গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ। কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

উচ্চ রক্তচাপ বলতে কি বোঝায়?

রক্তনালী বা ধমনীর দেয়ালের বিপরীততে রক্ত প্রবাহের ধাক্কাকেই রক্তচাপ বলে। রক্ত মানুষের হৃদপিণ্ড থেকে সারা শরীরে প্রবাহিত হওয়ার জন্য এ চাপের প্রয়োজন। তবে সেটি যখন বেশি থাকে, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে। উচ্চ রক্ত চাপের কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।

প্রতিটি হৃৎস্পন্দনের সময় একবার সর্বোচ্চ চাপ বা সিস্টোলিক ( যখন হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়ে ও রক্ত পাম্প করে)  এবং সর্বনিম্ন চাপ বা ডায়াস্টলিক চাপ হয় ( যখন হৃদপিণ্ড প্রসারিত হয় এবং হৃদপিণ্ড রক্ত পরিপূর্ণ হয় ) । হৃৎপিন্ডের সংকোচন প্রবণতাই রক্তচাপের প্রধান কারণ।এটি সাধারণত উর্ধ্ববাহুর ব্রাকিয়াল ধমনীতে দেখা হয়। রক্তচাপ সবসময় সিস্টোলিক চাপ উপরে এবং ডায়াস্টলিক চাপ নিচে লিখে প্রকাশ করা হয়। যেমন ১২০/৮০। এর একক মি.মি.পারদ।

গর্ভকালীন সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৪০ মিমি পারদের সমান বা বেশি অথবা ডায়াস্টলিক রক্তচাপ ৯০-এর সমান বা বেশি হলে তাকে গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ বলে। রক্ত চাপ ১৬০/১১০ এর সমান বা তার বেশী থাকলে তাকে মারাত্মক উচ্চ রক্তচাপ বলে।

ক্রনিক উচ্চ রক্তচাপ ও গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের মধ্যে পার্থক্য কি?

যদি গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের আগে আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকে তবে তা সাধারণত ক্রনিক উচ্চ রক্তচাপ বলে ধরা হয়। এ ধরনের রক্তচাপ সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী এবং ৫ ভাগের মত মায়েরা এতে আক্রান্ত হন।

গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ সাধারণত গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহে বা এর পরে দেখা যায়। এ ধরনের রক্তচাপ বেশিরভাগ সময় বাচ্চার জন্মের পর ঠিক হয়ে যায়।

 গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কাদের বেশী থাকে?

জাতীয় হার্ট, ফুসফুসের ও রক্তের ইনস্টিটিউট (এনএইচএলবিআই) এর মতে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • বেশি ওজন বা স্থূলতা থাকা
  • সক্রিয় থাকতে ব্যর্থ
  • ধূমপান
  • মদ পান
  • প্রথমবারের গর্ভাবস্থা
  • গর্ভাবস্থার সাথে সম্পর্কিত উচ্চ রক্তচাপের একটি পরিবার ইতিহাস
  • একাধিক শিশু গর্ভে ধারণ করা
  • বয়স (40 বছর)
  • সহকারী প্রযুক্তি (যেমন আইভিএফ)

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ

উচ্চ রক্তচাপের তেমন কোনও লক্ষণ সাধারণত প্রকাশ পায়না। এ কারণে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা না হলে আপনি হয়তো বুঝতেই পারবেন না আপনার উচ্চ রক্তচাপ আছে। মাঝে মাঝে কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন-

  • প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা
  • প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন লাগা
  • বুক ধড়ফড় করা
  • নাক থেকে রক্ত পড়া।

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয়

গর্ভাবস্থায় আপনার রক্তচাপ প্রতিবার ডাক্তারের সাথে সাক্ষাতকারে মাপা হয়। রক্তচাপ যেহেতু বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত হয় তাই ডাক্তার হয়তো আপনাকে বাসায় বিভিন্ন সময় রক্তচাপ মাপার পরামর্শ দিতে পারেন। রক্তচাপ মাপার সময় দুইটি বিষয় দেখা হয়, উচ্চ (সিস্টলিক) চাপ এবং নিম্ন (ডায়াস্টোলিক) চাপ। উদাহরনস্বরূপ বলা যায়, একজনের রক্তচাপ হলো ১২০/৭০ mm Hg অর্থাৎ উচ্চ (সিস্টলিক) চাপ হলো ১২০ এবং নিম্ন (ডায়াস্টোলিক) চাপ হল ৭০। যদি আপনার উচ্চরক্তচাপ থাকে তবে আপনার শরীরে রক্ত সঞ্চালনের জন্য  হৃদযন্ত্রকে বেশী বেশী পাম্প করতে হবে। এটা হৃদযন্ত্রের মাংশপেশী কে আক্রান্ত করতে পারে। গর্ভাবস্থায় ১০-১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে উচ্চরক্তচাপ দেখা দিতে পারে।

