শিশুর বমি । কখন স্বাভাবিক কখন নয়

শিশুর বমি নিয়ে মা-বাবারা প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এটা তেমন গুরুতর নয়। বাচ্চারা যেহেতু মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে না, তাই কিছু হলেই কান্না করে। গরম বা শীত লাগুক, মশা কামড়াক, যাই হোক না কেন তার বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ হলো কান্না। কিন্তু মায়েরা সব কান্নাকেই মনে করেন বাচ্চার খিদে লেগেছে, এতে জোর করে মুখের ভেতর স্তন পুরে দেন, যার ফল হলো বমি।

যারা বলেন তাদের শিশু খাওয়ার পরপর বমি করে। তাদের জানতে হবে যে, তারা যেটাকে বমি বলছেন তা হয়তো সবসময় বমি নয়।মায়ের দুধ পর্যাপ্ত না থাকলে দুধ খাওয়ার সময় শিশুর মুখে প্রচুর বাতাস ঢুকে যায়। এই বাতাস পাকস্থলি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কিছু দুধ নিয়ে বের হয়। এই বের হওয়া দুধ যাকে `তুলে দেওয়া` বলা হয়, আপনি হয়তো সেটাকেই বমি ভাবছেন।

“তুলে দেওয়া” কেন হয়?

বাচ্চা যখন দুধ খায় তখন তা গলা থকে অন্ননালীর মাধ্যমে তার পাকস্থলীতে পৌছায়। পেশিযুক্ত একটি রিং দিয়ে অন্ননালী এবং পাকস্থলী যুক্ত থাকে। দুধ খাওয়ার পর এ রিংটি খুলে যায় ফলে দুধ পাকস্তলীতে ঢুকতে পারে। এরপর রিংটি আবার বন্ধ হয় যায়। যদি এ রিংটি কোন কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে না যায় তাহলে পাকস্থলী থেকে দুধ আবার উপড়ে উঠে আসতে পারে। একে রিফ্লাক্স বলে।

বাচ্চাদের রিফ্লাক্স হয় কারণ তাদের পাকস্থলী ছোট থাকে। অনেকটা তাদের হাতের মুঠি বা একটি গলফ বলে সমান, তাই তা খুব তাড়াতাড়ি পূর্ণ হয়ে যায়। এছাড়াও যে ভালভের মাধ্যমে তাদের পাকস্থলী এবং অন্ননালী যুক্ত থাকে তা সাধারনত ৪-৫ মাসের দিকে পুরোপুরি সুগঠিত হয়ে ওঠে। এর পর সাধারনত বাচ্চার “তুলে দেওয়া” বন্ধ হয়ে যায়।

শিশু যখন মায়ের বুকের দুধ পান করতে যায় আর বুকে যদি দুধ কম থাকে তবে শিশু বুকের দুধ খাওয়ার সময় প্রচুর বাতাস খায়। আবার বুকে যদি দুধ বেশি থাকে এবং সে দুধ খুব বেশি তাড়াতাড়ি শিশুর মুখে আসে তাহলেও শিশু অনেকটা বাতাস খেয়ে ফেলতে পারে। যে সকল শিশু বোতলে বা ফিডারে দুধ খায় সে ক্ষেত্রে যদি বোতল উপড় করে না ধরা হয় তবে নিপলের অর্ধেকটায় বাতাস আর অর্ধেকটায় দুধ থাকে। ফলে এক্ষেত্রেও শিশু প্রচুর বাতাস খায়। দুধ খাওয়ার শেষে এই বাতাস পাকস্থলি থেকে বেরিয়ে যেতে চায় এবং বের হবার সময় কিছু দুধ নিয়ে বের হয়। এটাই হলো ‘তুলে দেয়া’। এই ‘তুলে দেয়া’  দুধকে অনেকে বমি বলে ভুল করেন। আসলে এটা বমি নয়। এই দুধ আবার অনেক সময় শিশুরা গিলেও ফেলে।

বমি এবং তুলে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য কি?

বমি এবং তুলে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য করাটা একটু কঠিন যেহেতু দুটো দেখতে একই ধরনের এবং দুটোই সাধারনত খাওয়ার পরেই হয়। তারপরও এদুটোর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

বাচ্চা যখন দুধ তুলে দেয় তখন সে অনেকটা নির্বিকার থাকে এবং দুধ বা খাবার সজোরে বের হয়না। সাধারনত তা মুখ দিয়ে গড়িয়ে পরে। বাচ্চার মধ্যে কষ্ট পাওয়ার তেমন কোন লক্ষণও দেখা যায়না। এটা বাচ্চাদের জন্য স্বাভাবিক এবং সাধারনত কোন ভয়ের কারণ নয়।

