গর্ভবতী নারীর যত্ন। সুস্থ গর্ভধারণের ১১ টি টিপস

গর্ভধারণ সব মেয়েদের কাছেই অতি কাঙ্খিত একটি বিষয়। একজন মহিলা প্রথম বারের জন্য যখন গর্ভধারন করে তার কাছে অনেক কিছুই থাকে অজানা, এই সামান্য অজানা তথ্যের জন্য অনেক সময় নানা ধরনের কুসংস্কার মায়ের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এক জন মহিলা যখন গর্ভধারণ করেন তখন তাঁর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া খুবই প্রয়োজনীয়। কিছু সাধারণ গাইডলাইন অনুসরণ করলেই মায়েদের শুস্থ গর্ভধারণ ও শুস্থ শিশুর জন্মদানের সম্ভাবনা অনেকগুণে বেড়ে যায়। গর্ভবতী মায়ের যত্ন সম্পর্কে এমনই কিছু বিষয় নিয়ে নীচে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রি-ন্যাটাল চেকআপ করিয়ে নিন

গর্ভধারণের পর পরই গর্ভবতী মহিলার গর্ভকালীন যত্নের জন্য ডাক্তারের কাছে পরামর্শের জন্য যাওয়া উচিত। মা যদি গর্ভকালীন যত্নে থাকেন তবে তার গর্ভাবস্থায় কোনো জটিলতা দেখা দিলে তার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্ভব। ফলে মা ও গর্ভকালীন শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।

যখনি আপনি জানতে পারবেন যে আপনি গর্ভবতী তখনি যত দ্রুত সম্ভব কোন গাইনী ডাক্তারের সাথে দেখা করুন। যদি আপনি এখনো ঠিক করে না থাকেন যে পুরো গর্ভকালীন সময় আপনি কোন ডাক্তারের সাথে থাকবেন তবুও কোন একজনের সাথে পরামর্শ করুন গর্ভধারণ এর ব্যাপারে। এমন নয় যে আপনি প্রথমবার যার কাছে যাবেন তার কাছেই সবসময় যেতে হবে। আপনি যে কোন সময় আপনার পছন্দের ডাক্তারের কাছে শিফট করতে পারেন।

বেশীরভাগ ডাক্তারই আপনার প্রথম সাক্ষাতের দিন ঠিক করবেন আপনার গর্ভধারণের অষ্টম সপ্তাহে। অনেকে এর আগেও আপনাকে দেখতে পারেন যদি আপনার কোন মেডিকেল কন্ডিশন থাকে, পূর্বের গর্ভধারণে কোন সমস্যা থাকে, যোনিপথে রক্তক্ষরণ, পেট ব্যাথা বা অনেক বেশী বমি বমি ভাব বা বমির লক্ষন থাকে।

প্রথম সাক্ষাত অনেকটা দীর্ঘ হতে পারে। তাই লম্বা সময় থাকার প্রস্তুতি নিয়ে আসুন। সম্ভব হলে আপনার সঙ্গীকেও সাথে আনার চেষ্টা করবেন। গর্ভধারণের ব্যাপারে যা ই মনে আসুক, ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করতে দ্বিধা বোধ করবেন না। প্রয়োজনে আপনার প্রশ্ন গুলো একটি কাগজে লিখে রাখতে পারেন। যদি মনে করেন কোন বিষয় ডাক্তারকে জানানো জরুরী তবে অবশ্যয় জানান।

গর্ভাবস্থায় ট্রাইমেস্টার অনুযায়ী ডাক্তারের চেকআপ কেমন হতে পারে তা জানতে পরুনঃ

সুষম খাবার খাওয়া শুরু করুন

অনেকের মতে, একজন গর্ভবতী মাকে দুজনের খাবার খাওয়া উচিত। এটা ঠিক নয়। কারণ অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের সঙ্গে মুটিয়ে যাওয়ার সম্পর্ক আছে। অতিরিক্ত ওজনের মায়েদের ক্ষেত্রে মৃত সন্তান অথবা ছোট শিশুর জন্মদানের ঘটনা বেশি। তবে খাবার যেমনই হোক না কেন, সেটা হতে হবে পুষ্টিকর। এ জন্য প্রতিদিনের খাবারে খাদ্যের সব কয়টি উপাদানের উপস্থিতি থাকতে হবে।

গর্ভকালীন সময়ে মায়ের খাবার কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিটি নারীর দৈনিক ২১শ’ ৬০ কিলো- ক্যালরি খাদ্যের প্রয়োজন হলেও একজন গর্ভবতীর প্রয়োজন হয় তার চেয়ে ৩৫০ কিলো ক্যালরি বেশী। তা না হলে শিশু অপুষ্টিতে ভুগে ও কম ওজন নিয়ে শিশু জন্মায়।

গর্ভবতী মা স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করবেন। তবে খাদ্য তালিকায় সুষম খাবার থাকতে হবে। মাছ, গোশত, ডিম, দুধ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকা চাই। ভ্রুণের বৃদ্ধিতে প্রচুর ক্যালসিয়ামের দরকার হয়। দুধে ক্যালসিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা পেতে হলে শাকসবজির কোনো বিকল্প নেই।

গর্ভাবস্থায় কিছু কিছু খাবার বাদ দেয়া উচিত, যেমন- কাঁচা ডিম, দুধ, কাঁচা বা আধা সিদ্ধ মাংস, কাঁচা পেপে, আনারস, কিছু সামুদ্রিক মাছ যাতে অতিরিক্ত মার্কারি থাকে। গর্ভাবস্থায় যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত সে সম্পর্কে জেনে নিন।

প্রি-ন্যাটাল ভিটামিন নিন

বেশীরভাগ প্রি-ন্যাটাল সাপ্লিমেন্টে সাধারণ মাল্টিভিটামিনের চাইতে বেশী ফলিক এসিড ও আয়রন থাকে যা গর্ভাবস্থায় খুবই প্রয়োজনীয়।

গর্ভধারণের অন্তত একমাস আগে থেকে দৈনিক ৪০০ মাইক্রোগ্রাম (mcg) ফলিক এসিড গ্রহনের পরামর্শ দেয়া হয়। অনেক সময় অপরিকল্পিত গর্ভধারণের ঘটনা ও ঘটতে পারে। তাই বিয়ের পর থেকেই বা গর্ভধারণের উপযুক্ত বয়স হলেই নিয়মিত এ পরিমানে ফলিক এসিড গ্রহন শুরু করা উচিত। কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ গর্ভবতী হলে ফলিক এসিড গ্রহনের পরিমান দৈনিক ৬০০ মাইক্রোগ্রাম করার কথা বলে থাকেন।

আপনি যদি নিয়মিত মাল্টিভিটামিন গ্রহন করেন তাহলে লেবেল চেক করে দেখুন তাতে পর্যাপ্ত পরিমানে ফলিক এসিড আছে কিনা। যদি তাতে প্রয়োজনীয় ফলিক এসিড না থাকে তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তা পরিবর্তন করতে পারেন বা আলাদা ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট গ্রহন করতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কখনোই দৈনিক ১০০০ মাইক্রোগ্রামের বেশী ফলিক এসিড গ্রহন করা উচিত নয়।

গর্ভাবস্থায় আপনার শরীর যথেষ্ট পরিমানে আয়রন পাচ্ছে কিনা সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে আয়রনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যহারে বেড়ে যায়, যার ফলে এনেমিয়া দেখা দিতে পারে। তবে যে কোন সাপ্লিমেন্ট নেয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

গর্ভাবস্থায় নিয়ম মেনে অল্প খানিকটা ব্যায়ামও বেশ উপকারী। গর্ভকালীন সময়ে নিজের জন্যতো বটেই অনাগত সন্তানের কথা ভেবে হলেও আপনার ব্যায়াম করা দরকার। তবে এসময় ব্যায়াম কিন্তু অন্যান্য সময়ের মতো হবে না। এসময় ব্যায়ামও করতে হবে বুঝে শুনে।  প্রেগনেন্সির প্রথম কয়েক মাস আপনি সব ধরনের ব্যায়ামই করতে পারেন। তবে এসময় হাঁটাটাই সব থেকে ভালো ব্যায়াম। আর যেটাই করুন না কেন অবশ্যই কোনো ভালো ইন্সট্রাকটরের পরামর্শ মেনে চলা উচিত যেন কোনো সমস্যা না দেখা দেয়।

গর্ভাবস্থা একজন মহিলার জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। পরিবর্তন আসে তার শরীরে-মনে। শরীরের পরিবর্তন, ফিটনেসের সমস্যা অনেক নারীকে বিষাদে ফেলে দেয়। অবসাদে ভোগেন অনেকে। তবে ব্যালান্স ওয়ার্ক আউট সেক্ষেত্রে আপনাকে এই সকল সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে। খানিকটা ভারসাম্যপূর্ণ ব্যায়াম মা ও গর্ভের শিশু উভয়ের জন্যই ভীষণ উপকারী। আরো এমন বেশ কিছু উপকার আছে যা একজন গর্ভবতী নারীকে এই সময় ব্যায়াম করতে অনুপ্রেরণা জাগাবে।

ব্যায়াম শুরুর আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার গর্ভাবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। গর্ভবতী মায়ের শারীরিক অবস্থানুযায়ী প্রয়োজন, বয়স, পরিবেশগত সুবিধা, সময়ের সীমাবদ্ধতা ও মানসিক প্রবণতার কথা ভেবে ব্যায়াম বেছে নেয়া ভাল।তবে যে কোনো ব্যায়ামের আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট বা প্রসূতিবিদ্যায় অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নিয়ে শুরু করা উচিত।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন

একজন গর্ভবতী মাকে একটি সুস্থ্য সন্তান জন্ম দেবার জন্য কিছুটা বাড়তি বিশ্রাম ও ঘুমানোর প্রয়োজন রয়েছে। দিনে ২ ঘন্টা ঘুম সহ দৈনিক নুন্যতম ১০ ঘন্টা ঘুমানো মায়ের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। যদি দুপুরে ঘুমাতে নাও পারেন সেক্ষেত্রে পা উপরে তুলে সোফায় বা বিছানায় শুয়ে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে নিন। রিলাক্সেশনের টেকনিকগুল, যেমন- যোগব্যায়াম, স্ট্রেচিং, মাসাজ, গভীর ভাবে শ্বাস নেয়া এসব কিছুই রাতে ঘুমাতে সাহায্য করবে এবং আপনাকে চাপ থেকে মুক্ত রাখবে।

গর্ভাবস্থায় ঘুমের সমস্যা ও তার প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নিন।

নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিহার করুন

যদি এসব বদভ্যাস থাকে তবে তা বন্ধ করার এখনি সময়। অনেক গবেষণাতেই দেখা গেছে এসব অভ্যাসের ফলে গর্ভপাত, সময়ের আগেই প্রসব, বাচ্চার ওজন কম থাকা ইত্যাদির সম্ভাবনা থাকে। গর্ভাবস্থায় কোনো অবস্থাতেই মায়ের ধুমপান করা চলবেনা, এমন অভ্যাস থেকে থাকলে সন্তানের ভালোর জন্য ঐ মুহুর্তে তা ত্যাগ করতেই হবে। গর্ভবতী মায়ের সামনে অন্যকেউ ধুমপান করলে তাও শিশুটির ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। যেসব মায়ের মদ্যপানের অভ্যাস আছে তাদের এসময়ে এ অভ্যাসটি থেকেও দূরে থাকতে হবে। গর্ভাবস্থায় নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন শিশুর স্থায়ী ক্ষতির কারন হতে পারে।

এসব অভ্যাস ত্যাগ করা খুব একটা সহজ নয়। তাই এ ব্যাপারে আপনারের ডাক্তারের সাথে আলোচনা করতে পারেন।

ক্যাফেইন গ্রহনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রন করুন

কফি ক্লান্তি দূর করার জন্য কার্যকর হলেও গর্ভাবস্থায় এর পরিমাণ কম করতে হবে। চা, কফি ইত্যাদিতে ক্যাফেইন থাকে। দৈনিক ২০০ গ্রামের বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে কম ওজনের শিশু জন্ম গ্রহণ করে। মিসক্যারেজের মত ঘটনাও ঘটতে পারে।

এছারাও ক্যাফেইনে এমন কোন পুষ্টিকর উপাদান থাকেনা যা গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় বরং তা শরীরকে আয়রন শোষণ করতে বাঁধা দেয় যা গর্ভাবস্থায় মায়েদের শরীররে এমনিতেই কম থাকে। এছারাও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহনের ফলে ঘুমের সমস্যা ও হতে পারে

মনে রাখবেন ক্যাফেইন মানেই শুধুমাত্র চা, কফি নয়। সোডা, ব্ল্যাক টি, গ্রীন টি এবং বিভিন্ন ব্যাথার ওষুধেও ক্যাফেইন থাকে। তাই কিছু খাওয়ার আগে লেবেল চেক করুন।

দাঁতের যত্ন নিন

অনেক গর্ভবতী দাঁত ও মাড়ির সমস্যায় ভুগে থাকেন। গর্ভাবস্থায় নারীর দেহে হরমোনজনিত কিছু পরিবর্তনের কারণে দাঁত ও মাড়িতে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ প্রতিক্রিয়ার ফলে প্রায় ৫০-৭০% গর্ভবতী মাড়ির প্রদাহে আক্রান্ত হন। মাড়ির এ প্রদাহকে চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায়, ‘প্রেগন্যান্সি জিনজিভাইটিস’ বলা হয়। এ সময় দাঁত ও মাড়িতে জমে থাকা খাদ্যকণা, যা হরমোনের প্রভাবে খুব সহজেই ডেন্টাল প্ল্যাকে রূপান্তরিত হয়।আর এসব সমস্যার ফলে গর্ভের বাচ্চার স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেও ব্যাঘাত ঘটে।

এটি মোকাবিলা করার জন্য সর্বাগ্রে করণীয় হচ্ছে গর্ভাবস্থার শুরু থেকে নিয়মিত দাঁতব্রাশ এবং ফ্লসিং করা, যাতে ডেন্টাল প্ল্যাক সৃষ্টি হতে না পারে। গর্ভাবস্থার আগে একজন দন্ত চিকিৎসকের কাছে দাঁত ও মাড়ি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত । এতে দাঁতে কোনও সমস্যা থাকলে তা তখনই নির্ণয় করে চিকিত্সা করা উচিত। দাঁতে ক্যালকুলাস (পাথর) থাকলে তা মেশিনের সাহায্যে স্কেলিং করানো উচিত। এছাড়া দাঁতে ক্যাভিটি (গর্ত) থাকলে তা ফিলিং করা উচিত। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এ গর্ত পরে আরও গভীর হয়ে দাঁতে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। এছাড়া আক্কেল দাঁতের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখুন

নারীর গর্ভকালীন সময়ের মানসিক চাপ ও উদ্বেগের পরিমান যদি স্বাভাবিকের থেকে বেশী হয়, তবে তা গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতা ও অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সূচনা করতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় ৩৩ শতাংশ নারীরাই গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতায় (depression during pregnancy) ভুগে থাকেন। এর বেশীরভাগই কোনরূপ চিকিৎসা বা সঠিক দেখাশোনা ছাড়াই সন্তান জন্ম দেন। যার প্রভাব পড়ে সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকটির উপর। বিষণ্ণতা বা মানসিক অস্থিরতায় ভোগা মায়ের সন্তান পরবর্তীতে নানা ধরণের মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হয় তাই প্রথম থেকেই গর্ভবতী নারীর বিষণ্ণতায় ভোগার লক্ষণ শনাক্ত করে তার প্রতিকারে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

মনে রাখতে হবে বিষণ্ণতা একটি রোগ, এটি কারো ইচ্ছাতে হয়না। আরও আশ্চর্যজনক হোল এতে গর্ভাবস্থায় অনেক মা ই আক্রান্ত হন। প্রতি দশজনের মধ্যে ১ জন গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতার শিকার হতে পারেন। তবে এর পরিমান আরও অনেক বেশী কারণ অনেক বিষণ্ণতায় আক্রান্ত মা ই তা শিকার করতে চান না বা জানাতে চান না।

এ ধরনের বিষণ্ণতা চিকিৎসা ছাড়া আপনা আপনি ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে চিকিৎসা নিলে বেশীর ভাগ মানুষই কয়েক মাস বা বছরের মধ্যেই আবার স্বাভাবিক বোধ করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মহিলারা নিজেদের এ ধরণের সমস্যার ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। কিন্তু এমনটা যেন না হয়। মনে রাখতে হবে, আপনার দৈহিক সুস্থতার মতোই আপনার মানসিক সুস্থতাও একটি সুস্থ শিশুর জন্মলাভের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই গর্ভাবস্থায় আপনার যদি মনে হয় যে আপনি বিষণ্ণতায় ভুগছেন, দেরী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ভ্রমনে সাবধান থাকুন

যে কোন সময় ভ্রমণের সময় গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজন কিছু বাড়তি সতর্কতার। বাড়তি কিছু সতর্কতা অবলম্বন না করলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে। সেই সঙ্গে গর্ভবতী নারীরও শরীরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ভ্রমণের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

গর্ভাবস্থায় ভ্রমণের বিষয়ে বিস্তারতি জানুন

ওজন বৃদ্ধির দিকে খেয়াল রাখুন

গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এটি মা ও শিশু উভয়ের জন্যই উপকারী। গর্ভাবস্থায় সঠিক পরিমানে ওজন বৃদ্ধি মায়ের এবং গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যরক্ষায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ সময় আপানার ওজন কতটুকু বাড়বে সেটা নির্ভর করে, গর্ভধারণের আগে আপনার ওজন কেমন ছিল তার উপর। ব্যক্তি বিশেষে এই ওজন বৃদ্ধির পরিমান কম বেশি হতে পারে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ১০ থেকে ১২.৫ কেজির মধ্যে থাকে। গর্ভাবস্থায় যতটুকু ওজন বাড়ে, তার সিংহ ভাগই বাড়ে ২০ সপ্তাহ পর থেকে। এর কারন হলো, এ সময়টায় গর্ভস্থ শিশুর ওজন বাড়তে থাকে, পাশাপাশি আপনার শরীরও অতিরিক্ত চর্বি জমাতে থাকে। শিশুর জন্মের পর তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রস্তুতি হিসাবে শরীর এই কাজটি করে থাকে। গর্ভাবস্থায় মাত্রার চেয়ে বেশি ওজন বেড়ে যাওয়া বা ঠিকমত ওজন না বাড়া, দুটিই আপানর এবং আপনার গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

আশা করি, প্রত্যেক নারী এসব টিপস মনে রাখবেন এবং ভালভাবে নিজেদের শিশু জন্মাতে নিজেরাই সাহায্য করবেন ।একজন সুস্থ মা-ই পারে জন্ম দিতে সুস্থ শিশু। তাই অনাগত শিশুর কথা চিন্তা করে গর্ভবতী মায়ের যত্ন নিন এবং সুস্থ সন্তানের জন্ম দিন।

সবার জন্য শুভকামনা।

 

Related posts

Leave a Comment