উচ্চরক্তচাপ ৩ রকম হয়ে থাকেঃ

মৃদু উচ্চরক্তচাপঃ যদি রক্তচাপ ১৪০/৯০ এবং ১৪৯/৯৯ মিমি মার্কারী এর মধ্যে থাকে তবে তাকে মৃদু উচ্চরক্তচাপ বলা হয় । এক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হয় কিন্তু সাধারনত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়না

মধ্যম উচ্চরক্তচাপঃ যদি রক্তচাপ ১৫০/১০০ এবং ১৫৯/১০৯ মিমি মার্কারী এর মধ্যে থাকে তবে তাকে মধ্যম উচ্চরক্তচাপ বলা হয়।

গুরুতর উচ্চরক্তচাপঃ যদি রক্তচাপ ১৬০/১১০ মিমি মার্কারী অথবা এর থেকেও বেশী থাকে তবে তাকে গুরুতর উচ্চরক্তচাপ বলা হয়।

রক্তচাপ ১২০/৮০ এর নীচে থাকলে তাকে স্বাভাবিক রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়।

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ কি প্রভাব ফেলতে পারে?

হাই ব্লাডপ্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপ আমাদের কিডনী, চোখ, হৃদপিণ্ড অর্থাৎ শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের জন্য ক্ষতিকর। একজন গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রে এগুলো ছাড়াও ঝুঁকির মধ্যে থাকে তার গর্ভস্থ নাজুক সন্তান। তাই প্রেগন্যান্সীতে উচ্চ রক্তচাপকে একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের কারণে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো-

প্রি–একলামশিয়া

প্রি-একলামশিয়া একটি গর্ভধারন-সম্পর্কিত পরিস্হিতি যেখানে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয় এবং প্রস্রাবের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রোটিন (প্রটিনিউরিয়া) বের হয়ে যায়। যদি গর্ভবতী হওয়ার আগে থেকেই আপনার উচ্চ রক্তচাপ থেকে থাকে অথবা যদি আপনার আগের গর্ভাবস্থায় প্রি-একলামশিয়া হয়ে থাকে, তবে আপনার প্রি-একলামশিয়া হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি। । যদি আপনি এই দলভুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে নিয়মিত আপনার উচ্চ রক্তচাপের চেক-আপ এবং প্রস্রাব পরীক্ষা করানো উচিত। প্রি-একলামশিয়া গর্ভফুলকেও প্রভাবিত করে, তাই আপনার শিশু স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে কিনা এবং সুস্হ আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য নিয়মিত স্ক্যান করা জরুরী। গর্ভাবস্থায় ২% – ৫% ক্ষেত্রে প্রি-একলামশিয়া হয়ে থাকে। যদি চিকিৎসা করা না হয় তাহলে এটি খিচুনীতে পরিণত হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে মায়ের মৃত্যু ঘটতে পারে।

যাদের গর্ভাবস্থার আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাদের প্রি এক্লাম্পশিয়া দেখা দিলে তাকে  বলে সুপারইম্পোজড প্রিএক্লাম্পশিয়া। আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপ থাকা ১৩-৪০ ভাগ মায়েদের এ ধরনের প্রিএক্লাম্পশিয়া হতে পারে।

প্রিএক্লাম্পশিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন। 

বাচ্চা আকারে ছোট হওয়া

উচ্চ রক্তচাপ থাকা মানে গর্ভের শিশু তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হওয়া।কারণ উচ্চ রক্তচাপ থাকলে মায়ের প্লাসেন্টাতে রক্তপ্রবাহ কমে যায়।  এর ফলে বাচ্চার বৃদ্ধি স্বাভাবিকের চাইতে কম হয় (intrauterine growth restriction বা IUGR) । রক্তচাপের  মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। আরও কিছু বিষয় থাকতে পারে, যেমন- এনেমিয়া ও কিডনির রোগ।

প্লাসেন্টাল অ্যাব্রাপশন

গর্ভকালীন বা সন্তান প্রসবের পূর্বে অনেক সময় প্লাসেন্টা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে জরায়ুর দেয়াল থেকে আলাদা হয়ে যায় বা ছিঁড়ে যেতে পারে।  এ অবস্থার সৃষ্টি হলে শিশুর শরীরে অক্সিজেন ও পুষ্টির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এর কারণে অতিরিক্ত রক্তপাত ঘটতে পারে যা মা ও শিশু দুজনের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশনের কারণে বাচ্চার বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদি এর মাত্রা বেশী হয় তবে প্রি-ম্যাচিউর (অপরিনত)  সন্তান প্রসব এমনকি গর্ভে সন্তানের মৃত্যু ও ঘটতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, বা প্রি-এক্লাম্পশিয়া থাকলে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন। 

প্রি-টার্ম বার্থ বা সময়ের আগেই প্রসব

উচ্চ রক্তচাপের কারণে যে সব জটিলতা দেখা দেয় তার কারণে বাচ্চার বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে দ্রুত প্রসব করানোর প্রয়োজন হতে পারে। গড়ে ২৮ ভাগ মায়েদের যাদের উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাদের বাচ্চা ৩৭ সপ্তাহের আগেই প্রসব করানো হয়।

প্রি-টার্ম বার্থ সম্পর্কে জানুন।

সিজারিয়ান

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ থাকে সিজারিয়ান প্রসবের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন ১০ মায়েদের মধ্যে ৪ জন্মের প্রসব সিজারিয়ানের মাধ্যমে করার প্রয়োজন পড়তে পারে।

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কি করতে হবে?

উচ্চ রক্তচাপ বিভিন্ন কারনে হতে পারে, চিকিৎসাও সেই অনুযায়ী হবে। তবে মূল লক্ষ্য থাকবে রক্তচাপকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা। এরকম ক্ষেত্রে আপনার রক্তচাপ নিয়মিত ভাবে পরীক্ষা করা হবে, সেকারনে একটু বেশিবারই আপনাকে প্রসুতি-পূর্ব সেবার জন্য যেতে হবে, প্রতিবারই আপনার এবং আপনার গর্ভস্থ শিশুর অবস্থা নিবিড় ভাবে পরীক্ষা করা হবে।

অনেক মহিলাদেরকেই উচ্চ রক্তচাপ এর কারনে নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। এই ওষুধ উচ্চ রক্তচাপকে কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখে। গর্ভাবস্থার প্রথম ভাগে রক্তচাপ এমনিতেই কমে যায়, তাই যারা রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খান, তাদেরকে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে সাময়িক ভাবে ওষুধ বন্ধ করতে বলা হয়।

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর কিছু ওষুধ আছে যেগুলো গর্ভাবস্থায় খাওয়া নিষেধ, যেমন, লোসারটান (losartan), ভালসারটান (valsartan), রামিপ্রিল (ramipril) ইত্যাদি। আপনাকে যদি নিয়মিত রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খেতে হয় এবং সে অবস্থায় আপনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন, তবে অবশ্যই আপনার ডাক্তার কে জানান। ডাক্তার প্রয়োজন অনুযায়ী আপানার ওষুধ বদলে দেবেন।

গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খেলে গর্ভফুলের ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। গর্ভফুলের ভিতর দিয়েই মায়ের শরীর থেকে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে রক্ত যায়। কম রক্ত প্রবাহের কারনে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। এরকম ক্ষেত্রে আপনার প্রসুতি-পূর্ব সেবার সময় আপনার গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি নিয়মিত ভাবে খেয়াল রাখা হবে। সুতরাং কোন ভাবেই প্রসুতি-পূর্ব সেবার কোন ভিজিট বাদ দেয়া যাবে না।

মনে রাখতে হবে –

  • নিয়মিত চেক-আপ, প্রেগন্যান্সীর সময়ে নিরাপদ ওষুধ এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে আগে থেকেই স্ত্রী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • ওজন স্বাভাবিক মাত্রায় রাখতে কি খাবেন এবং কতটুকু পরিশ্রম করবেন জেনে নিন। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হোন।
  • খাবারে বাড়তি লবণ এড়িয়ে চলুন।
  • দুশ্চিন্তা রক্তচাপ বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত মেডিটেশন, যোগাসন বা হালকা ব্যায়াম আপনাকে এ থেকে মুক্তি দিতে পারে।
  • বাসায় নিয়মিত প্রেশার মাপার ব্যবস্থা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো। আর তা না হলেও নিয়ম মেনে রক্তচাপের ওঠানামা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তবেই সুস্থ থাকবেন গর্ভবতী মা, আর জন্ম দেবেন সুস্থ শিশু।

এরকম অবস্থায় শুয়ে বসে সময় কাটানো যাবে না। হাল্কা শারীরিক কাজকর্ম করতে হবে, যেমন, কিছু সময় হাটতে পারেন, হাল্কা ঘরের কাজ করতে পারেন। এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম অধ্যায় টি পড়ুন। স্বাস্থ্যকর খাবার খান, লবন কম খাবেন, কারন লবন রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাবার অধ্যায় টি পড়ুন।

অনেকে বলে থাকেন, বিশেষ কিছু খাবার খেলে রক্তচাপ কমে, যেমন, রসূন। কিন্তু এগুলোর কোন প্রমান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, সুতরাং শুধু এসবের উপর নির্ভর করে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না। যেসব খাবারের ব্যপারে এমন ধারনা প্রচলিত আছে, সেগুলো হলো

  • ম্যাগ্নেসিয়াম (magnesium)
  • ফলিক এসিড (folic acid)
  • এন্টি-অক্সিডেন্ট, – ভিটামিন সি এবং ই (antioxidant, – vitamins C and E)
  • মাছের তেল (fish oils)
  • রসূন

প্রসব ও জন্ম

যদি আপনার সামান্য বা সহনীয় মাত্রায় উচ্চ রক্তচাপ থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে প্রসবকালীন সময়ে আপনার উচ্চ রক্তচাপ প্রতি ঘন্টায় পর্যবেক্ষণ করা উচিৎ। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার উচ্চ রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে সন্তান জন্মদানের আশা করতে পারেন।

যদি আপনার গুরুতর উচ্চ রক্তচাপ থেকে থাকে, তাহলে প্রসবকালীন সময়ে আপনার উচ্চ রক্তচাপ অবিরতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ মারাত্মক হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনাকে হয়তো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসবের জন্য পরামর্শ দেওয়া হতে পারে (forceps or ventouse) বা caesarean section ।

সন্তান প্রসবের পর আপনার উচ্চ রক্তচাপকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি আপনার দীর্ঘস্হায়ী উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে তাহলে আপনার সন্তান জন্মদানের দুই সপ্তাহ পরে আপনার  উচ্চ রক্তচাপের অবস্থা নতুন করে মূল্যায়ন করা উচিত। আপনার চিকিৎসায় কোন পরিবর্তন করা প্রয়োজন নাকি বন্ধ করে দিবেন তা যাচাই করার জন্য আপনার উচিৎ একজন চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাৎ করা।

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ সম্পন্ন সকল মহিলার উচিৎ সন্তান জন্মোত্তর চেক আপের জন্য একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, এটা করতে হয় শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ নাগাদ।

যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং মা হতে চান— তাদের কী আগে থেকেই কিছু করণীয় রয়েছে?

গর্ভাবস্থার আগেই যাদের প্রেশার হয়, তাদের বলা হয় ক্রনিক হাইপারটেনশন। এই মা যখন গর্ভধারণের জন্য পরিকল্পনা করবেন, তখন চিকিৎসক দেখবেন তার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না। দেখেন তিনি কী ওষুধ খাচ্ছিলেন। যে ওষুধ খেলে বাচ্চার সমস্যা হবে সেই ওষুধ বন্ধ করার পরামর্শ দেয়া হয়। বন্ধ করার পর গর্ভাবস্থায় যেসব ওষুধ নিরাপদ সেই ওষুধ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি দেখা হয় এই রক্তচাপের কারণে কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জড়িয়ে পড়ছে কি না। অর্থাৎ তার কিডনি ফাংশন ঠিক আছে কি না, লিভার ঠিক আছে কি না- এগুলো সব ঠিক থাকলে গর্ভধারণ করার পরামর্শ দেয়া হয় । গর্ভধারণের পর তাকে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.