শিশুর প্রথম জন্মদিন কেমন হওয়া উচিৎ

শিশুর প্রথম জন্মদিন শিশুর চেয়ে বরং  তার মা-বাবার   জন্যই বেশি স্পেশাল। হয়তো ভাবতেই পারছেন না, কবে কিভাবে একটা বছর পার হয়ে গেলো। অবশ্যই বেশ কঠিন একটি সময় পার করেছেন আর একবছরের এই পথচলা আপনাকে বিভিন্ন ভাবে বদলেছে।  আপনি স্বাভাবিকভাবেই এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী। শিশুর প্রথম জন্মদিনটি অবশ্যই একজন মায়ের জন্য বিশেষ দিন, কারণ এই দিনটি আপনার মাতৃত্বের এক বছর পূর্তিও বটে।

কিন্তু একটা এক বছর বয়সী শিশুর জন্মদিন পালনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়। যেহেতু একবছর বয়সের শিশু জন্মদিন পালনের অর্থ বুঝতে পারেনা, বরং দিনটি শিশুর চেয়ে তার মা বাবার জন্য বেশি জরুরী তাই শিশুর স্বস্তির বিষয়টিও মাথায় রাখা দরকার।

এক্ষেত্রে নিচের কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে পারেন।

শিশুর প্রথম জন্মদিন কেমন হওয়া উচিৎ

কাছের কিছু প্রিয় মানুষ নিয়ে ছোটোখাটো ঘরোয়া পার্টি:

দিনটি অবশ্যই আপনার এবং শিশুর জন্য স্পেশাল। এই দিনটি সেসব প্রিয়মানুষদের সাথেই কাটান যারা এই একবছরে আপনার পাশে থেকে সাহস দিয়েছে। পার্টি বা গেট টুগেদার রেস্টুরেন্ট বা বাইরে না করে ঘরে করতে পারেন। কারন  শিশু এবং শিশুর জিনিস পত্র নিয়ে বাইরে আনা-নেয়ার বিয়য়টি বাবা- মা এবং শিশুর জন্য স্বস্তির না-ও হতে পারে।

এছাড়া পার্টিতে লোকজন খুব বাড়াবাড়ি না হওয়া শিশুর জন্যও স্বস্তির। কারন এই বয়সী শিশু সাধারণত এত মানুষ একসাথে দেখতে অভ্যাস্ত না। হুট করে এতো মানুষের সমাবেশ তাকে ভড়কে দিতেই পারে।

পার্টির ব্যাপ্তি:

পার্টির সময় ৬০ থেকে ৯০ মিনিট হওয়াটাই যুক্তিপূর্ণ। কারন একবছর বয়সী শিশুর খাওয়া,খেলার সাথে সাথে বিশ্রামের ব্যাপারটাও গুরুত্বপূর্ণ।  তাই পার্টির সময় সংক্ষিপ্ত রাখাই ভালো। অন্যথায় ব্যাপারটি শিশুকে বিরক্ত করতে পারে। ফলে শিশু ছটফট করা বা কান্না করতে পারে যা সবাইকে বিব্রত করতে পারে।

ব্রেস্ট ফীডিং এবং ডায়পার বদলানোর জন্য নির্দিষ্ট স্থান রাখুন:

এবয়সী বাচ্চা সাধারণত মায়ের বুকের দুধের উপর নির্ভরশীল, সেইসাথে এত মানুষের মাঝে নির্দিষ্ট সময় পর পর শিশুর ডায়পার বদলানো বেশ ঝামেলার হতে পারে। তাই তাকে খাওয়ানোর জন্য একটি অপেক্ষাকৃত কোলাহল মুক্ত স্থান নির্ধারিত রাখুন সাথে একটি নির্দিষ্ট স্থানে /টেবিলে ডায়পার ও কিছু বাড়তি কাপড় রাখতে পারেন. প্রয়োজনে অন্য অতিথিরাও তাদের সাথে আনা ছোট বাচ্চাদের খাওয়াতে বা ডায়াপার বদলানোর সুযোগ পাবেন। তাকে শোওয়ানোর ব্যাবস্থা রাখা বাঞ্ছনীয়, জন্মদিনের পার্টি ছোট বাবুর জন্য যেন কষ্ট দায়ক হয়ে না যায় সেটাই মুল লক্ষ্য হওয়া দরকার।

পার্টিতে শিশুর নিরাপত্তা

জন্মদিনের অনুষ্ঠান ঘরে কিংবা বাইরে যেখানেই আয়োজন করুন না কেন, পার্টির পরিবেশ যেন শিশুর জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন- ঘরের তাপমাত্রা, ঋতু অনুযায়ী বাচ্চার পোশাক নির্বাচন ইত্যাদি খুবই জরুরী। অনেক অতিথির সমাগম হলেও শিশুকে অবশ্যই মা বাবার নজরদারিতে রাখা দরকার। আমরা অনেক সময় স্বল্প পরিচিত অনেকের মাঝে শিশুকে রেখে তদারকি কিংবা অন্য কাজে চলে যায়। এ ব্যাপারটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

পাশাপাশি বাচ্চার জন্মদিনের পার্টিতে যেহেতু অন্যান্য বিভিন্ন বয়সী বাচ্চাদের সমাগম হয়, তাই আসবাব, ডেকোরেশন, এবং সামগ্রিক পরিবেশ শিশুদের জন্য নিরাপদ ও শিশু বান্ধব হওয়া বাঞ্ছনীয়। শিশুদের জন্য আলাদা রুম কিংবা খেলার জায়গা না করে, বড়দের উপস্থিতিতেই একটি নির্দিষ্ট স্থানে শিশুদের খেলার ব্যাবস্থা করা উচিৎ, যেখানে আশে পাশে নিজেদের বাবা মা রা থাকবে। শিশুর কোন বিশেষ খাবারে অ্যালার্জি থাকলে নিজ নিজ বাবা মাকে সতর্ক থাকতে হবে।

পার্টি সাজানো এবং গুডি ব্যাগ

পার্টিতে ডেকোরেশনের জন্য শিশুর খেলনা ব্যবহার করতে পারেন। যেসব খেলনা শিশু পরবর্তীতেও ব্যবহার করতে পারে সেসব খেলাকে প্রাধান্য দিন। কোনো থিম বাছাই করে সাজাতে পারেন। কিন্তু যেহেতু এক বছরের বাচ্চা থীম এর কিছুই বুঝবেনা, তাই ব্যাপারটা আর বছর দুয়েক পর করলেই সবচাইতে ভালো।

আর অন্য বাচ্চাদের জন্য একটি মজার কনসেপ্ট গুডি ব্যাগ, যেখানে টুকটাক খেলনা, ষ্টেশনারীস কিংবা চকলেট থাকে এবং বাচ্চারা এই ব্যাগ পেতে খুবই পছন্দ করে। আর প্রত্যেক ব্যাগে একই ধরনের জিনিশ থাকাতে, পার্টিতে খেলনা নিয়ে টানাটানি কিংবা মনোমালিন্য কম হয়।

এছাড়াও গেস্টদের লেখার জন্য ডায়েরি ও পেন রাখতে পারেন যেখানে গেস্টরা তাদের উইশ বা উপদেশ লিখতে পারেন। যখন শিশু বুঝতে শিখবে তখন এই লেখা যত্নে আগলে রাখবে।

পার্টির খাবার শিশু-উপযোগী আর সাধারণ রাখুন:

পার্টির প্রধান আকর্ষণ যেহেতু শিশু তাই খাবারও শিশু-উপযোগী হওয়াটাই ভাল। বিভিন্ন শেইপের  ক্র্যাকার্স ,ফিস কিংবা চিকেন ফ্রাই, ফ্রাইড রাইস, বাদাম, কাপ কেইক, এবং চকলেট রাখতে পারেন।  এবং পানীয় হিসাবে মিনারেল ওয়াটার , চকলেট ড্রিঙ্কস ও ফ্রুট জুস রাখতে পারেন।

আর জন্মদিনে একটা কেক থাকতেই হবে, তাই গেস্ট অনুযায়ী ভালো কেক অর্ডার করুন কিংবা বানিয়ে নিন। তবে মনে রাখতে হবে, জন্মদিনের কেক বা এর ক্রীম এক বছরের শিশুর জন্য উপযোগী খাবার নয়, তাই বিভিন্ন জায়গায় প্রথম জন্মদিনের কেক খাওয়ার মজার মজার ছবি দেখা গেলে, শিশুর শরীরের জন্য এটি খুব একটা নিরাপদ হবেনা। তাই বাচ্চাকে কিছু খাওয়াতে হলে তার বয়স অনুযায়ী কিছু কেক শেইপে বানিয়ে খাওয়ানো যায়। যেমন ঘরে বানানো পুডিং, সুগার ফ্রি বানানা পাই ইত্যাদি একটু ডেকোরেশন করে ছোট বাবুকে অফার করতে পারেন।

অন্যান্য

কিছু সুবিধা বঞ্চিত শিশুকে দাওয়াত করতে পারেন যদি সম্ভব হয়। কিংবা কোন অনাথালয়ে খাবারও পাঠিয়ে দেন অনেকে। এই ধারণাগুলো খুব ভালো। নিজেদের বিশেষ দিনে কিছু বঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে খুশির আর কি বা হতে পারে।

এছাড়াও পার্টির পরিবর্তে পরিবারের ঘনিষ্ঠ কজন মিলে বাইরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারেন যেখানে গেলে জন্মদিনের শিশুটিও উপভোগ করবে সাথে আপনিও।

শিশুর প্রথম জন্মদিন ভালো কাটুক।দিনটি আপনিও উপভোগ করুন।

শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment