গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি কেন খাবেন ? ডাবের পানির উপকারিতা

ডাবের পানির পুষ্টিগুণ 

ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, রিবোফ্লোবিন, ভিটামিন সি এবং ইলেক্ট্রোলাইট আছে। শুধু তাই নয় এতে রয়েছে ফাইবার, সোডিয়াম, প্রোটিন এবং অল্প পরিমাণে চিনি। এই একটি পানীয় থেকে একজন গর্ভবতী নারী তার প্রয়োজনীয় সব উপাদান পেয়ে থাকে। একজন গর্ভবতী নারীর অবস্যই গর্ভাবস্থায় ডাবের পানি খাওয়া উচিত।

ডাবের পানি যে কোন সময় খাওয়া যায় তবে সবচাইতে ভালো হয় যদি ভোরে খাওয়া যায়। এ সময় ডাবের পানি ইলেক্ট্রোলাইট এবং পুষ্টি শরীরে ভালো ভাবে শোষিত হয় কারণ সকালে পাকস্থলী খালি থাকে। এক কাপ ডাবের পানির পুষ্টিগুণ নিম্নরূপ-

  • ক্যালোরি- ৪৬
  • সোডিয়াম- ২৫২ মি গ্রা
  • পটাশিয়াম- ৬০০ মি গ্রা
  • কার্বোহাইড্রেট- ৮.৯ গ্রাম
  • আঁশ- ২.৬ গ্রাম
  • সুগার- ৬.২৬ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম- ৬%

গর্ভাবস্থায় ডাবের পানির কিছু উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় নারিকেল একটি অপরিহার্য পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার। গর্ভবতী মা এবং বাচ্চার সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য একে সুপার ফুডও বলা যায়। নারিকেলের লিউরিক অ্যাসিড হবু মায়ের বুকের দুধের সঞ্চালন বাড়ায় এবং গর্ভকালীন মায়ের জয়েন্টের ব্যথা কমায়। এছাড়া নারিকেলে থাকা ভিটামিন ই গর্ভবতী মায়েদের জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। সুস্থ-সবল বাচ্চা জন্মদান এবং গর্ভধারণকালীন অসুস্থতা দূরে রাখতেও নারিকেলের গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক

গর্ভাবস্থায় শরীরের ইউরিক এসিড এর মাত্রা ঠিক থাকা জরুরী। নারকেলের পানির মধ্যে রয়েছে মূত্রবর্ধক উপাদান। এটি ইউরিনারি ট্র্যাক্ট পরিষ্কারে সাহায্য করে, কিডনির কর্মক্ষমতা ঠিক রাখে এবং ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে। এটি ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন প্রতিরোধ করে ফলে প্রি-টার্ম লেবারের ঝুঁকি কমে।

ডাবের পানি শরীরে প্রস্রাবের পরিমাণ এবং বেগ দুইই বাড়িয়ে দেয় , ফলে যেসব ব্যাক্টেরিয়া শরীরে প্রস্রাবের সংক্রমণ ঘটায়, তারাও প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

ইলেক্ট্রোলাইট যোগান দিয়ে থাকে

গর্ভবতী নারী প্রচুর পরিমাণ ইলেক্ট্রোলাইটের প্রয়োজন পরে। কারণে এসময় মর্নিং সিকনেস, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদির কারণে শরীরে পানির অভাব হতে পারে। ডাবের পানির এই উপাদানটি শরীর হাইড্রেটেড করে থাকে। ডাবের পানির সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং পটাসিয়াম শরীরে প্রয়োজনীয় চার্জ দিয়ে থাকে।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে

কোষ্ঠকাঠিন্য গর্ভাবস্থায় একটি প্রচলিত সমস্যা। গর্ভাবস্থায় প্রোজেসটেরন হরমোন বেড়ে যাওয়ার কারণে এবং আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার কারণে সাধারণত এ সমস্যা হয়। এ সময় আঁশসমৃদ্ধ ডাবের পানি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে কাজ করে।

বুক জ্বালাপোড়া কমায়

কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো বুক জ্বালাপোড়া গর্ভাবস্থায় খুব প্রচলিত একটি সমস্যা। ডাবের পানি এ সমস্যা অনেকটা কমাতে সাহায্য করে। ডাবের পানি পান এসিডের মাত্রাকে কমায়। এতে হজমের সমস্যা ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা প্রতিরোধ হয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

