বয়স অনুযায়ী বাচ্চার খেলনা কেমন হওয়া উচিত

শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। আর অনুকরণটা তখনই রপ্ত হয় যখন পূর্ণ মনোযোগ থাকে। আপনার বাচ্চা যখন লেগো খেলনা দিয়ে একটা কিছু বানায় অথবা আপনার ছুঁড়ে দেয়া বলটা যখন লুফে নেয় তখন কি ওর মনোযোগী চাহনিটা লক্ষ্য করেছেন; আদতে খেলনা বাচ্চাদের জন্যে শুধুই খেলনা নয় বরং একেকটা খেলনা একেক ধরনের শিক্ষা বলা যায়।

আজকের আলোচনায় আমরা বয়সভেদে বাচ্চাদের খেলনাসামগ্রী ছাড়াও কোন খেলনাটা বাচ্চাদের জন্যে আনন্দদায়ক, কোন খেলনাটা বাচ্চাদের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে, ওদের সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা এবং মস্তিষ্কের বিকাশের সহায়তা করে; সেসব নিয়েও জানবো।

১ বছর পর্যন্ত বাচ্চারা কিভাবে খেলে

বাচ্চাদের জন্মের প্রথম বছরের খেলাটা মূলত অনুসন্ধান বা পরীক্ষামূলক ব্যাপার বলেই অভিহিত করা যায়। বাচ্চারা চারপাশের জগত সম্পর্কে জানতে নিজেদের অনুভূতি এবং ইন্দ্রিয়গুলোর ব্যবহার করে থাকে; বস্তুটা কি নরম নাকি শক্ত? আঠালো নাকি খসখসে? আমি যদি হাত থেকে এটা ফেলে দেই তাহলে এটা কি করবে? অথবা যদি আমি এটা মুখে দেই? তাই বাচ্চাদের বেশীরভাগ খেলাই “স্বাদ্গ্রহণ” অথবা বস্তুটায় মুখ লাগানো, ঝাঁকানো, আছাড় মারা অথবা ছুঁড়ে ফেলা সম্বন্ধীয় হয়ে থাকে।

তার খেলাটা আরো বেশী সমন্বিত এবং জটিল হয়ে উঠে যখন তার গতির দক্ষতার বিকাশ ঘটে। যেমনঃ

  • চার মাস বয়সী বাচ্চারা, ঝুনঝুনি জাতীয় খেলনার দিকে হাত বাড়াতে এবং মুঠি করে ধরতে শুরু করে।
  • ছয় বা সাত মাস পার হয়ে গেলে, বাচ্চারা খেলনাটা একহাত থেকে আরেক হাতে নিতে পারে।
  • নয় মাসের সময়কালে, বাচ্চারা দু আঙ্গুলের সাহায্যে চিমটির মত করে (pincer grasp) ছোট খেলনা তুলতে শিখে যায়।

এই সময়টাতে, খেলাটা হচ্ছে শুধুমাত্র ওর নিজস্ব সক্রিয়তা, তবে অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে পাশাপাশি খেলা এবং অনুকরন সম্পর্কীয় কার্যকলাপ সমূহ এক বছরের শেষের দিক থেকে শুরু হয়।

ঠিক এই সময়, আপনিই হচ্ছেন আপনার সন্তানের সবচাইতে পছন্দের খেলার সাথী। আপনার সাথে খেলা এবং পারস্পরিক ক্রিয়াগুলো আপনার সন্তানকে ভাষা, সামাজিক সম্পর্ক এবং কারণ আর ফলাফল সম্পর্কে শিখাতে সহায়তা করবে। একবার যখন বাচ্চারা বুঝতে শুরু করে যে পরিবেশের মধ্যে কোনটা কিসের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং সেগুলোর স্বাদ, গন্ধ, অনুভূতি এবং শব্দ কেমন, বাচ্চারা তখন বিকাশের পরবর্তী ধাপের জন্যে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত যখন তারা ধীরে ধীরে বুঝতে  শিখে কোন জিনিসটা কিভাবে কাজ করে।

১ বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য স্মার্ট খেলনা

নার্সারি মোবাইল (ঝুলন্ত খেলনা বিশেষ) – শিশু শুয়ে থাকা অবস্থায় তার মাথার উপরে ঝুলানো থাকে যা ক্রমাগত দুলতে থাকে ফলে শিশুর দৃষ্টিশক্তি এবং মনোযোগী মনোভাবের বিকাশ ঘটে।

নার্সারি মোবাইল

আয়না – সাধারণত, আপনার সন্তান আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবিতে মুখাবয়ব এবং অভিব্যক্তি দেখে যারপরনাই অবাক হবে। সময়ের সাথে সাথে, আপনার সন্তান বুঝতে পারবে যে লোল ফেলা, হাসিখুশী বাচ্চাটা আসলে ওর নিজেরই প্রতিচ্ছবি। একবার এটা ঘটলে, বাচ্চারা নিজেদের সম্পর্কে বেশ সচেতন হয়ে উঠবে, যা ওদেরকে আরো আত্মানুসন্ধানী করে গড়ে তুলবে যার ফলে ওরা নিজেদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে শিখবে এবং সেগুলো কোনটা কোথায় আছে সে সম্পর্কে জানবে।

রিং স্ট্যাকিং Ring stack (রেইনবো সার্কেল রিং সেট) – এটা হচ্ছে এমন একটা খেলনা যেটাতে বিভিন্ন রঙের আর আকারের রিংগুলোকে একটা স্ট্যান্ডের মধ্যে মাপ অনুযায়ী রাখতে হয়। প্রথমত, বাচ্চারা রিংগুলোকে ধরে এবং মুখে লাগিয়েই বেশী আনন্দ পায়। পরে, ওরা ওদের পেশীসঞ্চালন সংক্রান্ত দক্ষতা অর্জন করার পর রিংগুলোকে স্ট্যান্ডের ভেতরে মাপ অনুযায়ী রাখতে শেখে। এমনকি বাচ্চারা এই খেলনা দিয়ে রঙ এবং সংখ্যা সম্পর্কেও জানতে শিখে যখন আপনি রিংগুলো স্ট্যান্ডে রাখার সময় গুনতে থাকেন এবং রঙের নাম বলেন।  

রিং স্ট্যাকিং

পুশ-পুল খেলনা (ঠেলে চালাতে হয় এমন গাড়ি বিশেষ) – আপনার ছোট্ট সন্তান যখন বিছানা ছেড়ে হাঁটা শিখতে শুরু করবে তখন এই খেলনাটা ওর ভারসাম্য এবং পেশীসঞ্চালনে আরো বেশী কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। শিশুরা যত বেশী এই খেলনা নিয়ে খেলবে, তাদের পেশীগুলোও তত তাড়াতাড়িই ওদের দৌড়ঝাঁপের জন্যে তৈরী হয়ে উঠতে থাকবে। পরবর্তীতে, শিশু যখন হাঁটতে শিখে যায় তখন সেগুলো ব্যবহার করে নিজেদের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

পুশ-পুল খেলনা

[ আরও পড়ুনঃ বেবি ওয়াকার কি শিশুদের জন্য নিরাপদ? ]

১ থেকে ৩ বছরের বাচ্চারা কিভাবে খেলে

শিশুরা অতি দ্রুতই খেলনাগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠে। লেগোর ব্লকগুলোকে একত্রে জমা করতে, খেলনা ফোন কানে নিয়ে বিড়বিড় করতে, অথবা ‘বড় বাচ্চা’দের কাপে করে পানি খেতে পছন্দ করে। অনুকরণের খেলাটা শুরু হয় মূলত এখন থেকেই।

আপনার সন্তান হয়তো নিজের বাচ্চা পুতুলটাকে নিয়ে রাতে বিছানায় ঘুমাতে যেতে পারে অথবা খেলনা রেলগাড়ি চালিয়ে মুখ দিয়ে ‘ঝিক ঝিক’ করে শব্দ তুলতে পারে। এভাবেই আপনার সন্তান বুঝতে শিখে যে প্রত্যেকটা বস্তুরই কোন না কোন উদ্দেশ্য আছে, আর মূলত এটাই হচ্ছে প্রি-স্কুলের ভিত্তি।

এছাড়াও, আপনার সন্তান এখন বিভিন্ন বস্তুর আকার-আকৃতি এবং রঙের ভিন্নতা উপলব্ধি করা শুরু করবে। তাই, ওর হাতের খেলনা হতে হবে উজ্জ্বল, রঙিন এবং আনন্দদায়ক। দুই বছর বয়সের মধ্যে, বেশীরভাগ শিশুরাই বলকে লাথি মারতে শিখে, রংপেন্সিল দিয়ে হিজিবিজি আঁকা, এবং চার অথবা তারও বেশী ব্লক দিয়ে লেগোর বিল্ডিং বানাতে শিখে যায়। আর তিন বছর বয়সেই, ছোটখাটো পাজল মেলাতে পারে এবং তিন চাকার সাইকেলে প্যাডেলে মারতে পারে।

একই জিনিশের পুনরাবৃত্তি দেখে দেখে ছোট্ট মানুষটি বুঝতে এবং জানতে শিখে যে ওর চারপাশের জগতটার অন্তত অল্প কিছু জিনিশের উপর ওর নিজের নিয়ন্ত্রণ আছে।

১ থেকে ৩ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য স্মার্ট খেলনা

বল– বলটাকে বাউন্স খাওয়ানো, গড়িয়ে দেওয়া, হাতে ধরা অথবা ছুঁড়ে মারা যাই করুক না কেন- এটা ওর পেশীসঞ্চালন সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরো বেশী সহায়তা করে, হাত আর চোখের সমন্বয়ের পাশাপাশি বুদ্ধিরও বিকাশ ঘটায়।

শেপ-সর্টিং খেলনা Shape-sorting toys (বিভিন্ন আকারের ব্লক থাকে যেগুলোকে নির্দিষ্ট ফাকা স্থানে বসাতে হয়) – পেগবোর্ড পাজল, নেস্টিং কাপ বা ব্লক, এবং বিভিন্ন আকৃতির ব্লকের মাপে ফুটো করা বালতিগুলো দিয়ে চোখ-হাতের সমন্বয় ছাড়াও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

শেপ-সর্টিং খেলনা

মেকানিক্যাল খেলনা Mechanical toys (বিভিন্ন যন্ত্রপাতি খোলা অবস্থায় থাকে সেগুলোর ব্লক মিলিয়ে জোড়া দেয়া হয়) – পপআপ খেলনা অথবা বিজি বক্স যেটাতে মেকানিক্যাল বিভিন্ন যন্ত্রাংশ থাকে; এইসব খেলনাগুলো পেশী সঞ্চালন সংক্রান্ত দক্ষতা, সমস্যা সমাধান এবং কারণ ও এর প্রভাব সম্পর্কিত জ্ঞান দিয়ে থাকে।

রোল প্লে খেলনা (বিভিন্ন পেশার ইউনিফর্ম ও যন্ত্রপাতি দিয়ে অভিনয়) – রান্নাঘরের জিনিসপত্র, ডাক্তারি সেট এবং গলফ খেলার সরঞ্জামসমূহ দিয়ে খেলাধুলা করা মূলত বাচ্চারা বড়দের অর্থাৎ আপনাকে অথবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দেখেই শিখে। পুতুল এবং বিভিন্ন প্রাণীর খেলনা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলা খেলে যার মধ্যে পুতুলের বিয়ে বা টেডি বিয়ারের জন্যে চা-পার্টি ইত্যাদি, এবং সামাজিকতা আর মানসিকতা বিষয়ক ব্যাপারগুলোর উন্নতি ঘটে যখন ওরা নিজেদের পছন্দের জিনিসগুলোর যত্ন নেয়া শুরু করে।

প্রিস্কুলার বাচ্চারা কিভাবে খেলে

১ বছর পর্যন্ত বাচ্চারা নিজেদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে খেলনা বস্তুর অন্বেষণ করে। এর পরের ধাপে বাচ্চারা বের করে কিভাবে সেগুলো কাজ করে। কিন্তু এখন, প্রিস্কুলার হিসেবে, ওরা খেলনা এবং অন্যান্য বস্তুর ব্যবহার করে নিজেদের সঙ্কল্পিত উদ্দেশ্যের জন্যে, যদিও ওরা অবশ্য অন্য কিছু কল্পনা করলেও করতে পারে। কফি টেবিলটাই হতে পারে গোপন আস্তানা যদি সেটা কিছু দিয়ে ঢেকে দেয়া যায়। আবার কাদামাটি দিয়ে পিজার মডেলিং করে আপনাকে স্বাদ নেয়ার জন্যে বলতেও পারে।

একজন প্রিস্কুলারের কাছে দুনিয়াটা হচ্ছে সীমা ছাড়া যাদুর দুনিয়া-এবং প্রিস্কুলাররা এইসব ব্যাপারে দক্ষই হয়ে থাকে। এই বয়সের বেশীরভাগ বাচ্চারাই মনে করে ওদের ‘বিশেষ ক্ষমতা’ আছে যা দিয়ে ওরা দানবের সাথে যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে, অথবা একজন রাজকন্যায় পরিণত হতে পারবে, অথবা অন্য কোন কিম্ভুতকিমাকার জন্তুতে।

প্রায়শই, প্রিস্কুলার নিজের ফ্যান্টাসিতে আপনাকেও আমন্ত্রণ জানাবে এবং আশা করবে আপনিও যেন খেলেন। এই সময়ে অবশ্য কাল্পনিক বন্ধুরও উদয় হতে পারে। এই ধরনের ফ্যান্টাসি খেলা শিশুদের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেননা এটা ওদের ভয়, উদ্বেগ, আশা এবং স্বপ্নগুলো নিয়ে কাজ করে।

চারিদিকের পারিপার্শ্বিকতা আরো বড় মঞ্চের কাজ করে, তাই ‘বাবা, মা, দেখ!’ এই কথা শোনার অভ্যাস করে নিতে হবে। যখনই আপনার প্রিস্কুলার একেকটা নিত্যনতুন কৌশল আয়ত্ত করতে শিখবে এবং আপনার সমর্থন চাইবে এবং নতুন কিছু শেখার জন্যে সাহায্যও চাইবো। ভাগাভাগি করে খেলাটাই মূলত প্রিস্কুলারদের বন্ধু তৈরী করতে এবং বন্ধুর সাথে খেলতে আগ্রহী করে তুলে।

অভিনয়ের খেলাটা আরো বেশী সম্প্রসারিত হয়। বিশ্ব সম্পর্কে বাচ্চাদের জ্ঞান অতি উন্নত পর্যায়ের থাকে, তাই যদি আপনার প্রিস্কুলারকে দেখেন কোন ইলেকট্রনিক গেজেট বা ইলেকট্রনিক খেলনা (রেডিও-কন্ট্রোল গাড়ি বা ভিডিও গেম) নিয়ে খেলছে তাহলে অবাক হবেন না।

অভিনয়ের খেলাটা এ সময় আরো বেশী শারীরিক হয়ে উঠে। হাটবে কেন যখন সে লাফাতে, দাপাতে এবং ডিঙ্গাতে পারে?

প্রিস্কুলারদের জন্যে স্মার্ট খেলনা

চারু ও কারুকলা– পেশীসঞ্চালন সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর, রঙপেন্সিলের সাথে সখ্যতা বৃদ্ধি পাবে, পরিবারের ছবি আঁকা, এবং কাচি দিয়ে সতর্কতার সাথে কেটে সেগুলোকে আটকানো ইত্যাদি আসলে ক্রিয়েটিভিটি ও  বুদ্ধিমত্তারই বিকাশ।

বিল্ডিং ব্লক সেট (ছোট ছোট ব্লক জুড়ে বিল্ডিং বানানো যায়) – একটা বিল্ডিং দাঁড়া করানো (এবং এটা যেন ভেঙ্গে না পড়ে সে সম্পর্কেও অবগত থাকা) আসলে একটা বাচ্চার হাত আর চোখের সমন্বয় এবং সমস্যা সমাধানে আগ্রহী করে গড়ে তুলে। প্রিস্কুলাররা নিজেদের কল্পনাকে ব্যবহার করে বিল্ডিং, গাড়ি-ঘোড়া, প্রাণী এবং অন্যান্য আরো অনেক কিছু তৈরী করে থাকে।

পাজল Puzzle – জিগস পাজলগুলো (Jigsaw puzzles) মূলত সমন্বয়, দক্ষতা, এবং দূরত্ব সম্পর্ক (যেখানে একটা জিনিশ আরেকটা জিনিশের সাথে সম্পর্কযুক্ত) এবং যুক্তিশীল চিন্তাধারার উদ্ভব ঘটায়।

বড় বাচ্চাঃ ওরা কিভাবে খেলে

প্রাথমিক বিদ্যালয় বয়সী বাচ্চাগুলো এমন একটা কিছু অর্জন করে যা ওরা এর আগে অর্জন করেনি। ওরা নিজেদের চারপাশের জগত সম্পর্কে বুঝতে শিখে এবং নিজেকে গড়ে তুলে যেন কেউ চ্যালেঞ্জ করলে বা বল ছুঁড়ে মারলে ধরতে পারে।

আর এটা এমন একটা সময় যখন বুদ্ধিমত্তা এবং আগ্রহ জায়গা করে নেয়- একটা চার বছর বয়সী একটা মেয়ের গল্প পড়তে বা শুনতে ভালো লাগে তার মানে হচ্ছে বড় হয়ে বইপড়ুয়া হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশী- আবার পাঁচ বছর বয়সী একটা ছেলের মিউজিক শুনতে ভালো লাগে অর্থাৎ ছেলেটা মিউজিয়াশনও হতে পারে।

খুব সূক্ষ্ম এবং প্রচুর পরিমানের শারীরিক দক্ষতা অর্জিত হয় এই সময়কালে। যার ফলে স্কেটবোর্ড বা দুই চাকার সাইকেল অনায়াসে চালাতে পারে বাচ্চারা। শিল্প এবং কারুশিল্পের কাজগুলো আরো বেশী জটিল হয়ে উঠে এই সময়ে, এবং একটা বাচ্চা সবচাইতে বেশী সময় কাটাতে সুতার ব্রেসলেট বানাতে অথবা কমিক্সের ড্রয়িং আঁকতে।

সহপাঠীদের প্রতি গুরুত্ব আরো বাড়ে এই সময় থেকেই, এবং আপনার সন্তান আপনার চাইতেও বেশী আগ্রহ দেখাবে নিজের সহপাঠীর সাথে খেলতে। কিন্তু এটাও মনে রাখবেন যে যদিও আপনার সন্তান বড় হয়ে গেছে, এখন অবধি আপনি হচ্ছেন ওর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ খেলার সাথী – তাই তার সাথে খেলার সময় বের করুন।

এখনই সময় যখন বাচ্চারা দুঃসাহসিক কাজগুলো করে থাকে, যেমন বড় রাস্তায় সাইকেল চালানো, যা আগে করতে পারেনি যখন ছোট ছিল এবং নিরাপদে যেন থাকে সেজন্যে আপনার তত্ত্ববধানের দরকার আছে।

বড় বাচ্চাদের জন্য স্মার্ট খেলনা

দড়ি লাফ – বন্ধুদের সাথে দড়ি লাফ খেলে, বাচ্চারা নিজেদের পরিবর্তন সম্পর্কে বুঝে এবং সহকর্মীদের সাথে আরো গভীরভাবে মিশে যায়। এইসব লাফালাফি এবং এইসব খেলাধুলাগুলা দরকার, এতে করে বড় হয়ে উঠার মনমাসিকতা এবং সমস্যা-সমাধানের বুদ্ধি আরো বাড়ে।

কার্ড এবং বোর্ড গেম – মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের কার্ড গেম পাওয়া যায় এবং বোর্ড গেমের কথা বলতে হলে দাবা বা মনোপলির কথা বলা যায়। এই ধরনের খেলাগুলো থেকে কৌশল, পাল্টা-চাল, মধ্যস্থতার নিয়ম এবং ন্যায্য খেলা সম্পর্কে ভালোই জ্ঞানলাভ হয় বাচ্চাদের। আপনার সন্তানের সাথে খেলে সহযোগিতা করুন এবং জয়লাভের পাশাপাশি হারের আবেগ সম্পর্কিত ব্যাপারগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিন।

মিউজিক্যাল যন্ত্রপাতি – পিয়ানো, ভায়োলিন, গীটার বা অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মধ্য দিয়ে শোনার দক্ষতা, আত্মশক্তির দক্ষতা এবং মনোযোগের দক্ষতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।

বিজ্ঞান বিষয়ক খেলনা – রসায়নের আনুষঙ্গিক জিনিশপত্রগুলো, দূরবীন, টেলিস্কোপ অথবা অন্য কোন খেলনা যেগুলো আবিষ্কার এবং গনিতের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে এবং বিজ্ঞানের দক্ষতা বাড়ায়, এবং কল্পনাশক্তিকে বিকশিত করে।

সব বাচ্চার জন্যে পারফেক্ট খেলনাঃ আপনি

একটা শিশু চলন্ত কিছুর দিকে তাকিয়ে আছে, একটা বাচ্চা ব্লক সাজাচ্ছে বা একজন প্রিস্কুলার একটা জলরঙ করছে- সবগুলো ব্যাপারই স্বেচ্ছায় এবং স্বাধীনভাবেই ঘটে থাকে।কিন্তু তাই বলে আপনার নিজের ভূমিকাকে ছোট করে দেখবেন না।

এটা আপনিই যে কিনা প্রথমবার নিজের সন্তানকে দেখাবেন কিভাবে স্ট্যাকিং ব্লকগুলো নিয়ে খেলতে হয়। এবং যখন আপনি আপনার বাচ্চার পাশাপাশি বসে থেকে পেইন্টিংস বা গল্প পড়ে শোনাবেন, তার মানে হচ্ছে আপনি ওদেরকে ঐ সময়টুকু দিচ্ছেন যাতে ওরা নিজেদেরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ, ভালোবাসায় পূর্ণ এবং নিরাপদ ভাবছে।

মনে রাখবেন বাচ্চাদের বিকাশের সহায়তা করার হাতিয়ার হচ্ছে খেলনাগুলো, কিন্তু বাকি সব বিষয়গুলো নির্ভর করছে বাবা মায়ের উপর যাদের আদর এবং ভালোবাসার মধ্য দিয়ে তারা বেড়ে ওঠে।

[ আরও পড়ুনঃ বাচ্চার সাথে সুন্দর সময় কাটানোর ১০ টি টিপস ]

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.