কিভাবে আপনার শিশুকে সুখী হতে শেখাবেন

আপনার শিশু কিসে সুখী হয় তা জেনে আপনি হয়তো অবাক হবেন। শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে আপনি আপনার শিশুকে সুখী বানাতে পারেন না, বরং তাঁকে সুখী হতে শেখাতে পারেন।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও The Childhood Roots of Adult Happiness-এর লেখক এডওয়ার্ড হেলোওয়েলের মতে, অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেওয়া শিশুরা, যেমন- যাদের প্রচুর খেলনা কিনে দেয়া হয় সব ধরণের দুখ কষ্ট থেকে দুরে রাখা হয়  তারা টিন এজ বয়সে খুব বিষন্ন, রুঢ়প্রকৃতির ও নিরানন্দ হয়।

হেলোওয়েল বলেন, শিশুরা ভবিষ্যতে সুখী হবে কিনা তা বাইরে থেকে বোঝা যায়না, এটা সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি শিশুদের মানসিক বিকাশের উপরও জোড় দেন যার উপর সে সারাজীবন নির্ভর করতে পারবে।

তবে সুখবর হচ্ছে, আপনার শিশুর মানসিক বিকাশ সাধনে আপনাকে শিশু মনস্তত্বের বিশেষজ্ঞ হতে হবে না, বরং সে জীবনের বন্ধুর পথ হতে এই শিক্ষা নিতে পারে। যে কোন বাবা মা ধৈর্য্য ও নমনীয়তার সাথে শিশুর সুখী জীবনের ভিত্তি স্থাপন করতে পারেন ।

 

আপনার শিশুর আবেগগুলো বুঝতে শিখুন

৬ মাস বয়সে আপনার শিশু যখন আরো বেশী মিশতে শিখে, যখন সে নবজাতক হতে কিছুটা পরিনত তখন কিছু যদি তাঁকে সন্তুষ্ট কিংবা বিচলিত করে তা সে প্রদর্শন করতে দক্ষ হয়ে উঠে।  তার মুখ আলোকিত হয় এক হৃদয় নিংড়ানো হাসিতে যখন আপনি তার রুমে প্রবেশ করেন অথবা তার প্রিয় খেলনাটি যদি কেউ সরিয়ে নেয় তখন সে কাঁদতে তাকে। আপনি সম্ভবত লক্ষ্য করবেন শিশুর কান্না ও হাসির মাঝখানের সময়ের  ব্যবধানটুকুও খুবই অল্প।

শিশুর আবেগগুলো খুবই পরিবর্তনশীল কারণ তার সেরিব্রাল করটেক্স এখনো পরিপূর্ণভাবে বিকশিত নয়, যা তার স্বয়াক্রিয় প্রতিক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রন করে। সামনের বছর গুলোতে যখন  তার সেরিব্রাল করটেক্স আরো বিকশিত হবে তখন সে তার আচরণ ও মেজাজ আরো বেশী নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হবে।

যদি আপনি লক্ষ্য করেন আপনার শিশু হাসির চেয়ে কান্নায় বেশী সময় অতিবাহিত করছে, এর কারণ হছে আপনার শিশুর কোন কারণে অসুবিধা হচ্ছে। চেহারায়  কান্না কিংবা যন্ত্রনার অভিব্যাক্তির কিছু কারণ আছে। এটা এক ধরণের  সংকেত  তাঁর সেবাদানকারীদের জন্য, যার মানে হলো তার কিছু সমস্যা হচ্ছে এবং তা ঠিক করা প্রয়োজন।

কিন্তু আপনি কিভাবে বুঝতে পারবেন আপনার শিশু যন্ত্রনায়, ক্ষুধায় নাকি বিরক্তিতে কান্না  করছে।  শিকাগোর Rush-Presbyterian-St. Luke’s Medical Center এর মনোরোগবিদ্যার  অধ্যাপক পল সি হলিনগার বলেন, একজন সংবেদনশীল  মা, শিশুর কান্না ও চেহারার অভিব্যাক্তির ভিন্ন ভিন্ন ধরন আলাদা ভাবে বুঝতে পারেন। শিশুর ভ্রু, মুখ  ও কণ্ঠ সবকিছুই শিশুর সংকেত দেওয়ার মাধ্যম।

