বলা কখন থেকে শুরু হয় ? ]

দাঁত ওঠাঃ এই সময়ে বেশীরভাগ শিশুদের দাঁত ওঠা শুরু করে। দাঁত ওঠার সময় কারো ব্যথা নাও হতে পারে কিন্তু আবার দেখা যায় অনেককেই বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয় এই দাঁত ওঠার জন্য। তাই এই সময়ে প্রচণ্ড ব্যথা থেকে শিশুদের কিছুটা আরামের জন্য ব্যথানাশক “acetaminophen” অথবা “ibuprofen” খাওয়াতে পারেন। তবে তার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

[ আরও পড়ুনঃ শিশুর প্রথম দাঁত ওঠা ]

পটি করার জন্য প্রশিক্ষণঃ আপনি কি এখনই ভাবছেন, আপনার ১৪ মাস বয়সের শিশুকে কি এই সম্পর্কে শিখানোর সময় হয়েছে? না, এখনো এইসব বিষয়ে শিশুকে শেখানোর সময় হয়নি। তবে এই বিষয়ে শিশুকে শেখানোর সঠিক সময় আসলে কোনটা তা নিয়ে ডাক্তাররা এখনো একমত হতে পারেন নি।

তবে একটা বিষয়ে সবাই একমত যে, এই বিষয়ে শেখানোর জন্য আপনার শিশু কি এখন প্রস্তুত হয়েছে কি না সেটা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। ধীরে ধীরে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করতে পারেন, মলত্যাগের চাপ আসলে তাকে কি করতে হবে অথবা কোন বই নিয়ে তাকে পড়ে পড়ে বুঝানোর চেষ্টা করতে পারেন।

[ আরও পড়ুনঃ বাচ্চার পটি ট্রেনিং বা টয়লেট ট্রেনিং এর কিছু টিপস ]

১৪ মাস বয়সের শিশুর আচার আচরণ

বদমেজাজঃ আপনার ছোট্ট শিশুটি দেখা যাবে প্রায় সময় অনেক রেগে যাচ্ছে হুট করেই। এগুলো শৈশবে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। বেশীরভাগ সময় ১৭ থেকে ২৪ মাসের দিকেই শিশু এমন হুট করে রেগে যায় এবং বদমেজাজ দেখায়। বুঝতেই পারছেন, এই সময়টার জন্য প্রস্তুতি নিতে আপনি প্রায় বছর-খানেক সময় পাচ্ছেন। এই সময়ে শিশুকে বুঝানোর চেষ্টা করবেন বেশি করে, এবং সবশেষে আপনার জন্য প্রধান বিষয় হল, এমন অবস্থাগুলোতে আপনাকে শিশুর প্রতি খুবই ধৈর্যশীল আচরণ করতে হবে। 

আপনার থেকে দূরে থাকতে না চাওয়া বা সেপারেশন অ্যাংজাইটিঃ আপনার শিশুটি ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হতে শেখা শুরু করবে এই সময়ে তবে একই সাথে আপনার থেকে একটু দূরে চলে যাওয়ার ব্যাপারেই সে প্রচণ্ড সংবেদনশীল হবে।

শিশুকে ‘ডে-কেয়ারে’ অথবা তার “দাদা-দাদির” কাছে রেখে আপনার কোথাও যাওয়াটা তার জন্য খুবই কষ্টের। কিন্তু কষ্ট হলেও আপনার এ রুটিন মেনে চলতে হবে এবং আপনার শিশুকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে আপনি ফিরে আসবেন এবং যখন আপনি ফিরে আসবেন তখন তার প্রতি একটু বেশিই মনোযোগী হতে হবে এবং এতে করে আপনি চলে যাওয়ার একটু পরই তার কান্না থেমে যাবে।

অটিজমের লক্ষনঃ বাবা-মা দের একটা সাধারণ উদ্বেগের বিষয় হল, তাদের শিশু কি অটিজমে ভুগছে কি না। অটিজম এই শৈশব কাল থেকে কিন্ডারগার্ডেন পর্যন্ত যে কোন সময় দেখা যেতে পারে। অটিজমে ভোগা শিশুরা সবার সাথে কথা বলার ও সামাজিক আচার আচরণের ক্ষেত্রে একটু অন্যরকম হবে। তারা আর আট দশটা সমবয়সী শিশুর মত সেই সব মাইলস্টোন হয়ত অতিক্রম করবেনা আবার এমনটাও দেখা যেতে পারে যে কোন কাজে তাদের দক্ষতা আগের থেকে কমে আসছে।

আপনার শিশুর অটিজম আছে কিনা এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ১৮ মাস বয়সের রুটিন চেকআপের সময় আপনাকে বেশ কিছু প্রশ্ন করবেন। তবে তার আগেই আপনি যদি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান, তাহলে আগে থেকেই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করে নিন।

যখন তখন কামড়ে দেয়াঃ আপনার শিশু হয়ত আপনার হাত কামড়ে দিতে পারে, তবে এতে ভয়ের কিছু নেই। কিছুদিনের মধ্যেই এই যখন তখন কামড়ে দেয়ার অভ্যাস ঠিক হয়ে যাবে। এছাড়াও তারা যখন কোন ব্যাপারে তাদের আবেগ অথবা রাগ প্রকাশ করতে পারেনা তখনই তারা কামড়ে দেয়। বেশীরভাগ বাবা মা’রাই এই বিষয়গুলো খুব সহজেই মেনে নেন, তবে এই মেনে নেয়ার সাথে আপনাকে একটা ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে, আর সেটা হল আপনার শিশুকে এটা বুঝাতে হবে যে কামড়ানো কোন ভালো কিছু নয় এবং এটা মেনে নেয়ার মত কোন বিষয়ও নয়।  

১৪ মাস বয়সের শিশুর ঘুম

১৪ মাসের সময়ে ঘুমানোর অভ্যাসটা রুটিনের মধ্যে চলে আসবে। আর আপনার সচেষ্ট হতে হবে যাতে আপনার শিশু প্রতি রাতে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার ব্যাপারটার সাথে অভ্যস্ত থাকে। তবে এটা আপনার জেনে নেয়া ভালো যে, কিছু কিছু সময়ে সবকিছু আমাদের আগের প্রস্তুতি অনুযায়ী চলে না। কিছুটা ব্যতিক্রম মাঝে মধ্যে হতেই পারে। 

১৪ মাস বয়সের শিশুর ঠিক কতটা ঘুমের প্রয়োজন?

এই বয়সে প্রতিদিন একটি শিশুর ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন, হোক সেটা টানা একবারে অথবা সারাদিন ও রাত মিলিয়ে বেশ কয়েকবারে।

এই ঘুমের ব্যাপারগুলো কেমন হতে পারে, নিচে কিছু উদাহরণ দেয়া হলঃ

১৪ মাস বয়সের শিশুর অনিয়মিত ঘুম

আগে আপনার শিশুর ভালো ঘুম হলেও বিভিন্ন ধরনের স্বপ্ন, দাঁত উঠার ব্যথা অথবা আপনার সাথে দুরত্বের ব্যাপারে উদ্বেগ এই সমস্ত কারনে আপনার ১৪ মাস বয়সের ছোট্ট শিশুটি মাঝরাতে প্রায়শই জেগে উঠতে পারে।

আপনি যদি তার স্বাভাবিক ঘুমের অভ্যাসে তাকে আবার ফিরিয়ে নিতে চান, তাহলে আপনাকে এই বারবার জেগে উঠার মূল কারন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। কারন জেনে নিতে পারলে আপনি খুব সহজেই কিন্তু শিশুকে আবার সেই পূর্বের নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। এই অবস্থায় রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়টা যেন ঠিক থাকে সে ব্যাপারে আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে, কেননা এই অভ্যাস শিশুকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সাহায্য করবে।     

১৪ মাস বয়সের শিশু ঘুমাতে চাচ্ছে না?

আপনি হয়ত ইতোমধ্যেই বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্থ কেননা আপনি জোর করেও শিশুকে ঘুম পাড়াতে পারছেন না। ঘুমানোর সময়ে আপনার শিশু যদি অনীহা দেখায় তাহলে আপনাকে এমন কিছু করতে হবে যাতে করে সে নিজে থেকেই ঘুমিয়ে যায়। এর মানে হল, সারাদিন সে যাতে অনেক খেলাধুলা করে তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, নির্দিষ্ট সময় বিছানায় শোওয়াতে হবে আর অবশ্যই টিভি, মোবাইল এগুলো ঘুমানোর প্রায় ঘন্টা খানেক আগে থেকেই বন্ধ করে রাখুন।

১৪ মাস বয়সের শিশুর খাবার

আপনার ১৪ মাস বয়সের বাড়ন্ত শিশুটি হয়ত এখন নিত্য নতুন খাবার খাচ্ছে অথবা দেখা যাবে যে হুট করেই তার আগের পছন্দের খাবারটি এখন অপছন্দ করছে। তবুও সেই খাবারটি তাকে দেয়া বন্ধ করবেন না, কেননা সে আসলে এখনো বুঝার চেষ্টা করছে যে কোন খাবারটি তার পছন্দ আর কোনটি অপছন্দ।

১৪ মাস বয়সের শিশু কতটুকু খাবার খাবে?

১৪ মাস বয়সের একটি শিশু স্বাভাবিক ভাবে প্রতিদিন তিনবার খাবার খাবে এবং দুইবার নাস্তা করবে। তাকে এই সময়ে প্রতিদিন সবজী, ফল, শস্য জাতীয় খাবার, প্রোটিন ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার থেকে বিভিন্ন রকমের খাবার দিতে পারেন।  শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে এই বয়সে শিশুদের প্রতিদিন এক হাজার ক্যালোরি প্রয়োজন হয় অথবা কতটুকু খাবার তার লাগবে এটা অন্যভাবে বুঝে নিতে পারবেন। প্রতি ইঞ্চিতে চল্লিশ ক্যালোরি খাবার সাধারণত এই বয়সী শিশুদের প্রয়োজন হয়।

এত হিসেব করতে হবে ভেবে অবাক হচ্ছেন? না অতটা প্রয়োজন নেই, সাধারণ একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ যতটুকু খাবার খায়, তার চার ভাগের এক ভাগ খাবার দিবেন। এরপর শিশুকেই নির্ধারণ করতে দিন তার খাবারের পরিমাণটুকু।

১৪ মাস বয়সের শিশুকে কি খাওয়াবেন?

এই সময়ে শিশুকে পূর্ণ ননী যুক্ত দুধ অথবা বুকের দুধ খাওয়াবেন যদি না ডাক্তার তাকে এটা দিতে মানা করে। এই বয়সের একটি ছোট্ট শিশুর প্রতিদিন গড়ে ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। আর তাই অন্য কোন খাবার থেকে যদি শিশু এই ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ না করতে পারে তাহলে তাকে প্রতিদিন আট আউন্স পরিমাপের কাপে তিন কাপ দুধ খাওয়াবেন অর্থাৎ ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করার জন্য তাকে প্রতিদিন ২৪ আউন্স দুধ খাওয়াতে হবে।  

শিশুকে বিভিন্ন ধরণের খাবার দিতে হবে। আমার আপনার মতই তাকে সব খাদ্য শ্রেণী থেকে বিভিন্ন ধরণের খাবার দিতে হবে। এ সময় বাচ্চার খাবারে ফ্যাট বর্জন করার প্রয়োজন নেই। কারণ তা বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক। তবে মনে রাখতে হবে তাকে অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং ঘি সমৃদ্ধ খাবার যেন দেয়া না হয়। যতটুকু সম্ভব তাকে প্রাকৃতিক খাবার দেয়ার চেষ্টা করুন।

১৪ মাস বয়সের শিশুকে যে ধরনের খাবার দিতে পারেন

বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এই ১৪ মাস বয়সের শিশু নিজে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু নিজে থেকে খাওয়া দাওয়া করতে গেলে, খাবার তার গলায় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই তাকে তার পছন্দের খাবারটি ছোট ছোট টুকরো করে দিন যাতে করে সে সহজেই তা খেতে পারে। ১৪ মাস বয়সের একটি শিশুর জন্য বাদাম, গাজর অথবা ক্যান্ডি একটু শক্ত খাবার হয়ে যেতে পারে। এছাড়া গলায় যাতে আটকে না যায় তাই তাকে আঙ্গুর, চেরি, টমেটো বা অন্যান্য ফল ছোট ছোট টুকরো করে খাওয়াতে পারেন।

১৪ মাস বয়সের শিশু খেতে চাচ্ছে না?

ইতোমধ্যেই আপনি হয়ত বুঝে গিয়েছেন যে খাবার বেছে খাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার শিশুটি খুবই উদ্যোগী। আর তাই মাঝে মধ্যে যখন খাবার সে ছুঁয়েও দেখতে চায় না তখন শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে আপনার উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠাটা খুবই স্বাভাবিক।

এখানে একটা ব্যাপার মাথায় রাখবেন, দিনশেষে আপনার শিশু কিন্তু কিছু না কিছু খাবেই। আর তাই শিশু বিশেষজ্ঞের মতে, শিশুর খাদ্যাভ্যাস জাতীয় পুষ্টি বিষয়ে প্রতিদিনের হিসেব রাখবেন না বরং প্রতি সপ্তাহে গড়ে সে ঠিকমত খাচ্ছে কি না সেটাই দেখবেন। আর তাই পুরো সপ্তাহে তার খাবার পরিমাণ গড়ে যদি ঠিক থাকে আর তার ওজন এবং বৃদ্ধি যদি ঠিক থাকে তাহলে মাঝে মধ্যে একদিন অথবা একবেলা কম খেতে চাওয়া অথবা না খেতে চাওয়া নিয়ে অতটা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না।

১৪ মাস বয়সের শিশুর সাধারণ কাজগুলো

১৪ মাস বয়সের একটি শিশু এখন আগের থেকে অনেক বেশি বাড়ন্ত এবং চঞ্চল। সে এখন নিত্য নতুন খেলা শিখছে, সেটা হতে পারে বসে, দাঁড়িয়ে অথবা হেঁটে। আপনাকে কিছুই করতে হবে না, শুধু তার দিকে একটু লক্ষ্য রাখবে হবে।

১৪ মাস বয়সের শিশুর সাথে যা করতে পারবেন

১৪ মাস বয়সের শিশুর খেলা, খেলনা অথবা আনন্দের কাজগুলো হলঃ

হাত তালি দেয়াঃ এই বয়সের শিশুরা হাত তালি দিলে আপনাকে অনুকরণ করার চেষ্টা করবে।

কোন কিছু ঠেলে নেয়ার খেলাঃ ঠেলে ঠেলে এক জায়গা থেকে অন্য যায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ছোট বাচ্চাদের অনেক ধরনের খেলনা পাওয়া যায়। যে সব বাচ্চারা নতুন হাঁটা শিখছে তাদের জন্য এই ধরনের খেলনা বেশ আনন্দদায়ক।

ছোট ব্লক/লেগো দিয়ে খেলাঃ লেগো অথবা ছোট ছোট ব্লক দিয়ে টাওয়ার বানানো অথবা পাশাপাশি দুইটা ব্লক বানানো এগুলো এই বয়সের শিশুদের জন্য বেশ মজার খেলা।

আকৃতি বোঝার খেলাঃ ছোট ছোট খেলনা পাওয়া যায় যেগুলো দিয়ে খেললে শিশুর যে কোন কিছুর আকৃতি বুঝতে সহজ হয় এবং তার বুদ্ধিরও পরিপক্বতা আসে।

১৪ মাস বয়সের শিশুর জন্য কিছু টিপস

  • এই সময়ে খাবারের সময় সাথে কাপ, চামচ অথবা কাঁটাচামচ রাখবেন এবং এগুলোর ব্যাবহার সম্পর্কে শিশুকে নিয়মিত শেখানোর চেষ্টা করবেন। শুরুতে এটা বেশ কষ্ট সাধ্য হলেও, কিছুদিনের মধ্যেই দেখবেন আপনার শিশু এগুলো ব্যাবহার খুব ভালোভাবেই করতে পারছে।
  • আপনার ছোট্ট শিশুটি এই সময়ে হাতের কাছে যা পায় তাই ছুঁড়ে ফেলতে এবং এলোমেলো করে ফেলতে পছন্দ করে। আর তাই তার হাতের কাছে ক্ষতিকর কিছু রাখবেন না। কোন কিছু যদি ছোট্ট শিশুর জন্য ক্ষতিকর হয় তবে তা শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন
  • আপনার শিশুর খেলনা গুছিয়ে রাখার সময় গান ছেড়ে দিয়ে শিশুর সাথে গান গাইতে গাইতে মজা করে দুইজন মিলে খেলনা গুছিয়ে রাখতে পারেন।

[ আরও পড়ুনঃ বাচ্চার সাথে সুন্দর সময় কাটানোর ১০ টি টিপস ]

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.