শিশুর পায়ের আঙ্গুলে ভর দিয়ে হাঁটা কি স্বাভাবিক?

শিশুরা যখন পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটে, তাদের দেখতে তখন খুবই কিউট লাগে আবার মাঝে মাঝে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। তবে শিশু যদি মাঝে মাঝে এমন আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটে তখন কিন্তু সেটা উদ্বিগ্ন হওয়ার মত কোন বিষয় নয় বরং এটাকে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির সাথে মানিয়ে চলার একটা প্রক্রিয়া বলা যেতে পারে।

শিশুর বয়স তিন বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুর পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে চলাটা একদমই স্বাভাবিক এবং এটা শিশুর হাঁটা শেখারই একটা অংশ বিশেষ বলে ধারণা করা হয়। তবে তিন বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও যদি শিশু এভাবে পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে চলে তাহলে শিশুর পায়ের বিভিন্ন পেশী স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি হয়েছে কি না তার শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা  এটা নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা জরুরী।

শিশু পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে কেন হাঁটে এবং এভাবে হাঁটলে আমাদের কি করা উচিৎ? এ সম্পর্কে এই আর্টিকেলে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

পায়ের আঙ্গুলে ভর দিয়ে হাঁটা কি শিশুর জন্য স্বাভাবিক  ব্যাপার?

শিশু যখন তার মায়ের গর্ভে থাকে তখন তারা একটা ছোট্ট বলের আকারে সেখানে অবস্থান করে। তাদের গোড়ালি শক্ত করে ভাঁজ করা থাকে এবং একই সময় তাদের পায়ের আঙ্গুল থাকে নিচের দিকে মুখ করা। আর দীর্ঘ সময়ে এই বন্ধনে আটকে থাকার কারণে জন্মের পরও তাদের পায়ের পাতা সোজা হতে বেশ কিছু সময় লেগে যায়।

১২ থেকে ১৪ মাসের দিকে শিশুরা সাধারণত হাঁটা শুরু করে এবং এই হাঁটা শুরু করার প্রথম দিকে তারা কিছুটা পায়ের আঙুলের উপর ভর করে হাঁটলেও ধীরে ধীরে তারা পুরো পায়ের উপর ভর দিয়ে হাঁটা শুরু করতে পারে। আর ৩ থেকে ৬ মাস নিয়মিত হাঁটার পর ধীরে ধীরে শিশুদের এই পায়ের আঙুলের উপর ভর করে হাঁটার অভ্যাস থেমে যায়। যখন শিশুর বয়স তিন বছর হয়ে যায় তখন তারা একদম স্বাভাবিক ভাবেই পুরো পায়ের উপর ভর করে দাঁড়াতে পারে। তবে তারপরেও তারা হাঁটার সময় অথবা দৌড়ানোর সময় পুরানো অভ্যাস বশত মাঝে মাঝে পায়ের আঙুলের উপর ভর দেয়।

শিশু যদি দুই থেকে তিন বছর বয়স পার হওয়ার পরেও পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটে তাহলে তাদের পায়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে কি না এই নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা সাধারণত অটিস্টিক বাচ্চারা এবং cerebral palsy তে ভোগা শিশুদের মধ্যে এই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। সে যাই হোক, পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে হাঁটা ছাড়াও এই ধরনের রোগের আরো লক্ষণ রয়েছে।

ঠিক কি কারণে শিশুরা পায়ে ভর দিয়ে হাঁটে?

সাধারণত প্রথম দুই তিন বছরের দিকে শিশুর পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে হাঁটলে খুব একটা দুশ্চিন্তার কিছু নেই, কেননা এটা দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। তবে যদি এমনটা চলতে থাকে তাহলে নিম্নোক্ত বেশ কিছু কারণে এমনটা হতে পারেঃ

কারনঃ Short Achilles tendon

বিবরনঃ কোন কোন শিশু পায়ের গোড়ালির achilles tendon নামক একটা অংশ ঠিকমত সোজা করতে পারে না। এবং এ কারণে শিশুরা প্রায়শই পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে হাঁটতে পারে। এই ধরনের সমস্যার কারণে তারা পায়ের উপর পরিপূর্ণ ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

কারনঃ Cerebral Palsy

বিবরনঃ এক ধরনের cerebral palsy শিশুর পা এবং হাঁটার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের রোগের কারণে পায়ের বেশ কিছু পেশী শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং পায়ের পেশী যখন শক্ত হয়ে যায় তখন শিশুর হাঁটতে সমস্যা হয়। প্রিম্যাচিওর শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হতে পারে।  

কারনঃ Perventricular leukoalacia

বিবরণঃ কিছু প্রি ম্যাচিউর বাচ্চার ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। প্রিম্যাচিউর অবস্থায় জন্মের কারণে নার্ভ অপরিণত থাকার ফলে প্রিম্যাচিউর বাচ্চার পেশীতে সমস্যা দেখা যেতে পারে আর ফলস্বরূপ তাদেরকে এভাবে পায়ের আঙুলে ভর করে হাঁটতে দেখা যায়।

কারনঃ spastic hemiplegia

বিবরণঃ cerebral palsy যখন acchiles tendon নামক পেশিকে খুব শক্ত করে টেনে ধরে তখন শিশুদের পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে হাঁটতে হয়। কারণ তখন তারা পায়ের পাতায় ভর দিয়ে হাঁটতে পারে না।

কারনঃ Autism and language delays

বিবরণঃ যখন শিশুর মধ্যে পায়ের পাতার উপর ভর করে হাঁটার সাথে সাথে কথা বলতে ও সামাজিক ভাবে মিশতে সমস্যা হতে দেখা যায়, সেটা অটিজম এর একটা অন্যতম চিহ্ন হিসেবে ধরা হয়।

কারনঃ Idiopathic toe walking

বিবরণঃ  আপনার শিশু যদি খুব স্বাভাবিক ভাবেই তার পায়ের জয়েন্টগুলো নাড়াতে পারে এবং অন্য কোন রোগের লক্ষণও দেখা যায় না তখন এই অবস্থাকে idiopathic toe walking বলা হয়। আদতে এই ধরনের সমস্যার মানে হল, পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে শিশুর এই হাঁটার পিছনে বড় ধরনের কোন রোগ নেই, তবুও শিশু কেন পায়ের আঙুলের উপর ভর করে হাঁটছে এটার কোন ব্যাখ্যা ডাক্তাররা সাধারণত দিতে পারেন না।

Idiopathic Toe Walking এর লক্ষণ 

যে কোন শিশু তিন বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও যদি পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটে তবে তাকে একজন ফিজিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে। যদি শিশুর এই পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটার অন্য কোন কারণ খুঁজে না পাওয়া যায় তবে এটাকে “idiopathic toe walking” দ্বারা আখ্যায়িত করে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এই ধরনের সমস্যায় যে সকল শিশুরা ভুগছে, তাদের মধ্যে নিম্নের লক্ষণগুলো দেখা যায়ঃ

  • দুই পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটা
  • বেশিরভাগ সময়েই পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটে
  • পায়ের দু হাঁটু সোজা রাখতে পারে এবং এবং এক সাথে লাগাতে পারে।
  • পায়ের দুই পাতার উপরই ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারে
  • পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও ইতোপূর্বে এমন পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটতে দেখা গিয়েছে

বাসায় কি ধরনের ব্যায়ামের দ্বারা শিশুকে এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করা যায়?

শিশুর যদি idiopathic toe walking সমস্যায় আক্রান্ত হয়, তাহলে বাসায় প্রতিদিন ব্যায়াম করালে বেশ উপকার পাওয়া যায়। বাসায় এই ধরনের ব্যায়ামের মূল লক্ষ্য হল শিশুর পায়ের পাতার পেশীগুলো স্বাভাবিক সক্ষমতা ফিরিয়া আনা ও পায়ের বিভিন্ন পেশির শক্তি ফিরিয়ে আনা। এই ধরনের ব্যায়াম শিশুকে পায়ের গোড়ালি এবং পাতা উভয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক ভাবে হাঁটতে ও দাঁড়াতে সাহায্য করে।

পায়ের বিভিন্ন ধরনের প্রসারণ অর্থাৎ স্ট্রেচিং পায়ের শক্ত পেশীগুলোকে একটু স্বাভাবিক রাখতে ও গোড়ালির নড়াচড়ার স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। স্ট্রেচ অর্থাৎ নাড়াচাড়া যখন শেষ হবে, এরপর শিশুকে তার পায়ের পেশীর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যায়াম করতে হবে। এই ধরনের নাড়াচাড়া এবং ব্যায়াম যতদিন পর্যন্ত শিশু পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটবে ততদিন পর্যন্ত করে যেতে হবে।

শিশুর বয়স অনুসারে এই ধরনের স্ট্রেচ এবং ব্যায়াম নির্ধারণ করতে হবে যাতে করে আপনার ও আপনার শিশুর জন্য এই পুরো বিষয়টি কষ্টদায়ক না হয়ে উঠে।

নিচের এই চার্টে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে হাঁটা শিশুদের জন্য কিছু ব্যায়াম তুলে ধরা হলঃ

ছয় বছরের নিচের শিশুদের জন্য ব্যায়াম

ব্যায়ামের নামঃ Calf Strech

বিবরনঃ

১। একটা শক্ত জায়গায় শিশুকে প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পড়তে হবে।

২। হাঁটু একদম সোজা করে ধরে রেখে পায়ের পাতা হাঁটুর দিকে টেনে ধরতে হবে। কোন প্রকার ব্যথা ছাড়া শিশু যতটুকু সহ্য করতে পারে গোড়ালি পর্যন্ত পায়ের পাতা ততটুকু বাঁকা করে রাখতে হবে।

৩। পায়ের পাতা ছেড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দিতে হবে এবং পুনরায় আবার করতে হবে। এভাবে প্রতি পা দশবার করে টেনে ধরতে হবে।

ছবিঃ AboutKidsHealth

ব্যায়ামের নামঃ Achilles tendon stretch

ব্যায়ামের বিবরনঃ

১। একটা শক্ত জায়গায় শিশুকে চিত হয়ে শুয়ে পড়তে হবে

২। হালকা ভাবে হাঁটু ভাঁজ করার সাথে সাথে পায়ের পাতাকে হাঁটুর দিকে সোজা করে ধরে রাখতে হবে।

৩। এই অবস্থায় শিশু ব্যথা পাওয়ার আগ পর্যন্ত ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখতে হবে।

৪। পা আবার আগের মত করে রেখে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দিতে হবে এবং প্রত্যেক পা একইভাবে ১০ বার ব্যায়াম করাতে হবে। 

ছবিঃ AboutKidsHealth

ব্যায়ামের নামঃ Sit to stand

ব্যায়ামের বিবরনঃ

১। শিশুকে একটা ছোট চেয়ারে বসাতে হবে যাতে করে তার পা মেঝের সাথে লাগানো থাকে।

২। হাঁটুর নিচে দুই পা ধরে পায়ের পাতা মেঝের সাথে সোজা করে চেপে ধরে রাখতে হবে। এই অবস্থায় শিশুকে দাঁড়া করাতে হবে।

৩। এই ব্যায়ামকে আরেকটু মজার করার জন্য এর সাথে যে কোন ধরনের খেলা যোগ করে দিতে পারেন। যেমন, বাবল ফুলানো, গান গাওয়া এবং চেয়ারের সামনে একটা আয়না এনে রেখে দিতে পারেন।

ছবিঃ AboutKidsHealth

ছয় বছর অতিক্রম করা শিশুদের জন্য ব্যায়াম

ব্যায়ামের নামঃ calf stretch

ব্যায়ামের বিবরনঃ

১। আপনার শিশুকে দেয়ালের দিকে মুখ করিয়ে দাঁড়া করান এবং দেয়াল থেকে তার দূরত্ব দুই ফিট হতে হবে।

২। শিশুর কাঁধ বরাবর উঁচুতে তাকে দেয়ালে হাত রাখতে বলুন।

৩। বাম পায়ের গোড়ালি আগের যায়গায় মেঝেতে সমান করে রেখে ডান পা দেয়ালের দিকে এক কদম বাড়াতে বলুন ।

৪। এভাবে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড স্ট্রেচ করুন এবং তারপর আবার ডান পা সমান রেখে বাম পা সামনে বাড়ান।

৫। এভাবে নুন্যতম দশবার ব্যায়াম করুন।

ছবিঃ AboutKidsHealth

ব্যায়ামের নামঃ Squats

ব্যায়ামের বিবরনঃ

১। দুই পা একটু ফাঁকা করে মেঝেতে সমান করে রেখে সোজা হয়ে আপনার শিশুকে দাঁড়াতে বলুন।

২। বুক একদম সোজা রেখে কোমর এবং হাঁটু ভাঁজে করে তাকে একটু নিচু হতে বলুন।

৩। আবার দাঁড়িয়ে যেতে বলুন আগের যায়গায়। এভাবে দশবার করুন।

ছবিঃ AboutKidsHealth

অন্যান্য ব্যায়ামঃ

১। পায়ের গোড়ালির উপর ভর করে হাঁটা।

২। অসমতল যায়গায় হাঁটা অথবা উপরের দিকে হাঁটা। 

কখন ডাক্তার দেখাবেন

শিশুর বয়স তিন বছর অতিক্রম করার পর নিম্নের লক্ষণগুলো যদি দেখা যায় তাহলে বাবা মা’রা এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেনঃ

  • আগে করতে পারত এমন কিছু পেশির কাজ যদি সে এখন করতে না পারে।
  • বেশিরভাগ সময়েই পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটে
  • পা সমান রেখে হাঁটতে গেলে নিজের শরীরের ওজন সহ্য করতে পারে না।
  • পেশিগুলো শক্ত হয়ে থাকে
  • ছোট ছোট পেশির কাজগুলো করতে পারে না। যেমন জিপার লাগানো অথবা বোতাম আটকানো।
  • শিশু স্বাভাবিক ভাবে হাঁটতে পারে না। হাঁটতে গেলে বার বার পরে যেতে চায় অথবা ভারসাম্য ঠিকমত রাখতে পারে না।

ডাক্তার কি ধরনের পরামর্শ দিতে পারেন?

সবকিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পারেন

শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং পেশিগুলোর স্বাভাবিক ব্যাবহার ও মস্তিষ্কের পরিপক্বতা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারেন। তবে শুরুতেই ঠিক কি কারণে শিশু পায়ের আঙুলের উপর ভর করে হাঁটে এটা বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সে অনুযায়ী ডাক্তার আপনার শিশুকে ফিজিক্যাল থেরাপি দিবেন অথবা অন্যান্য চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দিবেন।  

ফিজিক্যাল থেরাপি

Short Achilles tendon কে বেশ কিছু স্ট্রেচ এবং অন্যান্য ফিজিক্যাল থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করে ঠিক করা যেতে পারে। এছাড়াও ডাক্তার এমন কোন একটা ব্রেস পায়ে পড়াতে বলতে পারেন, যেটার মাধ্যমে শিশু পা সবসময় নব্বই ডিগ্রি এঙ্গেলে সোজা হয়ে থাকবে। এর মানে হল, আপনার শিশুকে সবসময় এই বিশেষ ধরনের ব্রেস পায়ে পড়ে থাকতে হবে। কেবল গোসল এবং অন্য থেরাপি নেয়ার সময় শিশু এটা খুলতে পারবে।

Serial casting

ডাক্তাররা Serial casting নামক এই চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতেও বলতে পারেন। এর মাধ্যমে ডাক্তার বিভিন্ন ধরনের এবং আকারের casts এর মাধ্যমে Tendon নামক পেশিকে স্ট্রেচ করতে পারবেন এবং পায়ের গোড়ালি বিভিন্ন ধরনের নড়াচড়াকে আরো সহজ করে তুলতে পারবেন। থেরাপিস্টদের মতে, স্ট্রেচ করলে পায়ের গোড়ালির উন্নতি হয় এবং স্ট্রেচ করার সময় Cast গোড়ালিকে তার যায়গায় রেখে দেয়। তবে এই ধরনের cast গোসল করার সময় অথবা ব্যায়াম করার সময়েও খুলে রাখা যাবে না।

অপারেশন

যদি অন্যান্য অনেক ধরনের চিকিৎসা করার পরেও শিশুর পায়ের পেশীর কোন ধরনের উন্নতি না হয় তাহলে এই পেশিকে ঠিক করার জন্য অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

অটিজম এবং Cerebral palsy আছে কি না, জানার জন্য নিউরোলোজিকাল এবং বৃদ্ধির পরীক্ষা

শিশুর মস্তিষ্কে অটিজম এবং cerebral palsy এর প্রভাবের উপর চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়। আর এই ধরনের সমস্যার সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের জন্য শিশুর মস্তিষ্কের পরিপক্বতা এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধির পরীক্ষা করতে হয়। শিশুকে এই ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমেই সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ সম্ভব। 

শিশুকে পায়ের আঙুলের উপর ভর করে হাঁটা থেকে কীভাবে বিরত রাখা যায়?

বাসায় নিম্ন বর্ণীত উপায়ে শিশুকে পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটা থেকে বিরত রাখা যাবেঃ

উপায়ঃ Stretching

বর্ননাঃ শিশু সহজে তার পায়ের পাতা এবং গোড়ালির পেশী নাড়াচাড়া নাও করতে পারে। স্ট্রেচ করার মাধ্যমে এই ধরনের শক্ত পেশীর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব। শিশুকে একটা শক্ত যায়গায় শুইয়ে দিয়ে তার গোড়ালি উপরের দিকে টেনে ধরে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড রাখা যেতে পারে। তবে একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, শিশু ব্যথা পেলে কোন অবস্থাতেই এই ধরনের স্ট্রেচ করানো উচিৎ নয়।

উপায়ঃ Weights

বর্ণনাঃ পায়ের গোড়ালিতে ভারী কিছু রেখে দেয়ার মাধ্যমে শিশুকে আঙুলের উপর ভর করে হাঁটা থেকে বিরত রাখা সম্ভব। তবে এই ধরনের ভারী কিছু অবশ্যই থেরাপিস্ট অথবা ডাক্তারের মাধ্যমে শিশুর পায়ে পড়িয়ে দিতে হবে এবং কোন অবস্থাতেই পূর্ণ বয়স্ক মানুষের জন্য তৈরি ভারী ওজন ব্যবহার করা যাবে না। এই ধরনের ব্যবস্থা শিশুকে পায়ে আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটা থেকে বিরত রাখে এবং পা সমান রেখে হাঁটতে সাহায্য করে। এই ধরনের ওজন পায়ে দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটার মাধ্যমে শিশুর পায়ের পেশী বর্ধিত হয় এবং শিশুর পা সমান রেখে হাঁটতে পারে।

উপায়ঃ সঠিক পরিমাপের জুতা

বিবরনঃ শক্ত সোল এবং সাপোর্ট এর মাধ্যমে শিশুকে পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটা থেকে বিরত রাখা যেতে পারে। এটা খেয়াল রাখতে হবে যে পায়ের গোড়ালি এবং উপরের দিকে জুতাতে ভালো সাপোর্ট আছে। আপনি যদি শিশুকে তার জুতা পছন্দ করতে দেন তবে এক্ষেত্রে আপনার শিশু অনেক আনন্দ পাবে। তবে সবসময় শিশুকে এই জুতা পায়ে দিয়ে রাখতে হবে, এমনকি বাসায় সামান্য হাঁটাহাঁটির সময়েও এই ধরনের জুতা পায়ে থাকতে হবে। এই জুতা পায়ে দিয়ে ঘরের মধ্যে নাচানাচি করা অথবা সামনের দিকে হাঁটার কোন ধরনের খেলাও খেলতে পারেন বাসায়। এতে করে শিশু আনন্দের সাথে এই জুতা পরে থাকতে পারবে।

উপায়ঃ Tactile Training

বিবরনঃ এই ধরনের উপায় অবলম্বন করলে পা সমান রেখে হাঁটতে শিশু অনেক মজা পাবে। শিশুকে খালি পায়ে রেখে তার পায়ের পাতা অনুভব করাতে করাতে হাঁটালে তার হাঁটতে ভালো লাগবে। শিশুকে পা সমান রেখে ঘাসের উপর, বালির উপর অথবা একটা ট্রে তে চাল রেখে তার উপর দাঁড় করাতে পারেন। এছাড়াও শিশুকে সমান করে মেঝে শুইয়ে রেখে স্যান্ডপেপার অথবা পাটের কাপড়ে তৈরি কোন বোর্ড শিশুকে দিতে পারেন। শিশুকে শুয়ে শুয়েই পা সমান করে সেই বোর্ডে পা ঘষতে হবে। এতে করে শুধু মাত্র আঙুলের স্পর্শ না নিয়ে পুরা পায়ের পাতার স্পর্শ নিতে পারবে শিশু।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.