ওভুলেশন বা ডিম্বোস্ফোটন কি?

ওভুলেশন বা ডিম্বোস্ফোটন কি?

ওভুলেশন বা ডিম্বোস্ফোটন সে সময়টাকে বলে যখন ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বাণু অবমুক্ত হয়ে ফেলপিয়ান টিউবে অবস্থান করে এবং নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।পরবতীতে তা ক্রমশঃ গর্ভাশয়ের এর দিকে অগ্রসর হয়। তার এই যাত্রাপথে যদি কোন শুক্রানু দ্বারা ডিম্বানুটি নিষিক্ত হয় তবে তা গর্ভাশয়ে গিয়ে বসে যাবে। যাকে আমরা নারীর গর্ভধারন বলি।

আর যদি ডিম্বানুটি কোন পুরুষের শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত না হয়, তবে তা বিচূর্ন হয়ে কিছু রক্তকনিকা সহ মাসিক ঋতুচক্রের সময় নির্গত হয়ে যাবে। এসময় জরায়ুর দেয়ালও নিষিক্ত ডিম্বাণু প্রতিস্থাপিত হওয়ার সুবিধার জন্য পুরু হয়ে ওঠে। যদি গর্ভধারণ না ঘটে তবে তাও মাসিক ঋতুচক্রের সময় বেড়িয়ে আসে।

ওভুলেশন বা ডিম্বোস্ফোটনের পাঁচ দিন আগে থেকে ওভুলেশনের দিন পর্যন্ত সময়কে সবচাইতে বেশী উর্বর সময় ধরা হয়ে থাকে যদিও শেষ তিন দিন গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী। ওভুলেশন নির্ণয়ের কোন অব্যর্থ পদ্ধতি নেই। তবে কিছু কিছু পদ্ধতিতে এর সময় সম্পর্কে ধারনা করা যায়। এ সময়ের মধ্যে মিলিত হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

ওভুলেশন বা ডিম্বোস্ফোটন কিভাবে বোঝা যায়?

ওভুলেশন বা ডিম্বোস্ফোটন বোঝার জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়। নীচে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে-

ক্যালেন্ডার মেথড

যদি মাসিক নিয়মিত হয়, অর্থাৎ নির্দিষ্ট দিন পর পর মাসিক হয় তবে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।  ওভুলেশনের সময় বোঝার জন্য আপনার পরবর্তী মাসিকের প্রথম তারিখ থেকে ১৪ দিন বিয়োগ করুন। উদাহরণসরূপ যদি আপনার মাসিক ১ তারিক শুরু হয় এবং পরবর্তী মাসিক শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ২৮ হয় তবে আপনার ওভুলেশন শুর হবে ১৪ বা ১৫ তারিখ। ওভুলেশনের দিন এবং এর আগের ৫ দিন সময়কে সবচাইতে উর্বর সময় ধরা হয়। সে অনুযায়ী আপনার সবচাইতে উর্বর সময় হবে ১০ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত।

এ পদ্ধতিটি ওভুলেশন নির্ণয়ের সবচাইতে সহজ পদ্ধতি। কিন্তু এটি একেবারে নির্ভুল নয়। কারণ অভুলেশন পরবর্তী মাসিকের ঠিক ১৪ দিন আগেই হবে এমনটি নয়। গবেষণায় দেখা গেছে যাদের প্রতি ২৮ দিন অন্তর মাসিক শুরু হয় তাদের ক্ষেত্রে ওভুলেশনের সময় পরবর্তী মাসিক শুরু ৭ থেকে ১৯ দিন আগে ওভুলেশন হতে পারে। মাত্র ১০ ভাগ ক্ষেত্রে মাসিক শুরুর ১৪ দিন আগে অভুলেশন শুরু হয়।

ওভুলেশন প্রেডিক্টর কিট ব্যাবহার করে

ওভুলেশন প্রেডিক্টর কিট ব্যাবহার করেও অভুলেশনের সময় নির্ণয় করা যায়। এর মাধ্যমে হরমোন লেভেল পরীক্ষা করে ওভুলেশনের ধারনা পাওয়া যায়। দুধরনের কিট পাওয়া যায়। একটির মাধ্যমে ইউরিন টেস্ট করা হয় আরেকটির মাধ্যমে স্যালাইভা বা লালা পরীক্ষা করে ওভুলেশন নির্ণয় করা হয়। দুটো পরীক্ষাতেই ও ভুলেশনের আগে রেসাল্ট পসিটিভ দেখাবে।