ডাবের পানিতে লিউরিক অ্যাসিড আছে। যার অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। লিউরিক এসিড শরীরে খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলো মেরে ফেলে এবং ভালো ব্যাকটেরিয়া গুলোর বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এর ফলে বিভিন্ন ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নারিকেলের পুষ্টিমান অতুলনীয়। এটি অ্যান্টি-ভাইরাল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক উপাদান সম্পন্ন। নারিকেল আমাদের শরীরে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে। শুধু এগুলোই নয়, কাঁচা নারিকেল খেলে আমাদের গলার ইনফেকশন, মূত্রনালির ইনফেকশন, ফিতাকৃমি এবং শ্বাসনালীর প্রদাহের মতো বাজে ধরনের রোগগুলো থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

হাইপারটেশন প্রতিরোধ করতে

অনেক গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভকালীন সময় হাইপারটেশন বা উচ্চ রক্তচাপ সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। হাইপারটেশন বা উচ্চ রক্তচাপ বাচ্চা এবং মা উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। ডাবের পানি উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে দিয়ে হাপারটেশন হ্রাস করতে সাহায্য করে থাকে।

সঠিক ওজন রাখতে

গর্ভকালীন সময় নারীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা সঠিক ওজন ধরে রাখা। কারোর ওজন বেড়ে যায়, আবার কারোর ওজন কম থাকে। ডাবের পানি সঠিক  ওজন ধরে রাখতে সাহায্য করে থাকে। ডাবের পানিতে জিরো ফ্যাট এবং কোলেস্টেরেল আছে, তাই এটি পানে ওজন বৃদ্ধি হবার কোন ভয় নেই। তাই নির্ভয়ে প্রতিদিন এটি পান করতে পারেন।

পটাশিয়াম

ডাবের পানির মধ্যে পটাশিয়াম রয়েছে। এটি শরীরের ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্য ঠিকঠাক রাখে। এটি গর্ভাবস্থায় লেগ ক্রাম্প এবং শরীরে পানি আসা প্রতিরোধ করে।

ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম

ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম দুটো উপাদান ডাবের পানি থেকে পাওয়া যায়। এ দুই উপাদান গর্ভাবস্থাকে স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে।

মাতৃদুগ্ধ তৈরি করে

গর্ভাবস্থায় রোজ নারকেল খেলে তা আপনার শরীরে আপনার শিশুর জন্য সমৃদ্ধ এবং পুষ্টিকর মাতৃদুগ্ধ তৈরি করতে সাহায্য করবে। নারকোল তেলে লরিক অ্যাসিড থাকে যা আপনার ল্যাক্টেশন চলাকালীন স্তনদুগ্ধ তৈরির প্রধান সহায়ক।

রক্তচলাচল বৃদ্ধি করে

গর্ভাবস্থায় রক্তের আয়তন বেড়ে জয়ায় প্রায় ৫০শতাংশ এবং তার ফলে পা এবং পায়ের পাতা ফুলে জয়ায়। রক্তচলাচল কম হলে পায়ে ব্যথা হয় এবং পা ফুলে যায়। নারকোল খেলে রক্ত চলাচলের গতিবৃদ্ধি হয় এবং পা ব্যথা এবং পা ফোলা হয় না।

ডাবের পানি পানে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন   

  • খুব বেশি ডাবের পানি পান করবেন না। দিনে দুই গ্লাসই যথেষ্ট। গর্ভাবস্থায় বিশুদ্ধ পানিই প্রধান পানিয়ও হতে হবে। ডাবের পানি এর বিকল্প হওয়া উচিত নয়।
  • গর্ভকালীন সময় নিয়মিত ডাবের পানি পান করুন। তবে চেষ্টা করবেন টাটকা ডাবের পানি পান করার। বাসি বা ফ্রিজে রাখা ডাবের পানি পান করা থেকে বিরত থাকবেন।
  • কচি এবং সবুজ ডাব বাছাই করুন। ডাব কাটার কিছুক্ষণের মধ্যেই পান করুন।
  • আপনার ট্রি নাট অ্যালার্জি থাকলে ডাবের পানির পানের ক্ষেত্রেও অ্যালার্জি হতে পারে। তাই এড়িয়ে যাওয়াটাই ভালো হবে।
  • আপনার গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস থাকলে অথবা আগে থেকেই ডায়াবেটিস হলে ডাবের পানি কম পান করুন।

 

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment