শিশুর একজিমা। কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

একজিমা হলো র‍্যাশ বা ফুসকুড়ির মত এক ধরণের চর্মরোগ। একে এটোপিক ডার্মাটাইটিস (atopic dermatitis) ও বলা হয় যা সচরাচর ৫ বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। একজিমা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রধানত গাল ও মাথার খুলীতে হয়, অনেক সময় হাত, পা, বুক সহ শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে। বাচ্চার বয়স ১ বছর হওয়ার পরে তার কুনুই এর ভাঁজে, হাঁটুর পেছনের অংশে,  কব্জি, পায়ের গোড়ালি এমনকি শরীরের যেকোনো অংশেই একজিমা হতে পারে।

বাচ্চার একজিমা  হওয়ার লক্ষন সমূহ

পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের প্রায় ২০% শিশু ও তার চাইতে বেশী বয়সের বাচ্চাদের এই চর্মরোগটি রয়েছে। জরীপে আরও দেখা গেছে যে এদের মধ্যে ৬৫% রোগীর জন্মের প্রথম বছরের মধ্যেই এবং প্রায় ৯০% রোগীর ৫ বছর বয়সের আগেই একজিমার লক্ষণ দেখা দেয়।

একজিমা দেখতে কিছুটা শুকনো, গাঁড়, কিছুটা আঁশযুক্ত ও লাল ফোসকার মত যা চুল্কালে অথবা ঘষলে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে এমন। অনেকসময় চুলকানোর কারনে উক্ত ক্ষতস্থানে কালো দাগও পড়ে যেতে পারে।

একজিমা  সাধারনত হয় আবার সেরে যায়। তবে এটা সংক্রামক নয়, কিন্তু যখন হয় তখন এতো চুলকায় যে এক পর্যায়ে তা বাঁচাদের ক্ষেত্রে অসহনীয় হয়ে দাড়ায়। সময় মত চিকিৎসা না নিলে অনেক ক্ষেত্রে র‍্যাশ বড় হয়ে খুব বিশ্রী দেখায় যা বাচ্চার সামাজিক ভাবে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রেও খারাপ প্রভাব ফেলতে পাড়ে।

ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার বাচ্চার স্কিন পরিক্ষা করে নিশ্চিত হতে পারবেন যে একজিমা কিনা।ভালো চিকিৎসার জন্য ডাক্তার হয়ত কোন ডারমাটোলজিষ্ট এর কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলতে পারেন।

একজিমার ক্ষেত্রে আসলে এমন কোন উপায় নেই যে, যা দেখে আগেই ধারনা পাওয়া সম্ভব যে আপনার বাচ্চারএকজিমা ভালো হয়ে যাবে কিনা। তবে স্বস্তির ব্যাপার হল, বাচ্চার বয়স বাড়ার সাথে সাথে একজিমার প্রবণতা কমতে থাকে। অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে ২ বছর বয়স হতে হতেই একজিমা কমে যায় আবার অনেকের প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর কমে।

একজিমা  কেন হয়?  

ঠিক কি কারণে একজিমা হয় এখন পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনা।  তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ধারণা করা হয় যে একজিমা  বংশানুক্রমে হয়ে থাকে। সুতরাং আপনার অথবা আপনার পরিবারের কারো একজিমা, অ্যালার্জি ও অ্যাজমা থাকলে তা আপনার বাচ্চার ক্ষেত্রেও হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

যদিও একজিমা কোন কিছুর অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন না, কিন্তু পরিবেশে মিশে থাকা অ্যালার্জেন বাচ্চার একজিমার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পাড়ে। বাচ্চার অথবা আপনার (যদি বাচ্চা মায়ের দুধ খায়) দৈনিক খাবারের তালিকায় অ্যালার্জেন থাকলে তাও বাচ্চার একজিমা বাড়িয়ে তুলতে পারে। অনেক সময় গরমের কারনেও ফুসকুড়ি বড় হয়

একজিমার  চিকিৎসা

একজিমা পুরোপুরি নির্মূল করার উপায় এখনও বের করা যায়নি। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগটি দমিয়ে রাখা সম্ভব। ভালমত ত্বকের যত্ন নেওয়া ও একজিমা বাড়তে পারে এমন সবকিছু থেকে বিরত থেকে একজিমার তীব্রতা রোধ করা সম্ভব।

কিভাবে ত্বকের যত্ন নিবেন

নিয়মিত গোসল করানো ও ময়েশ্চারাইযার ব্যাবহার

বাচ্চাকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে।  তবে সপ্তাহে কতবার গোসল করানো যেতে পারে তা ডাক্তারের সাথে কথা বলে জেনে নিন। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বাচ্চাকে প্রতিদিন গোসল করালে তা বাচ্চার একজিমা  হওয়া থেকে দূরে রাখতে বেশ সাহায্য করে।বাচ্চাকে গোসল করানোর জন্য পানি হালকা গরম করে নিতে হবে। খুব বেশি গরম করা যাবেনা,কারণ গরম পানি বাচ্চার ত্বক খুব তাড়াতাড়ি শুষ্ক করে ফেলে।

গোসল করানোর ক্ষেত্রে বাচ্চার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর এমন উপাদানে তৈরি কোন সাবান ব্যাবহার করা যাবেনা। এক্ষেত্রে আপনি নন-সোপ ক্লিঞ্জার ব্যাবহার করতে পারেন। বাচ্চাকে টাবে গোসল করালে সাবানের পানিতে বাচ্চাকে বেশিক্ষণ রাখবেন না। গোসল শেষে নরম ও পরিস্কার কাপড় দিয়ে আলতো করে চেপে চেপে ( বাচ্চার শরীর ঘষা যাবেনা) শরীরের অবশিষ্ট পানি শুষে নিতে হবে।

গোসলের পর বাচ্চার শরীরে আদ্রতা থাকা অবস্থায় পরিমাণ মত ভালো কোন ময়েশ্চারাইজার, ইমোলিয়েন্ট ক্রিম অথবা লোশন ব্যাবহার করতে হবে। ক্রিম ও মলমে অনেক বেশি ইমোলিয়েন্ট ও তুলনামুলককম পরিমাণে পানি থাকে যার কারনে একজিমা  আক্রান্ত বাচ্চার ক্ষেত্রে এই দুই ধরণের ময়েশ্চারাইজার বেশ কার্যকর।

ন্যাশভিলের ‘ভেন্ডারবিল্ট মেডিকেল সেন্টারের’ মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্মিথ বলেন ‘’আমি সব বয়সের বাচ্চাদের ক্ষেত্রেই ইমোলিয়েন্ট ব্যাবহার করার জন্য বলি’’। মাইকেল স্মিথ ইমোলিয়েন্ট ব্যাবহার করার পূর্বে পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দেন যেন তা বাচ্চার শরীরে কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে।

মাইকেল স্মিথের মতে বাচ্চার ত্বক একইসাথে হাইড্রেট ও মসৃণ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল ত্বকে আদ্রতা থাকা অবস্থায় ইমোলিয়েন্ট ব্যাবহার করা। যদিও ইমোলিয়েন্ট একজিমা আক্রান্ত স্থানগুলো সারিয়ে তুলে না তবে শরীরের অন্যান্য অংশে যেন একজিমা না ছড়াতে পারে সে জন্য ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুজ্জীবিত করে।

বাচ্চার শরীর ঠাণ্ডা রাখা

বাচ্চাকে হালকা ও পাতলা কাপড় পড়াতে হবে যেন বাচ্চার শরীর পর্যাপ্ত বাতাস পায়, যেমন- কটন কাপড়। যেকোনো ধরণের পশমি বা ভারী কাপড় পরানো যাবেনা (যা বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলে বাচ্চার অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে)। প্রয়োজনের চাইতে বেশী কাপড় দিয়ে বাচ্চাকে জড়িয়ে রাখা যাবেনা অন্যথায় বাচ্চার শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে।

সাবান ও ক্লিঞ্জার ব্যাবহার

বাচ্চাকে গোসল করানোর জন্য কোমলও সুগন্ধি ফ্রি সাবান অথবা যে সাবানগুলো সেন্সেটিভ স্কিন এর জন্য তৈরি সেগুলো ব্যাবহার করতে হবে। বাচ্চার কাপড় পরিস্কার করার ক্ষেত্রেও কোমলও সুগন্ধি ফ্রি ডিটারজেন্ট ব্যাবহার করতে হবে। ফ্যাব্রিক সফটেনার ব্যাবহার করা যাবেনা।

বাচ্চা যাতে বেশী চুলকাতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা

অনেক সময় বাচ্চা চুলকানি সহ্য করতে না পেরে ঘুমন্ত অবস্তায় আক্রান্ত স্থানে নিজের হাত দিয়ে চুলকায় বা বিছানার চাদরের সাথে মুখ ঘষাঘষি করে। যা বাচ্চার যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এমনকি ত্বকের জালা-পোড়া বেড়ে যেতে পারে। ফলে তা আরো খারাপ অবস্থার সৃষ্টি করে।

তাই বাচ্চার বিছানার চাদর যত সম্ভব কোমলও মসৃণ রাখার চেষ্টা করুন এবং বাচ্চার হাতের নখ সবসময় ছোট রাখবেন। বাচ্চা যদি অসুবিধাবোধ না করে সেক্ষেত্রে আপনি চাইলে বাচ্চার হাতে মোজা পড়িয়ে রাখতে পারেন।

খুব বেশি যন্ত্রণার ফলে বাচ্চার ঘুমাতে সমস্যা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। এক্ষেত্রে ডাক্তার এন্টিহিস্টামিন  লিখে দিতে পারেন যাতে বাচ্চার বিশ্রামে কোন সমস্যা না হয়।

র‍্যাশ হওয়ার সময় আরাম দেয়া

বাচ্চার শরীরে যখন র‍্যাশ দেখা দেয় বা ফোড়ার মত ফুলে ওঠে তখন আক্রান্ত স্থানে বরফ বা ঠাণ্ডা পানিতে রুমাল ভিজিয়ে কিছুক্ষণ চেপে ধরে রাখুন। এর পর সেখানে ময়শ্চারাইযার ব্যাবহার করুন। এভাবে দিনে বেশ কয়েকবার করুন।

একজিমা  চিকিৎসায় ব্লিচ এর ব্যাবহার

২০০৯ সালে ৬ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সের তীব্র একজিমা  আক্রান্তবা চ্চাদের উপর পরীক্ষার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করাহয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায় একজিমা আক্রান্ত বাচ্চাকে ব্লিচ মিশ্রিত পানিতে সপ্তাহে ২ বার ৫ থেকে ১০ মিনিট করে বসিয়ে রাখা (ভিজিয়ে রাখা)সাধারন পানিতে গোসল করানোর থেকে ৪ থেকে ৫ গুন বেশি কার্যকর। এ পরীক্ষায় বাচ্চাদের দুটি গ্রুপে ভাগ করে কিছু বাচ্চাকে ব্লীচ মেশানো পানিতে আর কিছু বাচ্চাকে সাধারণ পানিতে রাখা হতো। ব্লীচ মেশানো পানিতে রাখা বাচ্চাদের অল্পসময়ের মধ্যেই এই নাটকীয় উন্নতি দেখে গবেষকেরা তৎক্ষনাৎ পর্যবেক্ষণ বন্ধ করে সাধারণ পানিতে রাখা বাচ্চাদের ব্লীচ মেশানো পানিতে রাখার সিদ্ধান্ত নেন যাতে বাচ্চাদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়।

এই পরিক্ষার পর্যবেক্ষক এমেয় প্যালার (Amy Paller) ও Northwestern University Feinberg School of Medicine এর অধ্যাপকও চর্মরোগ বিভাগীয় প্রধান ওয়াল্টার জে. হ্যামলিন (Walter J. Hamlin) বলেন যে, মাধ্যমিক থেকে চরম পর্যায়ের একজিমায় আক্রান্ত বাচ্চার বাবা-মা রা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তাদের বাচ্চার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যাবহার করতে পারেন। বিশেষ করে যেসব বাচ্চার ত্বকে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে তাদের।

প্যালার এর নির্দেশনা অনুযায়ীপ্রতি গ্যালন পানিতে ২ চা-চামচ পরিমাণ ব্লিচ ভালভাবে মিশিয়ে তাতে বাচ্চাকে সপ্তাহে ২ বার গোসল করাতে হবে। গোসল করানোর ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে ১) ব্লিচ যেন ভালভাবে পানিতে মিশে যায়। ২) বাচ্চা যেন ব্লিচ মিশ্রিত পানি পান না  করে।

ন্যাশভিলের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ‘স্মিথ’ ‘এমেয় প্যালার’ এর সাথে সম্মতিরেখে বলেন ‘’ ব্লিচ মিশ্রিত পানিতে বাচ্চাকে গোসল করানোটা নিরাপদ ও সহজ’’ তিনি আরও বলেন ‘’ এটা মুলত ক্লোরিন মেশানো নতুন সুইমিং পুল এর পানির মতো যা পুলের পানির ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে। যেসব বাচ্চার বার বার একজিমার মত চর্মরোগ হয় তাদের ক্ষেত্রে এভাবে গোসল করানোটা খুবই উপকারী। শুধু তাই নয়, এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দমন করতেও বেশ কার্যকর যা একজিমার চিকিৎসাকে সহজ করে দেয়”।

তিনি ব্লীচ ব্যাবহারের পর বাচ্চার শরীরে পর্যাপ্ত পানি ঢালার জন্য বলেন যাতে বাচ্চার শরীরে ব্লিচ এর গন্ধ না থাকে। বাচ্চার চোখে ও মুখে যাতে ব্লিচ মেশানো পানি না ঢুকে সেক্ষেত্রে তিনি বাচ্চার মুখমণ্ডলে ব্লিচ মেশানো পানি ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য বলেন।

এইসব কিছুতেও কাজ না হলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

একজিমা  বাড়ায় এমন সব কিছু থেকে দূরে থাকা

  • তাপমাত্রার দ্রুত পরিবর্তন বাচ্চার একজিমা বহুগুণে বাড়াতে পাড়ে।তাই বাচ্চার শরীর যাতে হঠাৎ খুব গরম থেকে ঠাণ্ডা বা ঠাণ্ডা থেকে গরম হয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
  • পরিবেশগত অ্যালার্জেন  যেমন- মৌসুম অ্যালার্জেনের প্রভাবে বাচ্চার একজিমা  বিস্তার ঘটলে কিভাবে সেই পরিস্থিতি মানিয়ে নিবেন তা ডাক্তারের সাথে কথা বলে জেনে নিন।
  • বাচ্চাকে সিগারেটের ধোঁওয়া থেকে দূরে রাখুন।
  • স্ট্রেস এর সাথে একজিমার সম্পর্ক আছে।তাই কি কারণে বাচ্চার স্ট্রেস বাড়ছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন এবং তা প্রতিরোধে প্রয়োজন মত পদক্ষেপ গ্রহন করুন।

একজিমা  ও অ্যালার্জেনিক ফুড

একজিমা  আর অ্যালার্জি একই রোগ না। তবে কিছু বাচ্চার ক্ষেত্রে অ্যালার্জি জাতীয় নির্দিষ্ট কিছু খাবার একজিমার বিস্তারের কারন হয়ে দাড়ায় এমন কি একসময় তা বাচ্চার জন্য খুব খারাপ অবস্থার সৃষ্টি করে।

যদি দেখেন যে আপনার বাচ্চার নির্দিষ্ট কিছু খাবারের কারণে একজিমা দেখা দিচ্ছে সেক্ষেত্রে আপনার বাচ্চাকে ওইসব খাবার দেওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। সচরাচর গরুর দুধ, ডিম, মাছ, সয়া ও বাদামের ক্ষেত্রে এমনটা হয়ে থাকে।

বাচ্চার দৈনিক খাবার তালিকা থেকে এবংআপনার খাবারের তালিকা থেকে (যদি আপনি বুকের দুধ খাওয়ান)  সন্দেহজনক খাবার একবার একটি করে বাদ দিয়ে ২ সপ্তাহের জন্য পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পারেন। যদিও এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া,তবে এভাবে আপনি বুঝে উঠতে পারবেন যে ঠিক কোন খাবারের কারণে বাচ্চার একজিমা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাবা-মা দের প্রতি বিশেষ দ্রাস্টব্যঃআপনার বাচ্চা যদি ফর্মুলা দুধ খায় এবং যদি তার একজিমা থাকে তাহলে ডাক্তার তা পরিবর্তন করে হাইপোঅ্যালার্জেনিক ফর্মুলা দেওয়ার জন্য বলতে পারেন। যদিও এটা নিশ্চিত সমাধান নয় তবে একজিমা  প্রতিরোধে চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে গর্ভবতী মা প্রোবায়োটিক (এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া যা পেটের নানা ধরণের অসুখ হওয়া থেকে দূরে রাখে ও খাদ্য হজম করতে সাহায্য করে) যুক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহনের ফলে তা নবজাতকের শরীরে একজিমার বিস্তারে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যেসব বাচ্চা বংশগত ভাবে একজিমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

আরও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, একজিমায় আক্রান্ত বাচ্চা প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার গ্রহনের ফলে তা বাচ্চার শরীরে একজিমার প্রকটতা কমাতে দারুন ভাবে কাজ করে।

মনে রাখবেন, বাচ্চার শরীরে একজিমা বিস্তারের কারণ গুলোর মধ্যে শুধুমাত্র ১০% খাবারের কারনে হয়ে থাকে। খাবারের পাশাপাশি একজিমা প্রতিরোধে বাচ্চারত্বকের যত্ন ও অন্যান্য বিষয়গুলোর উপর সতর্ক থাকতে হবে।

বাচ্চার একজিমা না কমলে কি করবেন?

প্রথমত আপনার বাচ্চার ডাক্তার অথবা কোন শিশু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন। উপড়ে আলোচিত পদ্ধতিগুলো চেষ্টা করেও বাচ্চার একজিমা  নাকমলে ডাক্তার সাময়িক সময়ের জন্য মৃদু স্টোরোয়েড নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। যা আপনি যেকোনো ওষুধের দোকান থেকে কিনতে পাবেন।

মৃদু স্টোরোয়েডেও কাজ না হলে ডাক্তারএকটু বেশি শক্তিশালি স্টোরোয়েড লিখে দিতে পারেন। আক্রান্ত বাচ্চার ক্ষেত্রে একজিমা চিকিৎসা হিসেবে স্টোরোয়েড ক্রিম অথবা মলম কখনো কখনো বিস্ময়করভাবে কাজ করে।

আপনি জেনে খুশি হবেন যে, এখনো গবেষকেরাএকজিমা  প্রতিরোধে নানা ধরণের নতুন নতুন ওষুধ তৈরি করছেন। সুতরাং আপনার বাচ্চার একজিমা না কমলে আপনার ডাক্তারকে বলুন যেন উনি আপনাকে সবসময় নতুন কোন চিকিৎসা, ড্রাগ বা ওষুধের ব্যাপারে আপডেটেড রাখেন।

বাচ্চার যদি জ্বর বা অন্য কোন ইনফেকশন এর লক্ষণ দেখা দেয় এবং আক্রান্ত জায়গা যদি গরম অনুভূত হয় বা তা থেকে কিছু নির্গত হয় বা হলুদ আবরণ দেখাযায় তবে ডাক্তারকে জানাতে হবে।

আপনার বাচ্চা যদি স্কুলে যায় সেক্ষেত্রে তার ক্লাস টিচার অথবা আয়াকে বাচ্চার একজিমা  সম্পর্কে আবগত করে রাখা ভালো। তাদেরকে ভালমতো বুঝিয়ে দিতে হবে যে একজিমা  কোন সংক্রামণ না, অন্যথায় আপনার বাচ্চাকে এটা নিয়ে উত্যাক্ত করা হতে পারে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.