ইউরিনের পরীক্ষার মাধ্যমে luteinizing hormone (LH) এর লেভেল পরীক্ষা করা হয়। যদি এর মাত্রা বেশী থাকে তার মানে হোল আপনার যে কোন একটি ডিম্বাশয় শীঘ্রই পরিপক্ক ডিম্বাণু অবমুক্ত করবে। আর স্যালাইভা টেস্ট এর মাধ্যমে এস্ট্রোজেন এর মাত্রা পরীক্ষা করা হয় যা ওভুলেশনের আগে বেড়ে যায়।

ওভুলেশনের লক্ষন দেখে

আপনার যোনীপথে যে লালা নি:সরণ হয়, তা মাসিক চক্রের সাথে সাথে বদল হয়। যখন আপনার  ওভুলেশন বা ডিম্বোস্ফোটনের সময় ঘনিয়ে আসে, তখন এই লালা পাতলা এবং পিচ্ছিল হয়ে যায়, অনেকটা ডিমের সাদার মত। এ ছাড়াও ওভুলেশনের সময় আপনার শরীরের তাপমাত্রা ০.৪-০৬ ডিগ্রি ফারেন হাইট বেড়ে যায়। আপনি যদি ৪ থেকে ৫ মাস এই সব লক্ষণসমূহ তীক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করেন এবং আরও আরও যে শারীরিক লক্ষণ হয়, সেই সব যদি দেখেন-যেমন তলপেটে ব্যথা ইত্যাদি, তাহলে আপনি নিজেই মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন আপনার কখন ওভুলেশন হচ্ছে।

তবে মনে রাখতে হবে আপনার শরীরের লক্ষণসমূহও ১০০ ভাগ নির্ভরযোগ্য নয়।

ওভুলেশনের সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • ডিম্বাশয় থেকে নিঃস্বরনের পর প্রতিটি ডিম্বানু ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা জীবিত থাকে।
  • প্রতিবার সাধরনত একটি ডিম্ব নিঃস্বরীত হয়।
  • ডিম্বানুর নিঃস্বরন মানসিক চিন্তা, অসুস্থতা অথবা ঋতুচক্রের দৈর্ঘ্য পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
  • অনেক নারীর ডিম্ব নিঃস্বরেনের সময় যৎসামান্য রক্ত নির্গত হতে পারে।
  • নিঃস্বরনের পর নিষিক্ত ডিম্বানু ৬ থেকে ১২ দিনের মধ্যে গর্ভশয়ে স্থান নেয়।
  • ঋতুচক্রের রক্তক্ষরন ডিম্বানু নিঃস্বরন ব্যতিরিকেও হতে পারে।
  • ঋতুচক্রের রক্তক্ষরন ব্যতিরিকেও ডিম্বানু নিঃস্বরীত হতে পারে।

ওভুলেশন সাইকেল সাধারণত দুভাগে বিভক্ত। follicular phase এবং luteal phase। follicular phase শুরু হয় মাসিকের প্রথম দিন হতে এবং ওভুলেশন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। luteal phaseশুরু হয় ওভুলেশনের দিন হতে এবং শেষ হয় পরবর্তী মাসিক শুরু হলে। luteal phaseসাধারণত ১২-১৬ দিন স্থায়ী হয়। তাই বলা যায় ওভুলেশনের উপরই নির্ভর করে আপনার মাসিকের সাইকেল কতদিন হবে।

মনে করা হয় স্ট্রেসের কারণে মাসিক বিলম্বিত হয়। আসলে ব্যাপারটা ঠিক সেটা নয়। স্ট্রেসের কারণে ওভুলেশন বাধাগ্রস্থ হয় যার ফলে মাসিক পিছিয়ে যায়।  অভুলেশন হয়ে যাওয়ার পর স্ট্রেস গেলে তা মাসিকের দিনক্ষণের উপর কোন প্রভাব ফেলেনা।

 

 

Related posts

Leave a Comment