কিন্তু বাচ্চা যখন বমি করে তখন তার পেটের খাবার সজোরে বেড়িয়ে আসে, যাতে তার কষ্ট হয় এবং কান্নাকাটি করতে পারে। বাচ্চার বমির পরিমানও “তুলে দেওয়ার” চাইতে বেশী থাকে। বমির সমস্যা থাকলে আরও কিছু উপসর্গ থাকতে পারে, যেমন- জ্বর বা বাচ্চার মেজাজ খারাপ থাকা ইত্যাদি।

বাচ্চার বমির কারণ

বাচ্চা যদি বমি করে তবে তার কারণ খুজে বের করা উচিত যাতে আপনি বুঝতে পারেন যে সে ঠিক আছে এবং তাকে আরাম দিতে পারেন। বমির সম্ভাব্য কারণগুলো হলো-

খাওয়ার সমস্যা

বাচ্চার প্রথম কয়েকমাসে খাওয়ানোর সমস্যার কারণে বমি হতে পারে। যেমন বাচ্চাকে বেশী খাওয়ানো। যেহেতু এ সময় বাচ্চা খিদে পেয়েছে কিনা তা বোঝা কষ্টকর তাই বাচ্চাকে বেশী খাওয়ানো হয়ে যেতে পারে। আরেকটি কারণ হতে পারে মায়ের দুধের বা ফর্মুলার কোন প্রোটিনে বাচ্চার অ্যালার্জি থাকলে। যদি এ ধরনের কারণ তেমন একটা দেখা যায়না।

ভাইরাল বা ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশনঃ 

বাচ্চার শ্বাসযন্ত্রে কোন ইনফেকশন থাকলে বমি হতে পারে, বিশেষ করে কাশির সময়। এছাড়াও বাচ্চার কফ হলে তা পাকস্থলী তে সমস্যা তৈরি করতে পারে। আবার কিছু কিছু বাচ্চা কফ বের করে দেয়ার জন্য ও বমি করতে পারে।

পাকস্থলীর ফ্লু বমির আরেকটি সাধারন কারণ। যদি বাচ্চার পাকস্থলী বা অন্ত্র ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে বমি হতে পারে। আরও কিছু লক্ষন দেখা যেতে পারে যেমন- ডায়রিয়া, খাবার অরুচি, পেটে ব্যাথা এবং জ্বর। বমি সাধারনত ১২-২৪ ঘন্টার মধ্যে কমে যায়।

মুত্রনালীর সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস এমনকি কানের ইনফেকশনের কারনেও বাচ্চার বমি হতে পারে।

অতিরিক্ত কান্না

অনেক সময় নবজাতক কোনো কারণে অতিরিক্ত কান্না করলে বমি করে ফেলে। যদিও এটা দেখতে অনেক কষ্টকর মনে হয়, কান্নার সময় বমির কারণে বাচ্চার কোন ক্ষতি হয়না। এতে ভয়ের তেমন কোন কারণ নেই।

মোশন সিকনেস

বাচ্চাদের মোশন সিকনেস থাকলে তারা গাড়িতে বা যানবাহনে চড়ার সময় বমি করতে পারে।

ফুড পয়জনিং

বাচ্চা টক্সিক কিছু খেয়ে ফেললে, যেমন- ওষুধ, পাতা বা ক্যামিকেল, সেক্ষেত্রে বাচ্চার বমি হতে পারে। বা বিষাক্ত খাবার বা পানি খেলেও বমি হতে পারে।

পাইলোরিক স্টেনোসিস

সংখ্যায় খুব অল্প হলেও নবজাতকের পেটের অন্ত্রে কোনো জন্মগত ত্রুটির কারণে অন্ত্রের পথ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে শিশু দু-তিন সপ্তাহ বয়সে খাওয়ার পরপরই বমি করে দেয়। বমি ছিটকে গিয়ে বেশ দূরে পড়ে এবং বমি করার পরপরই আবার দুধ খেতে চায় এবং খাবার কিছুক্ষণ পর আবারো একইভাবে বমি করে দেয় এবং শিশুর ওজন কমতে থাকে। একে পাইলোরিক স্টেনোসিস বলে। যদি মনে হয় বাচ্চার এধরনের সমস্যা আছে তবে যত দ্রত সম্ভব ডাক্তারকে জানাতে হবে।

বাচ্চা বমি করলে কি করা যেতে পারে?

বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বাচ্চার বমি আপনা আপনি থেমে যায়। সে যাতে ভালোবোধ করে তার জন্য আপনি কিছু কিছু কাজ করতে পারেন-

বমি হলে বাচ্চাকে সোজা করে ধরার চেষ্টা করুন। যদি সে জেগে থাকে তাহলে তাকে পেটের উপর ভড় দিয় বা পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিতে পারেন। অনেক ডাক্তারই পরামর্শ দেন বমি হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত যাতে কোন সলিড খাবার দেয়া না হয়। তবে যদি আপনার এটাকে অনেক বেশী লম্বা সময় মনে হয় তবে ডাক্তারের পরামর্ষ নিতে পারেন।

বমির পর বাচ্চার যাতে পানিশূন্যতা না হয় তাই তাকে পর্যাপ্ত তরল পান করাতে হবে। শিশুর বমি হবার সাথে সাথে তাকে খাবার স্যালাইন বা ঘরে তৈরি স্যালাইন খাওয়াতে হবে। যে পরিমাণ বমি করবে তার চেয়ে বেশি পানি ও স্যালাইন খাওয়াতে হবে। যতবার বমি করবে ততবার তাকে স্যালাইন খাওয়াতে হবে। শিশু একেবারে বেশি পরিমাণ স্যালাইন খেতে পারবে না বা চাইবে না। তাই তাকে স্যালাইন খাওয়াতে জোর না করে অল্প অল্প করে কিছুক্ষণ পরপর খাওয়াতে হবে।

বমির কারণে শিশুর শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি ও ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায় খাওয়ার স্যালাইনে তা পূরণ করে। তাই বমি করার পর শিশু ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। খাওয়ার স্যালাইন তার দুর্বলতা কাটিয়ে উঠাতে সাহায্য করে। তাছাড়া বমির ফলে শিশুর শরীর যাতে পানি ঘাটতিতে না ভোগে সে জন্য বমির সাথে সাথে খাবার স্যালাইন খাওয়ালে দেহের ভেতরে পানি শূন্যতা রোধ হয়। অন্যথায় শিশুর শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে।

যদি বাচ্চা ঘন ঘন বমি করে (প্রতি ৫-১০ মিনিট অন্তর), তবে তাকে স্যালাইন খাওয়ানোর জন্য জোর করবেন না। তার বমি কমে আসলে বা আধ ঘণ্টা বা ঘণ্টা খানেক ধরে তার পেট শান্ত থাকলে তাকে অল্প অল্প কিন্তু ঘন ঘন স্যালাইন দিতে পারেন। বমি ঠিক হওয়া পর্যন্ত এটা করতে থাকুন। বাচ্চা যদি স্যালাইনও বমি করে দেয় তবে তা ডাক্তারকে জানান।

বাচ্চাকে কোন ধরনের ফলের জুস দেবেন না। আমেরিকান একাডেমি ওব পেডিয়াট্রিকস এর মতে পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে জুস কার্যকরী নয়। তার ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের কোন অবস্থাতেই জুস দেয়ার বিপক্ষে।

সবশেষে শিশুকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে। যাতে শিশুর উপর যতটা ধকল যায় তা দূর হতে পারে।

বাচ্চা ঘুম থাকলে বমির কারণে কি তার শ্বাসরোধ হতে পারে?

অনেক বাবা মাই এটা ভেবে ভয় পান যে বাচ্চা যদি চিৎ হয়ে ঘুমায় তবে সে সময় তার বমি হলে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্ত এমনটা সচরাচর হয়না। বাচ্চার যদি শ্বাসনালী সংক্রান্ত তেমন কোন সমস্যা না থাকে তবে ভয়ের কিছু নেই।

তবে বাচ্চার যদি কোন জন্মগত ত্রুটি থাকে যার ফলে তার খাবার ও তরল শ্বাসনালী তে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে সে ক্ষেত্রে ডাক্তার হয়ত বাচ্চাকে পেটের উপর ভড় দিয়ে বা পাশ ফিরিয়ে শোয়াতে পরামর্শ দেবেন।

বাচ্চার বমি প্রতিরোধ করার জন্য কি করা যেতে পারে?

বাচ্চার বমির সব কারণ হয়ত আপনি প্রতিরোধ করতে পারবেন না তবে সাধারন যেসব কারণে বাচ্চা বমি করে তা প্রতিরোধের জন্য কিছু পদ্ধতি আপনি অবলম্বন করতে পারেন।

শিশুর বমি প্রতিরোধ করতে সবার আগে তাকে জোর করে, অতিরিক্ত পরিমাণে, ঘন ঘন বা অনেক দেরিতে খাবার খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে। এছাড়া নবজাতকের ক্ষেত্রে খাওয়ার পর শিশুর ঢেকুর তোলাতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, মায়ের দুধ খাওয়ানোর পর বাড়ির অন্য লোকজন শিশুকে আদর করছে। বেশি আদর করতে গিয়ে কেউ কেউ শিশুকে ঝাঁকাঝাঁকি শুরু করে, এতে শিশু বমি করে দেয়। এ জন্য শিশুর বুকের দুধ খাওয়া শেষ হলে তাকে সোজা করে বেশ কিছুক্ষণ কোলে রাখতে হবে এবং পেটের বাতাস বের করে দিতে হবে এবং ধীরে ধীরে বিছানায় শুইয়ে দিতে হবে।

বাচ্চার মোশন সিকনেস থাকলে ভ্রমনের সময় কিছুক্ষণ পর পর বিরতি নিন যাতে বাচ্চা বিশুদ্ধ বাতাস পায় এবং তার পেট শান্ত হয়ে আসে। বাচ্চা যদি সলিড খাওয়ার উপযোগী হয় তবে ভ্রমনের আগা হালকা স্ন্যাক্স দিন আর বাচ্চাকে হাইড্রেটেড রাখুন।

বাচ্চার যদি কফ থাকে তবে নরসল ও ন্যাসাল অ্যাসপিরেটরের সাহায্যে বাচ্চার নাকের মিউকাস সাকশন করে বের করে নাক পরিষ্কার রাখতে পারেন।

কখন ডাক্তারকে জানাতে হবে?

বাচ্চা যদি ২৪ ঘন্টার বেশী বমি করে। কিছু কিছু অসুস্থতায় এটা স্বাভাবিক, তারপরও একবার ডাক্তার দেখিয়ে নিন। বাচ্চা যদি ৩ মাসের ছোট হয় এবং এবং জ্বর যদি (রেক্টাল) ১০০.৪ ডিগ্রীর বা তার বেশী হয়, তবে দ্রুত ডাক্তারকে জানাতে হবে।

বাচ্চার যদি পানিশূন্যতার কোন লক্ষন দেখা দেয় যেমন গাড় হলুদ প্রস্রাব, প্রস্রাবের পরিমান কম (৬-৮ ঘণ্টা প্রস্রাব না করলে), শুকনো ঠোট ও মুখ, দুর্বল, এবং ১ মাসের বেশী বয়সের বাচ্চাদের কান্নার সময় যদি চোখে পানি না থাকে (নবজাতকের প্রথম চোখে পানি আসতে ১ মাস বা তার বেশী সময় লাগতে পারে)।

বাচ্চার বমির সাথে যদি রক্ত থাকে। মাঝে মাঝে বমিতে সামান্য রক্ত থাকা সাভাবিক কারণ যে বেগে বমি বেড়িয়ে আসে তাতে খাদ্যনালী সামান্য খতিগ্রস্থ হতে পারে। কিন্তু যদি নিয়মিত রক্ত আসে বা রক্তের পরিমান বেশী হয় তবে ডাক্তারকে জানাতে হবে।

যদি খাবার খাওয়ার আধা ঘন্টার মধ্যে প্রবল বেগে বমি বেড়িয়ে আসে সেক্ষেত্রেই ডাক্তারকে জানাতে হবে। এটা পাইলোরিক স্টেনোসিস এর লক্ষন হতে পারে। যদি বাচ্চার ত্বক বা চোখের সাদা অংশ হলুদ মনে হয় তবে তা জন্ডিসের লক্ষন হতে পারে। এক্ষেত্রেও দেরী না করে ডাক্তার দেখাতে হবে।

বাচ্চার যদি অনেক বেশী ব্যাথা থাকে। বাচ্চারা যদিও ব্যাথার কথা বলতে পারেনা কিন্তু আপনি হয়ত তাকে দেখেই বুঝতে পারবেন। পেট যদি ফুলে যায় বা নমনীয় হয়ে থাকে তবে তা পরিপাকতন্ত্রে কোন সমস্যার কারণে হতে পারে। এজন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া জরুরী।

বাচ্চার বমির সাথে যদি বাইল(সবুজাভ হলুদ তরল) বা গাড় কফি রঙের রক্ত যায় তবে ডাক্তার হয়ত বমি দেখতে চাইবেন। এ ক্ষেত্রে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে বমি সাথে করে নিয়ে যেতে পারেন।

শিশু যদি ঘন ঘন বমি করতে থাকে তবে অবশ্যই দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসকের কাছে বমির ধরণ ও কারণ ব্যাখ্যা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি কোন দুর্ঘটনার কারণে শিশুর বমি হয়ে থাকে তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে শুইয়ে দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

শিশুর দিকে ভালো করে দেখুন। তার কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করুন। অসুখ থেকে বমি হলে তার মধ্যে এর প্রভাব পড়বে। শিশুকে কাহিল বা অসুস্থ দেখাবে। যদি শিশুকে গুরুতর অসুস্থ মনে হয়, খুব দুর্বল হয়ে যায়, তবে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

সবার জন্য শুভকামনা

Related posts

Leave a Comment