শিশুর জন্মগত হৃদরোগ । কারণ, লক্ষন ও করনীয়

শিশুর জন্মগত হৃদরোগ এমনই একটি রোগ যার শুরু মায়ের গর্ভে। আমাদের দেশে অসচেতনার কারণে এর হার একেবারে কম নয়। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ১০০০ জন জীবিত শিশুর মধ্যে আটজন শিশু জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এই ১০০০ জনের আটজনের মধ্যে আবার ২-৩ জনের রোগের লক্ষণ জন্মের প্রথম ৬ মাসের মধ্যেই নানাবিধ উপসর্গসহ প্রকাশ পায়। বাকিদের পরবর্তীতে জীবনের যে কোনো সময় তা প্রকাশ পেতে পারে। বাংলাদেশে প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার শিশু জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

জন্মগত হৃদরোগ কি?

একটি হার্টে চারটি চেম্বার বা প্রকোষ্ঠ থাকে। রক্ত ওপর থেকে নিচে এক চেম্বার থেকে অন্য চেম্বারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধমনি এবং শিরার মধ্য দিয়ে শরীরের কোষে কোষে প্রবাহিত হয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান ছড়িয়ে দেয়; কিন্তু পাশাপাশি চেম্বারের মধ্যে কোনো সংযোগ থাকে না। গর্ভাবস্থায় পাশাপাশি চেম্বারের মধ্যে ছিদ্র থাকে, যার ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং জন্মের সময় বা জন্মের পর প্রথম তিন মাসের মধ্যে এ ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে এ ছিদ্র বন্ধ হয় না বলেই হার্টের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যেমন-হার্ট বড় হয়ে যায়, ভাল্ব নষ্ট হয়ে যায়, হার্ট ফেইলিউর হয়, ব্লাডপ্রেসার বেড়ে যায়। বাইরে থেকে এ সমস্যা বোঝা না গেলেও কিছু লক্ষণ দেখে অনুধাবন করা যায়।

জন্মগত হৃদরোগের ক্ষেত্রে গর্ভে শিশুর হৃদপিণ্ডের গঠনগত ত্রুটি হতে পারে। এ ত্রুটির কারণে হৃদপিণ্ডের সঠিক কার্যক্রম ব্যহত হয়। এ ধরনের ত্রুটির কারণে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকেনা, ধীরগতির হয়ে যায়, ভুল দিকে বা ভুল জায়গায় প্রবাহিত হয় বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এ সমস্ত উপসর্গকেই জন্মগত হৃদরোগ বা কনজেনিটাল হার্ট ডিফেক্ট বলা হয়।

জন্মগত হৃদরোগ কেন হয়?

আসলে জন্মগত হৃদরোগ কেন হয় এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জানা যায় না। তারপরও অনেকগুলো বিষয় আছে যার জন্য এটা হতে পারে। যেমন মায়ের যদি গর্ভাবস্থায় কোনো সংক্রমণ হয়, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে রুবেলা নামক একটি ভাইরাস আছে, এটি দিয়ে যদি সংক্রমণ হয়, সেক্ষেত্রে জন্মগত ত্রুটি থাকার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এ ছাড়া মায়ের যদি কোনো অসুখ থাকে, যেমন ডায়াবেটিস– সেটা যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে জন্মগত হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ছাড়া কিছু কনজেনিটাল রোগ আছে, বংশগত রোগ, যেমন ডাউন সিনড্রম, মারফেন সিনড্রম বা টার্নার সিনড্রম- এগুলোর সঙ্গে হৃদরোগের ত্রুটিগুলো যুক্ত থাকে।

পুষ্টির সঙ্গে আসলে বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তবে অপুষ্টিতে যদি মা ভুগে, ঠিক মতো না খায় সেক্ষেত্রে বাড়তে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। আবার মায়ের যদি অতিরিক্ত ওজন হয় সেক্ষেত্রেও এর সমস্যার ঝুঁকি থাকে।

যদি মা কোনো ওষুধ খায়, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে, সেই ক্ষেত্রে টেরাটোজেনিক ওষুধ যদি হয়, অর্থাৎ এমন কোনো ওষুধ যেটি বাচ্চার ক্ষতি করতে পারে- সেগুলো খেলে শিশু জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্ম নিতে পারে। ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস থাকলেও এসবের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কখনও দেখা যায়, কোনো মা হৃৎপিণ্ডে ত্রুটি নিয়ে প্রথমবার শিশুর জন্ম দিলে দ্বিতীয়বার সে রকম ত্রুটি হওয়ার ঝুঁকি মাত্র চার-পাঁচ ভাগ থাকে। দ্বিতীয়বার শিশুর এ সমস্যা থাকলে তৃতীয়বার তা হওয়ার আশংকা ২২ থেকে ২৫ ভাগ হয়।

কিছু কিছু জন্মগত হৃদরোগ আছে যেগুলো মায়ের থাকলে, সন্তানেরও হতে পারে। যেমন মায়ের ‘মারফান সিনড্রোম’ (Marfan syndrome) থাকলে, সন্তানের হবার সম্ভবনা শতকরা ৫০ ভাগ, ‘এওরটিক স্টেনোসীস’ (aortic stenosis – হৃদপিণ্ডের এওরটিক ভাল্ভ সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া) থাকলে সম্ভবনা শতকরা ১০ ভাগ, আর ‘ফ্যালটস টেট্ট্রালজি’ (tetralogy of Fallot) থাকলে শতকরা ৩ ভাগ।

জন্মগত হৃদরোগের লক্ষণসমূহ 

জন্মের পর থেকেই ঘন ঘন ঠান্ডাকাশি ও শ্বাসকষ্ট, মায়ের বুকের দুধ টেনে খেতে অসুবিধা ও অল্পতেই হাঁপিয়ে যাওয়া , হাত ও পায়ের আঙ্গুল ও ঠোঁটে নীলাভ ভাব, ওজন ও শারীরিক বৃদ্ধির অপ্রতুলতা ইত্যাদি।

শিশুর প্রতি মায়েদের লক্ষণীয় বিষয় –

  • শিশুটির জন্মের পর পরই শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিনা ।
  • ভীষণ রকমের কালচে বা নীলাভ ভাব তার ঠোঁটে বা চামড়ায় দেখা যাচ্ছে কিনা
  • শিশুটির হার্ট বিট যদি অস্বাভাবিক রকমের কম বা বেশি হয় অথবা ছন্দোবদ্ধ না হয়ে অস্বাভাবিক ভাবে চলে ।
  • বাচ্চাটি জন্মগ্রহণ করার পর মায়ের দুধ পান করার সময় হাঁপিয়ে যায় কিনা।
  • অল্প অল্প দুধ পান করে ক্লান্ত হয়ে ছেড়ে দিয়ে আবার কিছু সময় পর দুধ পান করছে কিনা।
  • দুধ পান করার সময় শিশুটি অস্বাভাবিক রকমের ঘামছে অথবা শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।
  • শিশুটি অন্য সব বাচ্চাদের মত ওজনে বাড়ছে না।
  • জন্মের পর থেকেই শিশুর  বার বার ঠাণ্ডা কাশি লেগেই আছে কিনা এবং সে কারণে বার বার হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে বা ডাক্তারের কাছে যেতে হচ্ছে।
  • শিশুটি কান্নার সময় অস্বাভাবিক রকমের কালো হয়ে যায় এবং একই সাথে শ্বাস কষ্ট হয়। একটু বড় বাচ্চারা খেলার সময় একটু দৌড়াদৌড়ি করলেই কালো হয়ে যায়, শ্বাস কষ্ট হয় এবং উপুড় করে শুইয়ে দিলে বা বড় বাচ্চারা হাঁটু গেড়ে বসলে তাদের স্বস্তি আসে। বড় বাচ্চাদের কখনো কখনো বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদিও হতে পারে।

উপরের যেকোনো একটি লক্ষন দেখা দিলেই শিশুকে দ্রুত ডাক্তার এর কাছে নিতে হবে।

কিভাবে শিশুর জন্মগত হৃদরোগ নির্ণয় করা যায়?

কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিশুর জন্মগত হৃদরোগ গর্ভাবস্থাতে বা জন্মের পরপরপরই নির্ণয় করা যায়। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিশু বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত তা বোঝা যায়না। এই বিষয়ে আপনাকে যত বেশি সম্ভব জানতে হবে, যাতে আপনার শিশুর জন্মানোর পর যদি প্রয়োজন হয় সঠিক ব্যবস্থা যেন দ্রুত নেয়া যায়। শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার ১৮থেকে ২২ সপ্তাহর মধ্যে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত হৃদপিণ্ডের ত্রুটি নির্ণয় করা সম্ভব। যদি ধরা পরে তখন শিশুদের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা শিশু জন্মের পর কি করতে হবে তা আপনাকে বুঝিয়ে দেবেন।

গর্ভাবস্থায় জন্মগত রোগ নির্ণয়ঃ

ফেটাল ইকো টেস্ট এর মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় শিশুর হার্ট পরীক্ষা করা যায়। এই টেস্টের মাধ্যমে শিশু গর্ভে থাকা অবস্থাতেই তার হার্টের ছবি তৈরি করা যায়। গর্ভাবস্থায় ১৮-২২ সপ্তাহের মধ্যে এই টেস্ট করা যায়। গর্ভকালীন চেকআপের সময় ডাক্তার কোন অস্বাভাবিকতা দেখলে এই টেস্ট করার পরামর্শ দেবেন, যেমন- বাচ্চার হার্টবিটের অস্বাভাবিক রিদম, মায়ের ডায়াবেটিস, লুপাসের মত মেডিকেল কন্ডিশন বা মায়ের কোন পারিবারিক জন্মগত হৃদপিণ্ডের সমস্যার ইতিহাস থাকলে ইত্যাদি।

শিশুর জন্মের পর রোগ নির্ণয়ঃ

জন্মগত হৃদরোগ নির্ণয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। হৃদরোগের লক্ষন দেখে গেলে চিকিৎসক স্টেথেস্কোপের মাধ্যমে রোগীর হার্ট ও লাংস পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। চিকিৎসক ইকোকার্ডিওগ্রাম করতে পারে। এটি হলো হৃদপিণ্ডের আলট্রাসাউন্ড। এর মাধ্যমে ডাক্তার হার্টবিট, ভালভ এবং হার্টের অন্যান্য অংশ পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

ইলেক্ট্রকার্ডিওগ্রাম করা হতে পারে যার মাধ্যমে হৃদস্পন্দনে কোন অস্বাভাবিকতা আছে কিনা বা হার্টের কোন চেম্বার বড় কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হয়। এছাড়া চেস্ট এক্স-রে,  হলটার মনিটরিং, ক্যাথ স্টাডি, কার্ডিয়াক সিটিস্ক্যান, এমআরআই ইত্যাদিও করা হতে পারে।

এখন মোটামুটি সব হাসপাতাল, হৃদরোগ সেন্টার এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ইকোকার্ডিওগ্রাফি পরীক্ষা করা হয়। আমাদের দেশে সম্যক জ্ঞানের অভাবে জটিল জন্মগত হৃদরোগ কম বয়সে ধরা পড়ে না। ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হয়ে পড়ে। এমন অনেক জন্মগত হৃদরোগ আছে, যে ক্ষেত্রে শিশুর প্রথম দু’এক মাস রোগের লক্ষণ প্রকটভাবে ধরা পড়ে না। একমাত্র ইকো কালার ডপলার মেশিনে এ ধরনের হৃদরোগ শনাক্ত করা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক ক্যাথের দরকার হতে পারে। এ জন্য যথাসময়ে আক্রান্ত শিশুদের যথাস্থানে রেফার করা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

শিশুর জন্মগত হৃদরোগ প্রতিরোধ 

বেশীরভাগ জন্মগত হৃদরোগ প্রতিরোধ করা যায়না। তবে কিছু কিছু নিয়ম মেনে এর ঝুঁকি কমানো যায়।

গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার সময়ই নারীকে এমএমআর ইনজেকশন নিতে হবে। এটি রুবেলা ভাইরাস বা জার্মান মিসেলস রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। মনে রাখা দরকার, রুবেলা আক্রান্ত মায়েদের সন্তানরা প্রায়ই জন্মগত হার্টের অসুখ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

গর্ভকালীন বহু মা উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। যার যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এমনিতেই যেসব মা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত তাদেরও গর্ভধারণের পরিকল্পনা করা মাত্র ডাক্তারের সঙ্গে রোগ দুটির নিয়ন্ত্রণবিষয়ক পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। খিচুনি জাতীয় রোগে আক্রান্ত মায়েদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।

গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় এক্স-রে বা যে কোনো ধরনের তেজস্ক্রিয়তা থেকে দূরে থাকা উচিত। খুব জরুরি প্রয়োজনে এক্স-রে করা যায়, তবে তার আগে অনাগত শিশুর শরীরে যেন কোনোভাবেই এক্স-রে রশ্মি পড়তে না পারে তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য লেড অ্যাপ্রোন পরিধান করা একটা উপায়।

গর্ভবতী মায়েদের ধূমপান ও মদপান সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে। এমনকি যে ঘরে ধূমপান করা হয় সে ঘরেও তার বসবাস না করা উচিত। গর্ভকালীন বহু ঔষধ সেবন করা যায় না। অনেক ঔষধ অনাগত সন্তানের শারীরিক ত্রুটি তৈরি করে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা যাবে না।এছাড়াও গর্ভাবস্থায় যথাযত পরিচর্যা এবং ফলিক এসিডের ঘাটতি পূরণ করতে হবে

মায়ের যদি জন্মগত হৃদরোগ থাকে তবে গর্ভাবস্থায় কি কি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কারনে এখন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্তের প্রায় ৮৫% প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেচে থাকে। যে কারণে বর্তমানে জন্মগত হৃদরোগ আছে এমন মায়ের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। স্বাভাবিক অবস্থায় হয়ত তাদের অনেকের তেমন কোন সমস্যাও হয় না, কিন্তু এ অবস্থায় যখন গর্ভবতী হয়ে পরে তখন হৃদপিণ্ডের উপর বাড়তি চাপের কারনে নানারকম সমস্যা তৈরি হয়। সুতরাং আপনার যদি এ ধরনের সমস্যা থেকে থাকে তবে অবশ্যই গর্ভধারণের পূর্বে, তা না করে থাকলে গর্ভধারণের পর পরই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন। সেক্ষেত্রে আপনাকে এমন কোন হাসপাতালে পাঠানো হবে, যেখানে হৃদরোগ এবং প্রসূতি সেবা দুটোই আছে।

আপনার জন্মগত হৃদরোগ, আপনার গর্ভস্থ শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। দুর্বল থাকার কারনে হৃদপিণ্ডের যে প্রধান কাজ, পাম্প করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত সরবরাহ করা সেটা ঠিক মত করতে পারে না। ফলে গর্ভস্থ শিশুর শরীরেও প্রয়োজনমত রক্ত পৌঁছে না, যার কারনে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবে শিশুর ওজন কম হতে পারে, শিশু দুর্বল হতে পারে, এমনকি সময়ের আগে প্রসব হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় ২৬ সপ্তাহ পর থেকে নিয়মিত ভাবে আপনার গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি পরিমাপ করা হবে, যেমনটা হবার কথা তার চেয়ে কম হচ্ছে কি না সেটা দেখা হবে।

আপনার হৃদরোগের ধরন অনুযায়ী ডাক্তার আপনার প্রসূতিপূর্ব সেবার ব্যবস্থা করবেন। এরকম ক্ষেত্রে কিছু কিছু ওষুধ খাওয়া নিষেধ যেমন, এ,সি,ই ইনহিবিটর (ACE inhibitors) গ্রুপের কোন ওষুধ আপনাকে দেয়া হবে না। ডাক্তারের সব পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন। হাল্কা ব্যায়াম যেমন, হাটা বা সাতার কাটা আপনাকে ভাল রাখবে। বাড়তি কোন ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

অনেক সময় ওষুধ দিয়ে প্রসব ব্যাথা শুরু করানো হয়। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে তা করা যাবে না। প্রসব ব্যাথা শুরু করানোর জন্য যে ওষুধটি দেয়া হয় তার নাম প্রস্টাগ্লানডিন (prostaglandin)। অনেক সময় এই ওষুধটি জরায়ুকে বেশি উত্তেজিত (overstimulate) করে তুলতে পারে, তখন অন্য একটি ওষুধ দিতে হয়। কিন্তু আপনার যদি জন্মগত হৃদরোগ থাকে তবে সেই ওষুধটি ব্যবহার করা যাবে না। সেকারনে যাদের জন্মগত হৃদরোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়মে প্রসব বেদনা উঠার জন্য অপেক্ষা করা হয়।

জন্মগত হৃদরোগ থাকলেই যে সিজারিয়ান অপারেশন (caesarean section) করাতে হবে এমন কোন কথা নেই। তবে এক্ষেত্রে ডাক্তাররা ব্যাথামুক্ত প্রসবের জন্য পরামর্শ দেন। এটা হতে পারে এপিডুরাল (স্নায়ুরজ্জুতে বেদনানাশক ইনজেকশন) দেওয়া বা যন্ত্রপাতির (forceps) মাধ্যমে প্রসবকে সহজ করা যাতে মাকে অতিরিক্ত চাপ দিতে না হয়, অতিরিক্ত চাপ তার দুর্বল হৃদপিণ্ডের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

পরিশিষ্ট

বাংলাদেশ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এবং হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়মিতভাবে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের যে কোনো ধরনের চিকিৎসা অপেক্ষাকৃত কম খরচে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল এবং শিশু হাসপাতালেও এ ধরনের রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুর জন্মগত হৃদরোগ দেখা দিলে বা ধারণা করা হলে, কালবিলম্ব না করে শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া একান্ত প্রয়োজন, নতুবা সাধারণ হৃদরোগ সময়কালে জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

আরও পড়ুন ঃ জন্মগত হৃদরোগ । ধরন ও চিকিৎসা

সবার জন্য শুভকামনা

তথ্যসূত্রঃ 

www.maya.com.bd/content/web/wp/2045/
www.marchofdimes.org/complications/congenital-heart-defects.aspx
americanpregnancy.org/birth-defects/congenital-heart-defects/
www.mayoclinic.org/diseases-conditions/congenital-heart-defects-children/symptoms-causes/syc-20350074

Related posts

Leave a Comment