গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা সমূহ

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের হিসাব মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রসবজনিত মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১৭০ জন। প্রতি বছরই প্রায় ১২ হাজার নারী প্রসবজনিত জটিলতার কারণে মারা যান। গর্ভাবস্থায় নারীদের চাই বিশেষ যত্ন। মহিলাদের গর্ভধারণের পূর্বেই নিজের স্বাস্থ্য, গর্ভধারণ ও সন্তান পালন সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার। কারণ একজন সুস্থ্য মা-ই পারে একটি সু্স্থ ও স্বাভাবিক শিশুর জন্ম দিতে। তাই গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রয়োজন সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা।

বেশীরভাগ গর্ভাবস্থা সহজেই পার হয়ে যায়। কিন্তু জটিলতার বিপদজ্জনক উপসর্গগুলো জানা থাকলে প্রয়োজনের সময় আপনি দ্রুত উদ্যোগ নিতে পারবেন। আপনার ডাক্তার,ধাত্রী বা হাসপাতালের সাথে কথা বলুন যদি আপনার নীচের যে কোন একটি সমস্যা হয়:

রক্তপাত এবং গর্ভপাত

গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে (২০ সপ্তাহের পূর্বে) রক্তপাতকে ভয়প্রদর্শিত গর্ভপাত (Threatened miscarriage) বলে। যদি রক্তপাত এবং পিঠের নিচের দিকে বা পেটে ব্যাথা বা অস্বস্তি থাকে (মাসিকের ব্যথার মতো) তাহলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে।

গর্ভপাত হয়ে যাওয়া সাধারণ ঘটনা। সাধারণত প্রথম ১৪ সপ্তাহের মধ্যে নিশ্চিত পাঁচটি গর্ভাবস্থার একটি গর্ভপাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। গর্ভপাতের পর, কিছু মহিলার একটি পদ্ধতির প্রয়োজন লাগতে পারে যাকে dilation and curettage (D&C/ ডি এন্ড সি) বলাহয়। এটি সাধারণ চেতনানাশক দ্বারা করা হয় এবং জরায়ুর ভিতর থেকে সমস্ত গর্ভধারণের কলা/টিসু যেগুলো ছিল তা আস্তে আস্তে বের করা হয়। এটি ভারী রক্তপাত এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। কিন্তু যদি আল্ট্রাসাউন্ড দেখে যে, জরায়ু খালি তাহলে D&C এর দরকার নাই।

অনেক পিতামাতা গর্ভধারণ নষ্ট হওয়ার কারণে শোকার্ত হয়। অনেক কঠিন বিষয়ের মধ্যে একটি হচ্ছে অন্যান্যরা সর্বদা এটা বুঝতে পারে না যে, গর্ভপাতের মাধ্যমে আপনার একটি বাচ্চা নষ্ট হওয়ায় আপনার যে কি পরিমাণ শোক অনুভূত হয়। যদিও আপনি পরিবার এবং বন্ধুদের থেকে অনেক সহযোগীতা পান যখন একটি মৃত শিশু জন্ম নেয় বা জন্মের পরপরই মারা যায়,কিন্তু অনেকে অনুধাবন করতে পারে না যে গর্ভপাতের মাধ্যমে বাচ্চা নষ্ট হওয়ায় আপনি ভয়ানক দু:খের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

জরায়ুর বাইরে গর্ভাবস্থা (একটোপিক প্রেগনেন্সি)

জরায়ুর বাইরে গর্ভাবস্থা হলো যখন ভ্রুণ ডিম্বনালীর (ফেলোপিয়ান টিউব) ভিতর অথবা জরায়ুর বাইরে অন্য জায়গায় গেথে যায়। জরায়ুর বাইরে গর্ভাবস্থার যেসব উপসর্গ আপনি অনুভব করবেন তন্মধ্যে আছে মারাত্মক তলপেটে ব্যাথা, যোনীপথে রক্তপাত, নিস্তেজ অনুভব, বমি বা এক কাঁধের চূড়ায় ব্যাথা। যদি আপনি এসব উপসর্গ অনুভব করেন, জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসা নেয়া গুরুত্বপূর্ণ।

জরায়ুর বাইরে গর্ভাবস্থার সাধারণ ফলাফল হল গর্ভপাত এবং সাধারণত তা প্রতিরোধযোগ্য নয়।

২০ সপ্তাহের পর রক্তপাত

২০ সপ্তাহের পর রক্তপাতকে প্রসব পূর্ববর্তী রক্তপাত বলে। এটি সাধারণ নয়, কিন্তু অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। গর্ভাবস্থার যেকোন ধাপে রক্তপাতের প্রথম উপসর্গ দেখা দিলে সর্বদা আপনার ডাক্তার, ধাত্রী বা হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করুন।

এর কারণ হতে পারে গর্ভফুলের একটি সমস্যা যাকে ‘প্লাসেন্টা প্রিভিয়া’ বা গর্ভফুলের নিম্নাবস্থান বলে।এর মানে হলো জরায়ুর উপরের অংশে সংযুক্ত না হয়ে, কিছু অংশ বা পুরো গর্ভফুল জরায়ুর নীচের অংশে সংযুক্ত হয়। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে জরায়ু যখন প্রসারিত হতে থাকে, তখন এটি গর্ভফুলের কিছু অংশ স্থানচ্যুত করে এবং এতে করে রক্তপাত ঘটায়।

কখনো গর্ভফুল (বা প্লাসেন্টা) জরায়ু থেকে সামান্য পৃথক হয়, যদিও এটি সঠিক অবস্থানেই থাকে। এটি অল্প বা ভারী রক্তপাত ঘটাতে পারে এবং কখনো কখনো পেট ব্যাথা হয়। যদি গর্ভফুলের অনেক অংশ বের হয়ে আসে,তাহলে তা আপনার এবং আপনার বাচ্চার জন্য প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ হবে। শীঘ্র চিকিৎসা বাচ্চাকে নিরাপদ করতে পারে, যদিও সে সিজারিয়ান সেকশন অপারেশন এবং/অথবা সময়ের আগে জন্ম নিতে পারে।

কখনো কখনো রক্তপাতের কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

বহুমূত্র রোগ (ডায়াবেটিস)

যখন কারো বহুমুত্র রোগ থাকে, তাদের শরীর তাদের রক্তে গ্লুকোজ (চিনি)-এর সীমা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। নিয়ন্ত্রণহীন রক্তের গ্লুকোজ সীমা মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা করতে পারে। দুই ধরনের বহুমুত্র রোগ আছে: টাইপ-১ (ইনসুলিন নির্ভর) বহুমূত্র রোগে মানুষের শরীর রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরী করতে পারে না। তাদের রক্তে চিনির পরিমান নিয়ন্ত্রণ রাখতে ইনসুলিন ইনজেকশানের প্রয়োজন হয়।

টাইপ-২ বহুমূত্র রোগে মানুষের সমস্যা একটু ভিন্ন। তাদের পর্যাপ্ত ইনসুলিন থাকে, কিন্তু তাদের শরীর একে যথাযথভাবে ব্যবহার করে না, তাই রক্তে চিনির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। টাইপ-২ বহুমূত্র রোগ সাধারণত খাবার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যায়াম, এবং কখনো ঔষধ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

গর্ভাবস্থার শুরুতে এমনকি গর্ভধারণের পূর্বে ডাক্তার বা বহুমুত্র রোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে আপনি ভালো যত্ন পাবেন এবং রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। ভালোযত্ন এবং চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ডায়াবেটিক মহিলারা সফল গর্ভধারণ করতে পারে। খাদ্যের ব্যাপারে তাদেরকে অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে এবং নিজে নিজে প্রায়ই রক্তে চিনির পরীক্ষা করতে হবে। ডায়াবেটিস গর্ভবতী মহিলাদের যত্ন এবং তাদের ঔষধ ঠিক করে দেয়ার জন্য বারবার ডাক্তার/বিশেষজ্ঞ দেখানো প্রয়োজন।

গর্ভাকালীন বহুমূত্র রোগ

গর্ভাকালীন বহুমূত্র রোগ গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় অর্ধাংশে হতে পারে। গর্ভাকালীন বহুমূত্র রোগ মহিলাদের রক্তে চিনির পরিমাণ অস্বাভাবিক অধিক মাত্রায় থাকে।এই ধরনের মহিলাদের কঠোর খাদ্য সংযম অভ্যাস এবং ব্যায়াম কর্মসূচী মেনে চলা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে, মহিলাদের ইনসুলিন ইনজেকশনসহ অন্যান্য ঔষধের প্রয়োজন পরে।

প্রতি ১০০ জন গর্ভাকালীন বহুমূত্র রোগ মহিলার মধ্যে ৩০ জনের বাচ্চা গড়ে বড় আকৃতির হয়। তাদের প্রসবের সময় কিছু রকমের হস্তক্ষেপ যেমন সিজারিয়ান সেকশন অপারেশন দরকার পরে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে যেসব মহিলাদের গর্ভাকালীন বহুমূত্র রোগ হয় তাদের পরবর্তী জীবনে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশী থাকে । এটা সাধারন যে গর্ভাবস্থায় সকল গর্ভবতী মহিলাদের অন্তত: একবার গ্লুকোজ পরীক্ষা করা হয়।

উচ্চ রক্তচাপ

যে কারনে ডাক্তার এবং ধাত্রী গর্ভাবস্থায় সতর্কতার সাথে রক্তচাপ পরীক্ষা করে তা হচ্ছে চিকিৎসাবিহীন উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন বলে)-এর কারণে:

  • বাচ্চার রক্ত সরবরাহ কমে যায় ফলে বৃদ্ধিতে সমস্যা হয়
  • মায়ের কিডনী, যকৃত এবং মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ শুরুতেই চিহ্নিত করা যায় এবং চিকিৎসা করা যায় – আপনি গর্ভবতী চিন্তা করার সাথে সাথে একজন ডাক্তার বা ধাত্রী দেখানো এবং নিয়মিত প্রসবপূর্ব যত্ন পাওয়ার জন্য এটি একটি ভালো কারণ।

গর্ভাবস্থার শেষের দিকে উচ্চ রক্তচাপ প্রসবকালীন খিঁচুনীর পূর্বাবস্থা বা প্রি-একলাম্পসিয়া নামক একটি অবস্থার আগাম উপসর্গ। প্রসবকালীন খিঁচুনীর পূর্বাবস্থা(প্রি-একলাম্পসিয়া)-র অন্যান্য উপসর্গ হলো প্রস্রাবে আমিষ এবং লিভারে সমস্যা বা রক্ত জমাটের সমস্যা। প্রি-একলাম্পসিয়ার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন কারণ এটি আরো মারাত্মক (কিন্তু বিরল) অবস্থা যাকে একলাম্পসিয়া বলে তাতে উন্নীত হতে পারে যা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কারণ।

উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন মহিলাদের খুব অল্প সংখ্যক যাদের উপর উচ্চ রক্তচাপ ঔষধ (anti-hypertensive) কোন রকম কাজ করে না, গর্ভাবস্থায় তাদের কিছু সময় হাসপাতালে ব্যয় করতে হয়, যাতে করে তাদের রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করা এবং স্থির করা যায়। সমস্যা কতটা মারাত্মক তার উপর নির্ভর করে হাসপাতালে থাকা কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ বা মাস হতে পারে।

হাঁপানি

গর্ভাবস্থাতেও আপনার হাঁপানির ঔষধ নেয়া প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় আপনার ডাক্তারকে নিয়মিত দেখান, কারণ পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হাঁপানি গর্ভাবস্থায় কম সমস্যা তৈরী করে। অনিয়ন্ত্রিত হাঁপানি অপরিপক্ক জন্ম এবং বাচ্চার ওজন কমের সাথে সম্পৃক্ত। গর্ভাবস্থায় হাঁপানি ভালো বা খারাপ হতে পারে। যদি আপনি ধুমপান না করেন, তবে আপনি হাঁপানি ভালো করতে পারেন। এছাড়াও এটা গুরুত্বপূর্ণ যে হাঁপানী রোগী মহিলার ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নিতে হয়। যদি আপনার শ্বাসকষ্ট হয় তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।

মৃগীরোগ

যদি আপনার মৃগীরোগ থাকে তাহলে গর্ভধারণের পূর্বে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ কারণ ডোজ এবং ঔষধ যা আপনি মৃগীরোগের জন্য নেন তা পরিবর্তন হতে পারে। ডাক্তারের সাথে আলোচনা না করে ঔষধের ডোজ পরিবর্তন করবেন না।

বাচ্চার নড়াচড়া

গর্ভাবস্থায় সাধারণত মা ১৬ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করেন। পেটের ভেতর বাচ্চা ঘুমায় ও খেলা করে, যার অনুভূতি মা বাইরে থেকে বুঝতে পারেন। বাচ্চার নড়াচড়ার একটা নির্দিষ্ট সীমা এবং সময় রয়েছে যা শুধু মা-ই অনুভব করেন। এর কোনো ব্যতিক্রম হলে মা সেটা খুব দ্রুত বুঝতে পারেন। বাচ্চার অধিক নড়াচড়া বা কম নড়াচড়া দুটিই ক্ষতিকর এবং এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর ডাক্তারকে দেখানো উচিত।

আরও পড়ুনঃ গর্ভের বাচ্চার নড়াচড়া সংক্রান্ত কিছু জরুরী বিষয় 

অতিরিক্ত বমি হওয়া

গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া খুব সাধারণ একটি ঘটনা। কিন্ত অতিরিক্ত বমি হওয়া মোটেও সাধারণ কোন ব্যাপার নয়। বমির কারণে বা বমি ভাবের কারণে আপনি কিছু খেতে বা পান করতে পারছেন না যখন তখন আপনার ড্রিহাইড্রেশন প্রব্লেম প্রবল আকারে দেখা দেবে যার যেটা আপনার বাচ্চার জন্য ভীষণ ক্ষতিকারক। তাই এই সমস্যা দেখা দিলেই আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সে আপনাকে আপনার ডায়েট বদলে দেবে অথবা আপনাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত বমি বা হাইপারমেসিস গ্রাভিডেরাম

বিষণ্ণতা

যদি আপনি গর্ভধারণের পরিকল্পনা করেন এবং বিষণ্ণতার জন্য ঔষধ খান তাহলে গর্ভাবস্থায় এসব ঔষধ নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করতে আপনার ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করে নিন। গর্ভধারণ আপনার বিষণ্ণতাকে আরো খারাপ করতে পারে, তাই আপনার ধাত্রী, ডাক্তার অথবা পরামর্শদাতাকে বলা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি কেমন অনুভব করছেন যাতে তারা অতিরিক্ত সহযোগীতার আয়োজন করতে পারে। যদি আপনি স্বাভাবিকভাবে বিষণ্ণতা অনুভব না করেন এবং গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতা এবং/অথবা উদ্বিগ্নতা তৈরী হয় তাহলে দয়াকরে আপনার ধাত্রী বা ডাক্তারকে জানান যাতে তারা আপনার জন্য যথাযথ সহযোগীতা প্রদান বা আয়োজন করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতা । অবহেলা নয়, প্রতিকার জরুরী

গর্ভাবস্থা, প্রসব এবং পরবর্তী সময়ের বিপজ্জনক সমস্যাগুলো কখনো কখনো সতর্কসংকেত ছাড়াই হঠাৎ দেখা দিতে পারে। তবুও সব দম্পতির এবং আত্মীয়স্বজনের ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভের লক্ষণ, বিপদের পূর্বাভাস ও মারাত্মক লক্ষণগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যেকোনো খারাপ অবস্থার জন্য আগে থেকে মানসিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি না থাকলে সমূহ বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। কোথায় নিকটবর্তী মাতৃসদন হাসপাতাল বা ক্লিনিক এবং সেখানে কীভাবে, কোন পথে যেতে হয় তা-ও জেনে রাখা ভালো। যানবাহন বা অ্যাম্বুলেন্স কোথায় কীভাবে পাওয়া যায়, তা-ও খোঁজখবর নিয়ে রাখা প্রয়োজন। সে জন্য কীভাবে কোথায় যোগাযোগ করতে হয়, তা জানতে হবে। প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর, বিশেষ করে মোবাইল ফোন যদি থাকে অবশ্যই তার নম্বর জেনে নিতে হবে।

গর্ভবতী ও তার কাছাকাছি অবস্থানকারী আত্মীয়স্বজনের সচেতনতা ও প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা থেকে মা ও গর্ভস্থ সন্তানকে রক্ষা করতে পারে। তাই প্রয়োজন সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যবস্থা করা। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভের জটিলতা সম্পর্কে ধারণা এবং এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ মায়েদের অকালমৃত্যু, অনাগত শিশুটির করুণ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে পারে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment