শিশুর জন্ম পূর্ববতী স্ক্রীনিং এবং রোগ নির্ণয় সম্পর্কিত পরীক্ষা

সকল মা-বাবাই একটি সুস্থ বাচ্চা চায়। যদিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু অভিভাবক রয়েছে যাদের বাচ্চার মারাত্মক শারীরিক এবং/অথবা মানসিক সমস্যা হতে পারে। কিছু আলাদা পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে যা দ্বারা তাদের শিশুর জন্মের পূর্বেই স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি সম্পর্কে ধারণা করা যায়। প্রতিটি পরীক্ষার কিছু সুবিধা,অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গর্ভাবস্থায় পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত একান্ত ব্যক্তিগত। এছাড়াও এটি ভালো যদি সকল তথ্য একত্র করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রসব পূর্ববর্তী (জন্মপূর্ব) পরীক্ষাগুলো কি কি?

জন্মপূর্ব পরীক্ষা হলো সেইগুলো যেগুলো গর্ভবতী অবস্থায় করা হয়, বাচ্চার স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য। প্রধান দুই ধরনের জন্মপূর্ব পরীক্ষা আছে:

স্ক্রীনিং পরীক্ষাসমূহ

স্ক্রীনিং পরীক্ষাগুলো বলে দিবে যে আপনার পরবর্তীতে আরো পরীক্ষা করা দরকার কিনা (এটিকে বলে রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত পরীক্ষা), কিন্তু এটা আপনাকে নিশ্চিত করে বলতে পারবে না যে আপনারা শিশুর কোন নির্দিষ্ট সমস্যা রয়েছে। আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে আপনি জন্মপূর্ব স্ক্রীনিং পরীক্ষা করবেন কিনা।

স্ক্রীনিং পরীক্ষাগুলো আপনি গর্ভধারণের ১১ সপ্তাহ থেকে করতে পারবেন এবং এর মধ্যে রয়েছে:

  • আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা যা দ্বারা বাচ্চার বৃদ্ধি বুঝা যাবে এবং আপনার রক্ত পরীক্ষা
  • নিউক্যাল ট্রান্সলুসেন্সি আল্ট্রাসাউন্ড যার সাথে মাঝে মাঝে মায়ের একটি রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাটি প্রথম তিনমাসকালে করা হয়
  • মায়ের রক্ত রস পরীক্ষা যা দ্বিতীয় তিনমাসকালে করা হয়

জন্মপূর্ব রোগনির্ণয় সংক্রান্ত পরীক্ষাসমূহ

রোগনির্ণয় সংক্রান্ত পরীক্ষাসমূহ তখনই করা হয় যখন আপনার বাচ্চা কোন ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এটা সাধারণত তখনই করা হয় যখন স্ক্রীনিং পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়  যে আপনার বাচ্চা একটি নির্দিষ্ট অবস্থার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে (যদিও ৩৫ বছরের উর্ধ্ব মহিলারা প্রথমেই রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত পরীক্ষাসমূহ করতে পারেন)। এই ধরনের পরীক্ষা আপনার বাচ্চার ক্রোমোজমের অবস্থা বা  জিন-এর মধ্যে বৈচিত্র্য থাকার জন্য যে অবস্থা সৃষ্টি হয় (একে জিনগত অবস্থা বলে) তা পরিমাপ করে।উল্লেখ্য যে  রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত পরীক্ষা দ্বারা বাচ্চার সম্ভাব্য প্রতিটি শারীরিক ও মানসিক সমস্যা নির্ণয়  করা সম্ভব নয়।

রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে গর্ভফুলের পর্দার নমুনা (CVS) এবং গর্ভথলির রস বিশ্লেষণ (অ্যামনিওসেন্টেসিস) । জন্মপূর্ব প্রতিটি পরীক্ষা গর্ভাবস্থার একটি নির্দিষ্ট সময়ে করা হয়। এই পরীক্ষা এবং তাদের করার সময় নিয়ে নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

জন্মপূর্ব পরীক্ষাসমূহ কি ধরনের তথ্য সরবরাহ করে?

জন্মপূর্ব পরীক্ষা করা যেতে পারে এটা দেখার জন্য যে আপনার বাচ্চা স্বাভাবিক নিয়মে বেড়ে উঠছে কিনা। এছাড়াও আপনার বাচ্চা কোন নির্দিষ্ট শারীরিক বা মানসিক অবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কিনা (অথবা প্রভাবিত কিনা) তার জন্যও করা যেতে পারে।

কিছু অবস্থা যা জন্মপূর্ব পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায় যেমন জিনগত অবস্থাসমূহ।

জিনগত অবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে অনেক শারীরিক বা মানসিক অবস্থা যা জন্মের সময়, শৈশবে, কৈশোরে বা বয়স্ক সময়ে পাওয়া যায়। জিনগত অবস্থা কয়েকটি কারণে হতে পারে। জন্মপূর্ব পরীক্ষা সেগুলোকে চিহ্নিত করে যেগুলোতে ক্রোমোজমের ভারসাম্যহীনতা (ক্রোমোজমের অবস্থা) বা একটি জিন-এর মধ্যে পরিবর্তনের কারণে হয়েছে।

একটি ক্রোমোজমের ভারসাম্যহীন অবস্থা তখনই হয় যখন একটি বাচ্চার ক্রোমোজমের সংখ্যা, আয়তন এবং গঠনের পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তন জিনে তথ্যের পরিমাণ বা একটি কোষে তাদের সাজানোর ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটায়, যার ফলে বাচ্চার বৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং/অথবা দেহের বিভিন্ন পদ্ধতির কার্যকারীতার সমস্যা দেখা যায়।

ক্রোমোজমের  পরিবর্তন পিতামাতা থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে আসতে পারে। সাধারণত, এই পরিবর্তন হয় যখন শুক্রানু বা ডিম্বানু তৈরী হয় অথবা তাদের মিলন হয় বা তার কিছু পরেই। এই পরিবর্তনের কারণ এখনও জানা যায়নি। সবচেয়ে প্রচলিত ক্রোমোজমের অবস্থা হলো ডাউন সিনড্রোম।

অন্যান্য জিনগত অবস্থা, যেগুলো একটি মাত্র জিন-এ পরিবর্তনের জন্য হয়, তা কিছু পরিবারের শিশুদের উপর প্রভাব ফেলে। একটি দম্পতির হয়তো ইতিমধ্যে একটি সন্তানের এই অবস্থাগুলোর একটি রয়েছে অথবা মা-বাবার কেউ একজনের মধ্যে এই সমস্যা রয়েছে। এই অবস্থায়, জন্মপূর্ব পরীক্ষা দ্বারা এটা নিশ্চিত করা যায় যে বাচ্চার মধ্যে কি ঐ খারাপ জিনটা রয়েছে কিনা যা জিনগত অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে।

জন্ম পূর্ববতী স্ক্রীনিং এবং রোগ নির্ণয় সম্পর্কিত পরীক্ষাসমূহ 

 

প্রথম তিনমাসকালের আল্ট্রাসাউন্ড – তারিখ নির্ণয় করা।

গর্ভাবস্থার কোন ধাপে করা হয়

৮-১২ সপ্তাহ

 

পরীক্ষার ধরণ

স্ক্রীনিং এবং রোগ নির্ণয় সম্পর্কিত।

পরীক্ষা কিভাবে করা হয়?

ছোট একটি ডাক্তারী যন্ত্র (আলট্রাসাউন্ড) যা মায়ের পেটের উপর চাপ দিয়ে অথবা যোনীপথ দিয়ে প্রবেশ করিয়ে অনুসন্ধান করা হয়। এটা বর্ধনরত বাচ্চার ছবি দেখায়।

এই পরীক্ষা কেন করা হয়?

এই পরীক্ষার মাধ্যমে বাচ্চার আয়তন, একের অধিক বাচ্চা আছে কিনা তার পরীক্ষা এবং কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন হৃদস্পন্দন দেখা যায়।

এই পরীক্ষা কি মা ও বাচ্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

এই পরীক্ষা মা ও শিশুর কোন ক্ষতি করে না।

কোরিয়োনিক ভিলাস হতে নমুনা গ্রহন(সি ভি এস) বা গর্ভফুলের পর্দার নমুনা।

গর্ভাবস্থার কোন ধাপে করা হয়

১১-১৩ সপ্তাহ

পরীক্ষার ধরণ

রোগ নির্ণয় সম্পর্কিত।

পরীক্ষা কিভাবে করা হয়?

আল্ট্রাসাউন্ড এর সহায়তায় এবং গর্ভফুল হতে  চিকন সুই ব্যবহার করে মায়ের পেটের ভিতর হতে নমুনা নেয়া হয় অথবা জরায়ুর মুখ হতে নমনীয় নল দিয়ে নেয়া হয়।

এই পরীক্ষা কেন করা হয়?

বাচ্চার শারীরিক এবং/বা মানসিক অবস্থার পরিসর এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিরুপন করা হয়। এদের জিনবাহিত রোগ বলা হয়। কখনো আরো বেশি পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

এই পরীক্ষাগুলো কি মা ও বাচ্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

এই পরীক্ষা গর্ভপাত ঘটাতে পারে। তবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম (১০০ এর মধ্যে ১ এরও কম)। পরীক্ষার সময় মায়ের কিছু অস্বস্তিকর অনুভুতি হতে পারে।

নিউক্যাল ট্রান্সলুসেন্সি পরীক্ষা (আল্ট্রাসাউন্ড),  মায়ের রক্ত নিয়ে অথবা না নিয়ে পরীক্ষা।

গর্ভাবস্থার কোন ধাপে করা হয়

১১.৫-১৩.৫ সপ্তাহ

পরীক্ষার ধরণ

স্ক্রীনিং পরীক্ষা

পরীক্ষা কিভাবে করা হয়?

আল্ট্রাসাউন্ড ব্যবহার করে, বাচ্চার বিশেষ পরিমাপ (নিউক্যাল ট্রান্সলুসেন্সি) নেয়া হয়। মায়ের রক্তের নমুনাও এই পরীক্ষার জন্য নেয়া হতে পারে।

এই পরীক্ষা কেন করা হয়?

বাচ্চার কোন ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক অবস্থা হবার সম্ভাবনা আছে কিনা তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে তা বলা যায়। প্রায় ১০০ জনের মধ্যে ৫ জন বাচ্চার  পরীক্ষার ফলাফল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে এদের মধ্যে বেশির ভাগ বাচ্চারই কোন সমস্যা থাকে না।

যদি নিউক্যাল ট্রান্সলুন্সেসি আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা রক্ত পরীক্ষার সাথে একসাথে করা না হয়:

তবে এর রোগনির্ণয়ের সফলতার হার প্রায় ৭৫ ভাগ। অর্থাৎ জিনগত সমস্যা যা ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত  ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৭৫ জন বাচ্চার জিনগত সমস্যা এর মাধ্যমে সনাক্ত করা যায়। ডাউন সিনড্রোম আছে এমন ১০০ জন বাচ্চার মধ্যে ২৫ জন এই পরীক্ষার মাধ্যমে বাদ পরে যায়।

যদি নিউক্যাল ট্রান্সলুন্সেসি আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা রক্ত পরীক্ষার সাথে একসাথে করা না হয়:

ডাউন সিনড্রোম আছে এমন ১০০ জন বাচ্চার মধ্যে প্রায় ৮০-৯০ জন বাচ্চা এই পরীক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ফলাফল নিয়ে ফিরে আসে। অপরদিকে ডাউন সিনড্রোম আছে এমন ১০০ জনের মধ্যে ১০-২০ জন বাচ্চা এই পরীক্ষার মাধ্যমে বাদ পরে যায় বা সনাক্ত করা সম্ভব হয়না।

এই পরীক্ষা কি মা ও বাচ্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

এই পরীক্ষা মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়।

২য় তিনমাসকালের আল্ট্রাসাউন্ড।  বাচ্চার ত্রুটির বা অস্বাভাবিকতা পরীক্ষন

গর্ভাবস্থার কোন ধাপে করা হয়

১৫-১৮ সপ্তাহ

পরীক্ষার ধরণ

স্ক্রীনিং

পরীক্ষা কিভাবে করা হয়?

মায়ের রক্ত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা

এই পরীক্ষা কেন করা হয়?

এই পরীক্ষার মাধ্যমে বাচ্চার নির্দিষ্ট শারীরিক এবং/বা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত  হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে বলা যায়।

প্রায় ১০০ জনের মধ্যে ৫ জন বাচ্চার ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়। এদের মধ্যে বেশির ভাগ বাচ্চারই কোন সমস্যা থাকে না।

ডাউন সিনড্রোম আছে এমন ১০০ জন বাচ্চার মধ্যে প্রায় ৬০ জন বাচ্চা এই পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করা যেতে পারে।ডাউন সিনড্রোম আছে এমন ১০০ জনের মধ্যে ৪০ জন বাচ্চা এই পরীক্ষার মাধ্যমে বাদ পরে যাবে বা সনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে।

এই পরীক্ষা যদি একই সময়ে বিস্তারিত আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানের সাথে করা হয় তাহলে মেরুদন্ডের সমস্যা অথবা নিউরাল নালীর সমস্যা আছে এমন ১০০ জন বাচ্চার মধ্যে প্রায় ৯৫ জন বাচ্চাকে চিহ্নিত করা যাবে।

এই পরীক্ষা কি মা ও বাচ্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

এই পরীক্ষা মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়।

অ্যামনিওসেনটিসিস (গর্ভথলির রস বিশ্লেষণ)

গর্ভাবস্থার কোন ধাপে করা হয়

১৫-১৯ সপ্তাহ

পরীক্ষার ধরণ

রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত পরীক্ষা।

পরীক্ষা কিভাবে করা হয়?

আল্ট্রাসাউন্ড এর সহায়তায় অ্যামনিয়টিক তরলের (গর্ভথলির রস) অল্প নমুনা মায়ের পেট থেকে নরম সুচ ব্যবহার করে নেয়া হয় ।

এই পরীক্ষা কেন করা হয়?

বিভিন্ন পরিসরের শারীরিক এবং/অথবা মানসিক অবস্থা (যার মধ্যে ক্রোমোজমের সমস্যাও আছে) এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিরুপন করা যায় যা বাচ্চার থাকতে পারে।

এই পরীক্ষা কি মা ও বাচ্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

এই পরীক্ষা গর্ভপাত ঘটাতে পারে। তবে এমন সম্ভাবনা খুব কম (১০০ এর মধ্যে ১-এরও কম) থাকে। পরীক্ষার সময় মায়ের কিছু অস্বস্তিকর অনুভুতি হতে পারে।

২য় তিনমাসকালের আল্ট্রাসাউন্ড। বাচ্চার ত্রুটির বা অস্বাভাবিকতা পরীক্ষা

গর্ভাবস্থার কোন ধাপে করা হয়

১৮-২০ সপ্তাহ

পরীক্ষার ধরণ

স্ক্রীনিং এবং রোগ নির্ণয় সম্পর্কিত।

পরীক্ষা কিভাবে করা হয়?

মাইক্রোফোনের মত একটি যন্ত্র দিয়ে মায়ের পেটের উপর চাপ দেয়া হয়। এটা বর্ধিত বাচ্চার ছবি দেখায়।

এই পরীক্ষা কেন করা হয়?

এই পরীক্ষার মাধ্যমে বাচ্চার দৈর্ঘ্য এবং অনেক শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন হৃদপিন্ড, মস্তিষ্ক, মেরুদন্ড এবং বৃক্কের বর্ধন নিরীক্ষা করা যায়।

এই পরীক্ষা কি মা ও বাচ্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

এই পরীক্ষা মা ও বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর না।

 

জন্ম পূর্ব পরীক্ষাগুলো যে করতেই হবে এমন কোন বাদ্ধবাধকতা নেই। এই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করুন। তিনিই ঠিক করবেন কোন পরীক্ষা করা প্রয়োজন আর কোনটা নয়।

সবার জন্য শুভকামনা।

 

Related posts

Leave a Comment