গর্ভকালীন ডায়াবেটিস | অবহেলা করা উচিত নয়

ডায়াবেটিস এমন একটি জটিলতা যা সবসময় দেখা যায়, ফলে অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গেছে। ভাবখানা এ রকম যে, কিছু নিয়মকানুন মেনে চললেই হলো। কিন্তু গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস একটি মারাত্মক জটিলতা, এর উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে একজন প্রসূতির জন্য তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে অন্তত দশ শতাংশ নারীর গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা থাকে। মহিলারা সাধারনতঃ দুই ভাবে ডায়াবেটিসে ভোগেন। ১। গর্ভ সঞ্চারের আগে থেকেই ডায়াবেটিস ২। শুধুমাত্র গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিস। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণত সন্তান জন্মদানের পর সেরে যায়। কিন্তু পরবর্তিতে মায়ের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যায়।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কি

সহজ ভাষায় বলতে গেলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস মানে হল গর্ভ পূর্ববর্তী সময়ে ডায়াবেটিস ছিল না এমন কারো যদি গর্ভকালীন সময়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়, তবে তার ডায়াবেটিস হয়েছে বলে ধরে  নেয়া হয়।

আমারা যখন কোন খাবার খায় তখন আমাদের পরিপাকতন্ত্র খাবারগুলোকে ভেঙ্গে শর্করায় পরিনত করে। এই শর্করা আমাদের রক্তে প্রবেশ করে এবং শরীরের কোষ গুলো তা জালানি হিসেবে গ্রহন করে। ইনসুলিনের সাহায্যে আমাদের পেশী, চর্বী এবং অন্যান্য কোষগুলো এ শর্করা গ্রহন করে থাকে।

কোন কারণে শরীর যদি যথেষ্ট পরিমানে ইনসুলিন উৎপন্ন না করে বা শরীরের কোষগুলো যদি কোন কারণে ঠিকভাবে কাজ না করে তবে এই শর্করাগুলো কোষে না গিয়ে রক্তে রয়ে যায়। যার ফলে রক্তে শর্করার পরিমান বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিস দেখা দেয়।

গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই শরীর ইনসুলিন প্রতিরোধী হয়ে উঠে যাতে আপনার রক্তে শর্করার পরিমান বেশী থাকে যা গর্ভের শিশুর জন্য পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে। বেশীর ভাগ মায়েদর এটি কোন সমস্যা সৃষ্টি করেনা কারণ তাদের অগ্নাশয় এ সময় প্রয়োজনমত বেশী ইনসুলিন উৎপন্ন করে যা অতিরিক্ত শর্করাগুলো কোষে সরবরাহ করে। কোন কারণে অগ্নাশয় পরিমানমত ইনসুলিন উৎপন্ন করতে না পারলে এ শর্করাগুলো রক্তে রয়ে যায় আর তখনই রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় আর দেখা যায় গর্ভকালীন ডায়াবেটিস।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণত ২৪ সপ্তাহের পর হয়ে থাকে। এর আগেই যাঁদের রক্তে শর্করা বেড়ে যায়, তাঁরা সম্ভবত গর্ভধারণের আগে থেকেই ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন, যা তাঁরা টের পাননি। এই নারীদের সন্তান প্রসবের পরও ডায়াবেটিস থেকে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে আগে ছিল না, কিন্তু গর্ভকালেই ডায়াবেটিস হয়েছে এমন নারীদের বেশির ভাগেরই সন্তান প্রসবের পর রক্তে শর্করা স্বাভাবিক হয়ে যায়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রসবের ছয় সপ্তাহ পর আরেকবার পরীক্ষাকরে নিতে হবে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের কারণ 

আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন ডায়াবেটিস কেন হয়? আবার অনেকের মনেই একটি ভুল ধারণা আছে যে, বেশি চিনি বা মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস রোগ হয়। কথাটি ঠিক নয়। তবে ডায়াবেটিস রোগ দেখা দিলে মিষ্টি, চিনি বা শর্করাজাতীয় খাবার নিষিদ্ধ। তাতে রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়। যাদের পরিবারে ডায়াবেটিস রোগ আছে বা ছিল এমন হিস্ট্রি আছে, বিশেষ করে বাবা-মা, ভাইবোন, চাচা, দাদা-দাদীর সম্পর্কের তাদের অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কারণ এটি বলতে গেলে একটি বংশগত রোগ।

তবে কিছু কারন শনাক্ত করা হয়েছে যেই কারনে গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিস হতে পারে—

  • যদি আপনার বয়স ৩৫ বছরের বেশি হয়ে থাকে
  • গর্ভধারণের আগে থেকে যদি আপনার ওজন বেশি হয়ে থাকে
  • আগেও গর্ভকালীন সময়ে যদি আপনার ডায়াবেটিস হয়ে থাকে ( যারা দ্বিতীয় বা তৃতীয় বার)
  • আপনি এর আগে সাড়ে ৪ কেজি ওজনের বাচ্চা যদি প্রসব করে থাকেন
  • আপনার বাবা, মা বা চাচা কারো যদি ডায়াবেটিস হয়ে থাকে
  • শরীর যদি গ্লুকোজ ইন্টলারেন্ট থাকে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের  লক্ষনঃ 

সাধারণত ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভকালীন চেক আপ এ যখন রক্তের গ্লুকোজ মাপা হয় তখন ই ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়। তবে ডাক্তার যদি মনে করেন আপনার ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি বেশি তাহলে প্রথম এএনসি চেক আপের সময় ই ডায়াবেটিস পরিক্ষা করার কথা বলতে পারে। পরবর্তীতে ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহে আবার করাবেন।

বেশীর ভাগ সময়ে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের তেমন কোন লক্ষণ থাকে না, তবে কখনো কখনো কিছু উপসর্গ হতে পারে। তেমন কিছু উপসর্গ নীচে তুলে ধরা হলঃ

  • অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগা
  • বেশি বেশি পিপাসা লাগা
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
  • বার বার প্রস্রাবের ইনফেকশন হওয়া
  • চোখে ঝাপসা দেখা
  • বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া
  • ক্ষুধা বৃদ্ধি সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া

উপরের উপসর্গ গুলো দেখলেই ডাক্তারের সাথে কথা বলে ডায়াবেটিসের পরিক্ষা করা উচিত।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে মা ও সন্তানের কী ধরনের জটিলতা হতে পারে

অধিকাংশ মায়েরাই যারা গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে তা নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন তারা স্বাভাবিক প্রসব ও সুস্থ বাচ্চার জন্ম দেন। তাই বলে রোগটিকে একদম ছেলে খেলা মনে করাও ঠিক হবে না। গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস মা ও শিশু উভয়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ডায়াবেটিস হলে গর্ভধারণের প্রথমদিকে সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি, সন্তান পরিপূর্ণ হওয়ার আগেই জন্ম, ওজন অত্যাধিক বৃদ্ধি, এমনকি মায়ের পেটেই শিশুর মৃত্যু হতে পারে। আবার জন্মের পরও নবজাতকের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। যেমন- শরীরে গ্লুকোজ কমে যাওয়া বা রক্তে ক্যালসিয়াম কমে গিয়ে শিশু দুর্বল হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, মায়ের বুকের দুধ ঠিভাবে পান না করাসহ অনেক সমস্যা হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, হৃৎপিণ্ড ঠিকমতো গঠিত না হওয়া, ঠোঁটকাটা,  ওপরের তালু কাটাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এসব শিশু পরবর্তী সময়ে দৈহিক স্থুলতা, ডায়াবেটিস ছাড়াও নানা স্নায়ুরোগে ভোগে।

যেসব মায়েদের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস থাকে তাদের গর্ভের শিশু সাধারণত আকারে বড় হয়। আকারে বড় শিশুরা বেশীরভাগ সময় লম্বা সময় ধরে জন্মনালীতে আঁটকে থাকে যার ফলে তাদের গলা ও ঘাড়ের স্নায়ু খতিগ্রস্থ হয়। বেশীরভাগ সময়ই এসব ক্ষেত্রে সি-সেকশন এর প্রয়োজন পরে।

এসব কারণেই গর্ভকালে ডায়াবেটিস রোগ দেখা দিলে অথবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত একজন মা গর্ভবতী হলে চিকিৎসাশাস্ত্রে তাকে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা বলে ধরা হয় এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এসব রোগিনীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়।

সাধারণভাবে শিশুর মাথা শরীরের তুলনায় বড় থাকে এবং প্রসবকালীন সময়ে আগে বেড়িয়ে আসে। মাথা যদি বেড়িয়ে আসতে পারে বাকি শরীরও সহজে পিছলে বেড়িয়ে আসতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়েদের শিশুর কাঁধ বড় হতে পারে এবং প্রসবকালীন সময়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস শনাক্তকারী পরীক্ষা

গর্ভকালীন সময়ে মায়ের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী হলে তা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes Mellitus/GDM) হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ, সকালে খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৬.১ মিলিমোল/লিটার বা তার চেয়ে বেশী এবং ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৭.৮ মিলিমোল/লিটার বা তার চেয়ে বেশী হলে তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হিসেবে সনাক্ত করতে হবে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় Oral Glucose Tolerance Test বা OGTT।

আরও একটি পরীক্ষা পদ্ধতি হচ্ছে Glucose Challenge Test বা GCT। দিনের যে কোনও সময় ৫০ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ১ ঘণ্টা পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৭.৮ মিলিমোল/লিটার বা তার চেয়ে বেশী হলে তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হিসেবে ধরে নিতে হবে। GCT পজিটিভ হলে অবশ্যই OGTT পরীক্ষা করাতে হবে। গড়ে সাধারনত ৪% গর্ভবতী মায়েরা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে ডায়াবেটিস শনাক্তকারী পরীক্ষা ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট বা OGTT করে ডায়াবেটিস আছে কিনা তা শনাক্ত করতে হবে। এই পরীক্ষার ফলাফল স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে গর্ভকালীন ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে আবার একই পরীক্ষা করে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের উপস্থিতি আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের  চিকিৎসা

অধিকাংশ ক্ষেত্রে জেসটেশনাল ডায়াবেটিস শুধু ডায়েট এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে খুব শক্তভাবে তা নিয়ন্ত্রন করতে হবে। কেননা, শক্ত নিয়ন্ত্রণ না হলে অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে। এজন্য প্রথমেই রোগীকে একটি খাদ্য তালিকা দেয়া হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত মায়েদের এমন খাবার দিতে হবে যা তাদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রিত রাখে। তবে খাবারের পুষ্টিগুণের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।মাকে নিয়ম মাফিক খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে। এ সময় অল্প অল্প করে বারবার খেতে দিতে হবে।

এমন খাদ্য বাছাই করতে হবে যাতে চর্বির পরিমাণ কম ও বেশি আঁশযুক্ত। শর্করার উত্তম উৎস যেমন:ভাত, দানাদার শস্য, ফলমূল ইত্যাদি গর্ভকালীন সময়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে।গর্ভবতী মায়েদের ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার (যেমন: দুধ, বাদাম), লালশাক, পালংশাক, কচুরশাক, কচুর লতি, মলা-ঢেলা মাছসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার প্রদান করতে হবে।

যদি হাঁটতে কোন নিষেধ না থাকে তবে রোগীকে হাঁটার পরামর্শ দেয়া হয়। অনেকে মনে করেন, গর্ভকালীন হাঁটাহাঁটি করা যায় না। কিন্তু যদি কোনো জটিলতা না থাকে, তবে সে আধা ঘণ্টা হাঁটতে পারবে। এর মাধ্যমে শরীর গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত হয়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আর তাতেও যদি না হয়, তখন তাকে ইনসুলিন দেয়া হয়। এসময় মুখে খাওয়ার কোন ওষুধ দেয়া হয়না।যাদের গর্ভসঞ্চারের আগে থেকেই ডায়াবেটিস আছে এবং মুখে খাওয়ার ঔষধ ব্যবহার করেন। তাদের ক্ষেত্রে, গর্ভসঞ্চার হয়েছে বোঝার সাথে সাথেই মুখে খাওয়ার ঔষধ বন্ধ করে ইনসুলিন ব্যাবহার শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই নিয়মিত একজন গাইনোকোলজিস্টের ফলোআপে থাকতে হবে। আর গাইনোকোলজিস্ট যদি একা না পারে, তবে এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা ডায়বেটোলজিস্টের কাছে রোগীকে যেতে হবে।

জন্মের পরপরই এবং প্রতি ১ ঘন্টা পর পর বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো উচিৎ। কারন বুকের দুধ বাচ্চার রক্তে গ্লুকোজের সঠিক মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে এবং রক্তে গ্লুকোজ কম থাকার দরুন যেসব সমস্যা হয় তা থেকে বাঁচায়। এছাড়া জন্মের পরবর্তী সময়ে স্তন্যদান করলে মায়ের শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

যদি আগে থেকেই ডায়াবেটিস হয়ে থাকে তাহলে সেই ক্ষেত্রে গর্ভধারণপূর্ব আলাপ করে নিতে হবে। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ডায়াবেটিস আগে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং পরে গর্ভধারণ করতে হবে। যদি ডায়াবেটিসের পরিমাণ ৬-এর নিচে হয় তবে বাচ্চা গ্রহণ করতে পারবেন। যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকে তবে শিশু অস্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে শিশু ও মা উভয়ের ক্ষতি হবে। শিশু স্বাভাবিকের থেকে একটু বড় হয়ে জন্ম নিতে পারে। জন্মের পর শিশুর শরীরে শর্করার পরিমাণ বেশি হতে পারে। তাই এসব সমস্যা রোধে প্রথম থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কিভাবে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা যায়

একবার গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বহু গুন বেরে যায়। যেসব মায়েদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকে তাদের মধ্যে ৫০% পরবর্তী ১০-২০ বছরে ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হয় এবং পরবর্তী গর্ভধারণে আবারও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার অনেক বেশি সম্ভাবনা থাকে। চলুন ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়াতে করণীয়গুলো জেনে নেই-

  • স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করা
  • সঠিক খাবার সঠিক সময়ে সঠিক পরিমানে খাওয়া
  • ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা
  • স্বাভাবিক কর্মতৎপরতা বজায় রাখা
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি ২ বছর পর পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা।

যেকোনো অসুখ মারাত্মক আকার ধারণ করার আগে নানা ধরণের উপসর্গ দেখা দেয়। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই সেসব উপসর্গকে গুরুত্ব সহকারে দেখি না। ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো যায় না। অথচ সামান্য একটু সচেতনতাই পারে যেকোনো অসুখ প্রকট আকার ধারণ করার আগে আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে। একটু সচেতনতা ও সাবধানতা অবলম্বন করে চললে গর্ভকালীন জটিলতা থেকে সহজেই বেঁচে থাকা সম্ভব। পাশপাশি অনাগত সন্তানের জীবনও হয়ে উঠবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর।

সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন। সবার জন্য শুভকামনা।

 

Related posts

Leave a Comment