উদহারনস্বরূপ যখন আপনার শিশু শারিরীক  যন্ত্রানায় থাকে তখন সে এক কোনায় ঠোঁট উল্টে এবং ভ্রু মধ্যেখানে ধনুকের মতো বাঁকা করে কান্না করবে এবং যখন সে রাগ করে তখন তাঁর মুখ লাল হয়ে উঠবে, ভ্রু নীচের দিকে নেমে যাবে, চোয়াল দৃঢ় হবে এবং খুব চিৎকার করে কান্না করবে।

তবে অনেকেই হয়তো বুঝতে পারেন না যে সবসময় শিশুর রাগান্বিত হওয়ার কারণ তার শারীরিক অস্বস্তি নয়। যদি জোরে কোন শব্দ হয় বা উজ্জ্বল আলো তার পছন্দ না হয় তবে সে তা বিভিন্ন ভাবে জানান দেবে। যদি তারপরও ঘরের আলো আর শব্দ বাড়তে থাকে তবে তা বিরক্তি বা রাগে পরিণত হবে।

মনোবিজ্ঞানী ও New York University School of Medicine এর Anxiety and Mood Disorders Institute এর সহকারী  পরিচালক কেরী মাসিয়া ওয়ারনার সতর্ক করেন শিশুদের মুড অতিরিক্ত বুঝতে চাওয়ার প্রয়োজন নেই । তিনি বলেন “ শিশুকে সুখী শিশু কিংবা দুঃখী শিশু বলা যাবেনা। শিশুদের সন্তোষ ও অসন্তোষ নির্ভর করে তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর।”

বস্তুত নবজাতকদের যখন আনন্দিত দেখায় তখন যে সব সময় তারা আনন্দিত তা নয়। আবার তারা যখন চিৎকার করে কান্না করে তখনো যে তারা খুব আবেগ তাড়িত হয়ে কান্না করছে তাও নয়। ইলিয়ট বলেন ৬ থেকে ৮ মাস বয়স পর্যন্ত আপনার শিশুর মস্তিস্কের অনুভূতির অংশ কাজ করা শুরু করেনা।  যখন সে তার আবেগগুলো অনুভব করা শুরু করবে তখন তা তার চেহারায় আরও প্রকটভাবে ফুটে উঠবে।

আপনার শিশুর অসন্তোষ প্রকাশ করার নিজস্ব পদ্ধতি থাকতে পারে।  কিছু শিশু হয়তো কান্না করে ও অন্যরা হয়তো নিজেকে গুটিয়ে রাখে। যখন আপনি আপনার শিশুর মেজাজ বুঝতে পারবেন তখন আপনি তার ভালো না থাকার লক্ষণগুলো আরো সহজে ধরতে পারবেন।

 

আপনার শিশুর সাথে আনন্দ করুন

যদিও একটি রঙ্গিন খেলনা কিংবা কোন খাবারের প্রথম স্বাদ আপনার শিশুর মুখে সহজে হাসি নিয়ে আসতে পারে, কিন্তু আপনি হলেন আপনার শিশুর আনন্দের প্রথম চাবিকাঠি।

আপনার শিশুর সাথে খেলা করুন ও সংযোগ গড়ে তুলুন। যদি আপনি আপনার শিশুর সাথে আনন্দ করেন তবে সেও আনন্দ পাবে। যদি আপনি একবার তার সাথে সংযোগ তৈরী করতে পারেন তবে তাই হবে সর্বশ্রেষ্ট প্দক্ষেপ যা ভবিষ্যতে আপনার শিশুকে সুখী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।

খেলাধূলা আনন্দের, কিন্তু তাছাড়াও খেলাধূলা শিশুর দক্ষতা বিকাশ ও ভবিষ্যৎত সুখের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। যখন সে বড় হয়ে উঠবে তখন খেলাধূলা তাকে বুঝতে সাহায্য করবে আসলে সে  কি করতে পছন্দ করে। যেমন ব্লক দিয়ে কিছু তৈরী করা, রান্না ঘরের উপাদান দিয়ে কোনো  মিশ্রণ তৈরী করা, জলরং দিয়ে  রং করা এই সব কিছুই তাকে তার পছন্দের কাজটি খুঁজে নিতে সাহায্য করবে।

[ আরও পড়ুনঃ বাচ্চার সাথে সুন্দর সময় কাটানোর ১০ টি টিপস]

আপনার শিশুকে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে সাহায্য করুণ

সাধারণত সুখী মানুষ তারা, যারা জীবনে কোন কাজে দক্ষতা আয়ত্ত করতে পারে। উদাহারণস্বরূপ যখন আপনার শিশু মুখে প্রথম চামচ নিতে শিখে কিংবা নড়বড়ে ভাবে সে প্রথম প্রদক্ষেপ দিতে শিখে, তখন সে তার ভুল থেকে সে শিক্ষা নিয়ে, অধ্যবসায় ও নিয়মানুবতির্তার মাধ্যমে নিজস্ব চেষ্টায় অর্জিত এসব দক্ষতায় খুবই আনন্দ অনুভব করে। তার এই সফলতার জন্য সে অন্যদের কাছ হতে বাহবা পায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে যখন আবিস্কার করতে পারে এখন তার জীবনে তার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আছে এবং যদি সে চেষ্টা করে সে তা করতে পারে। দক্ষতা নিয়ন্ত্রনের এই অনুভব তার ভবিষ্যত সুখের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

বাচ্চার স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন

পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং শরীরচর্চা প্রত্যেকটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। বাচ্চাকে তার শক্তি খরচ করার সুযোগ দিন। শূন্যে পা ছোড়া, হামাগুড়ি দেয়া, সারাক্ষণ ঘরের এ মাথা থেকে ও মাথা ঘোরাঘুরি করা, এসবই তার মন ভালো করতে সাহায্য করবে।

বাচ্চার খাবারের দিকে নজর রাখুন। কোন একটি নির্দিষ্ট খাবার কোন বাচ্চা খুশি হলেও অন্য বাচ্চার তাতে অসুবিধা হতে পারে বা কান্নাকাটি করতে পারে। যদি আপনি বুকের দুধ খাওয়ান তাহলে আপনার খাবারের কারণেও বাচ্চার অসুবিধা হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখুন। ফুড অ্যালার্জি বা খাবার সহ্য না হওয়ার কারণেও বাচ্চার আচরণ এবং মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে।

 

শিশুকে নিজে নিজে শিখতে দিন

প্রথম ছয় সপ্তাহ বয়সে নবজাতকের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়া পিতা মাতার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে “আপনি আপনার নবজাতককে নষ্ট করতে পারেন না। তবে ৬ মাস বয়সের পরও  যদি তার ছোট থেকে ছোটতর সব সমস্যায় আপনি ছুটে যান তবে আপনি তাকে তার শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছেন”

তারা বলেন “ আপনি যদি দিনের অনেকটা সময় তার প্রতি মনোযোগ দেন এবং তাকে সময় দেন তবে খুব বেশি জরুরী না হলে তার কান্নার সময় তা বুঝতে চেষ্টা করুন এবং যদি মনে হয় তার কোন শারীরিক অসুবিধা হচ্ছেনা তবে তাকে কিছুটা কান্না করার সময় দিন।” আপনি যদি তার প্রতিটি কান্নাতেই অস্থির হয়ে ওঠেন তবে এটাকেই শিশুরা পরবর্তীতে আপনাকে জিম্মি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করতে পারে।

“আমি তো একটি সুখী শিশু গড়ে তুলতে চাই! আমার কি উচিত নয় সবকিছু একবারে ঠিক করে দেওয়া?”  বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এটা সবচেয়ে বড় ভুল যা বেশিরভাগ বাবা মাই করেন।

বাবা মায়েরা চান বাচ্চার সবকিছু ঠিকঠাক রেখে তাদের সবসময় সুখী রাখতে। কিন্তু এটা বাস্তবসম্মত নয়। বাচ্চার সব সমস্যা সমাধানে হামলে পড়া উচিত নয়। মাসিয়ে ওয়ারনার বলেন “শিশুদের কিছু যন্ত্রনা ও অসন্তোষ সহ্য করা শিখতে হয়। নিজে নিজে প্রতিকূল অবস্থার সাথে লড়াই করে বের হতে তাকে সুযোগ দিন কারন এটা তাকে শিক্ষা দেয় কিভাবে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে হয়”।

প্রথম বছর বয়সে আপনার শিশু বসতে, হামগুড়ি দিতে, কোনকিছু ধরতে, হাঁটতে, বলতে, এমন অনেক কিছু করতে শিখছে। প্রত্যেক সফলতা তার জন্য আস্থা ও সন্তুষ্টতা নিয়ে আসে। তাই তার হাতের  ঝুমঝুমি পরে গেলে তা তুলে দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করবেন না। কিংবা যে খেলনার পুতুলটার কাছে পৌছানোর জন্য সে লড়াই করছে তাকে তা করতে দিন ও উৎসাহ দিন যাতে করে সে কাজটি নিজে নিজে করতে পারে।

হেলোওয়েল শিশুদের এমন অভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে একমত। যদিও তা কঠিন ও হতাশার হয় তারপরও। এটা তার মানসিক শক্তি দৃঢ় করে যা তাকে সুখী জীবনের দিকে চালিত করে। একটি ৭ মাসের শিশুর  হামাগুড়ি দেওয়ার চেষ্টা হোক বা ৭ বছরের শিশুর অঙ্ক করতে হোঁচট খাওয়া, এইসব প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করতে করতেই সে আরও ভালোভাবে গড়ে উঠবে এবং সফলতা অর্জন করতে পারবে।

 

আপনার শিশুকে দুঃখিত ও উত্তেজিত হওয়ার সুযোগ দিন

যখন আপনার শিশু আরো বড় হবে আপনি তাকে তার অনুভূতিগুলো মুখে প্রকাশ করতে উৎসাহ দিন। এমনকি তার কথা বলতে শেখার আগেও আপনি বিভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করা মুখের ছবি দেখিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন সে এখন কোন ছবিটার মত বোধ করছে।

ছোট শিশুরা “আনন্দ” বা “রাগ” এর মত  শব্দগুলো খুব তাড়াতাড়ি ধরতে পারে। যখন তারা তাদের আবেগগুলোকে শব্দ দিতে শুরু করে তখন তাদের অনুভূতি বুঝতে পারা ও পরিচালনা করা সহজ হয়।

আপনার শিশুর নেতিবাচক অনুভূতিগুলোতে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত নয়। এটা খুব স্বাভাবিক যে কিছু পরিবেশে শিশুরা অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, বিচলিত হয় ও গুটিয়ে যায়,  কিন্তু এর মানে সে অসুখী তা নয়।

আপনি লক্ষ্য করবেন আপনার শিশুর বৃদ্ধির জন্য তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যখন আপনি দেখেন কারো জন্মদিনের উৎসবের আপনার শিশু এক কোণায় বিরক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আপনি স্বভাবিক ভাবে তাকে অন্যাদের সাথে অংশগ্রহনের জন্য জোড়াজুড়ি করবেন। কিন্তু মাঝে মাঝে তাকে মন খারাপ করার  সুযোগ দেওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ছেলে মেয়েরা কোথাও প্রত্যাখাত হলে, কোন জন্মদিনের উৎসবের নিমন্ত্রন না পেলে, কিংবা সে কিছু চেয়ে না পেয়ে কান্না করলে কিছু কিছু বাবা মা সাথে সাথে অস্থির হয়ে ওঠেন।

শিশুদের এটা জানা উচিত কিছু কিছু সময় অসুখী হওয়া বেঠিক নয়। এটা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদি আপনি তার সব অসন্তোষ বা দুঃখ  দুর করার জন্য মরিয়া হয়ে যান তবে হয়তো আপনি তাকে এই বার্তা দিচ্ছেন যে মন খারাপ করা বা দুঃখি হওয়া উচিত নয়। আপনার শিশুকে দুঃখবোধসহ সকল ধরণের অনুভুতির অভিজ্ঞতার অর্জনের সুযোগ দিন।

 

আপনার শিশুকে ভাগাভাগি করে নিতে ও সহানুভূতিশীল হতে শেখান

গবেষণা বলে যারা জীবনের অর্থ খুঁজে পায় তারা খুব কম সময় বিষন্নতা অনুভব করেন। যখন আপনার শিশু আরো পরিনত হবে তখন তাকে শেখাতে পারেন অন্যকে সাহায্য করলে কতটুকু মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়, সেটা যতই ছোট কাজ হোক না কেন।

এমনকি ১০ মাস বয়সে, দেওয়া ও নেওয়ার আনন্দ আপনি আপনার শিশুকে শেখাতে পারেন। আপনি যদি তাকে একটুকরো কলা দেন তবে তাকেও আপনাকে একটু খাইয়ে দেয়ার জন্য উৎসাহ দিন। যদি আপনি তার চুল আঁচড়িয়ে দেন তাবে তাকে সুযোগ দিন আপনার চুল আঁচড়ানোর। তাকে দেখান তার হৃদতা আপনাকে কতটা আনন্দিত করে।

এমন ছোট একটা মুহুর্ত অন্যদের প্রতি তার সংবেদনশীলতা বিকশিত করতে পারে। বাচ্চা কিছুটা বড় হলে তাকে গৃহস্থালির কিছু ছোট ছোট কাজ যেমন নিজের নোংরা কাপর ঝুড়িতে রাখা কিংবা টেবিল ঠিক করা এমন কাজ করতে দিন। এতে করে সে কোন কিছুতে অবদান রাখার আনন্দ অনুভব করতে শিখবে।

 

আপনার শিশুর জন্য একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠুন

গবেষণায় দেখা যায় আপনি আপনার স্বভাব আপনার শিশুর মধ্যে সঞ্চালন করতে পারেন। এটা শুধুমাত্র জিনের মাধ্যমে নয় বরং আপনার নিজস্ব ব্যবহার ও শিশু প্রতিপালন পদ্ধতি দিয়েও সম্ভব।ভালো হোক আর খারপ হোক শিশু তাদের পিতা মাতার মেজাজ ধরতে পারে। এমন কি ছোট শিশুরা তাদের পিতা মাতাকে অনুকরণ করে।

অন্যভাবে বলতে গেলে আপনি যখন হাসেন আপনার শিশুও হাসে। এবং তার মস্তিস্ক এভাবে আপনার সাথে সংযুক্ত হয়। যদি আপনার শিশু কলিক হয়, অর্থাৎ কোন কারণে যদি আপনার শিশু ঘন্টার পর ঘন্টা কান্না করে তবে তাকে শান্ত করার জন্য আপনি নিজে শান্ত থাকুন। আপনি অশান্ত হয়ে উঠলে সেও আরও বেশি অশান্ত হয়ে যাবে।

বাসায় একজন  নবজাতক থাকলে ক্লান্ত, বিষন্ন ও  কিছুটা নিরানন্দ লাগাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি যদি মনে করেন আপনি সবসময় যন্ত্রনাও নিরাশার মধ্যে আছেন তবে সে ক্ষেত্রে আপনার সাহায্য নেয়া উচিত।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment